মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ঢাকা লিট ফেস্ট: দেশবিদেশের মেলবন্ধন
১২/০৩/২০১৬

ঢাকা লিট ফেস্ট: দেশবিদেশের মেলবন্ধন

-

গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় সদ্য শেষ হলো ঢাকা লিট ফেস্টিভ্যাল। সংক্ষেপে ঢাকা লিট ফেস্ট। ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে চলে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে দেশের প্রবীণ-তরুণ লেখক-পাঠকদেরও মিলন ঘটেছিল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে।

আনিস আহমেদ, সাদাফ সায ও আহসান আকবারের পরিচালনায় লিট ফেস্টের এবারের আয়োজনে দেশে-বিদেশের লেখকের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। তিনদিনে স্থায়ী-অস্থায়ী মোট সাতটি মঞ্চে ১০০টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন ২৩টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন ৩৮টি এবং তৃতীয় দিন ৩৯টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

এ-বছরে আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক-ঔপন্যাসিক ভিএস নাইপল। সাহিত্য পুরস্কারের জগতে সবচেয়ে সম্মানজনক নোবেল প্রাইজ ও ম্যান অফ বুকারসহ বিশ্বের বহু পুরস্কারে ভূষিত তিনি। এছাড়া তিনদিনের এই সাহিত্য উৎসবে দুই শতাধিক শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিকসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

গত ১৭ নভেম্বর সকালে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ভিএস নাইপল সস্ত্রীক ফিতা কেটে ঢাকা লিট ফেস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

প্রথম দিন দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ইমাজিনিং হিস্ট্রি’। একই সময় প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সাহিত্যে সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে পাঁচ লেখক, অনুবাদক, আলোচকের আড্ডা বসে প্রধান মঞ্চে। ‘ওয়ার্ল্ড ফিকশন : হিডেন রিয়ালিটি’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিকোলাস লেজার্ড, আঞ্জুম হাসান, মারসিয়া লুক্স কোয়ালি, রাইল ইলতোখি, এ্যামি সাকভিল্লে। এ সময় লন-এ চলা ‘ইংলিশ পোয়েট্রি রেসিটেশন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন স্টিভেন ফ্লোয়ার, মাকসুদুল হক, কারলস টরনার।

বেলা সোয়া ২টা থেকে সোয়া ৩টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ৩টি পর্ব। প্রধান মঞ্চে ‘আমেরিকা : এক্সেপশন নো মোর’ পর্বে সদ্যঅনুষ্ঠিত আমেরিকার নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন বারখা দত্ত, জেফরি ইয়ুং, বেন চুধাহ, মারসিয়া লুক্স কোয়ালি, কাজী নাবিল আহমেদ ও শ্রীরাম কাকরি। সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার সেশনে অনুষ্ঠিত হয় ৬ পর্ব। এর মধ্যে প্রধান মঞ্চে ছিল মীর মশাররফ হোসেনের (১৮৪৭-১৯১২) ‘বিষাদ সিন্ধু’র ইংরেজি অনুবাদ ‘ওশান অব সরো’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। অনুবাদক ফখরুল আলমের উপস্থিতিতে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

ব্র্যাক স্টেজে অভিনেতা ও টিভি ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকেরের সঙ্গে দুই তানিয়ার গল্প নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আলাপে মেতে ওঠেন কলকাতার লেখিকা অন্তরা গাঙ্গুলি।

প্রধান মঞ্চে প্রথমদিনে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের অন্যতম আয়োজক ও লেখক সাদাফ সায-এর সঙ্গে ভারতের সাংবাদিক ও লেখক বারখা দত্তের বই নিয়ে আলোচনা।

দ্বিতীয় দিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেশনের পর শেষ অধিবেশনে ছিল ভিএস নাইপলের সঙ্গে কথোপকথন। ‘দ্য রাইটার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক সেশনে নোবেলবিজয়ীর সঙ্গে অংশ নেন লিট ফেস্টের আয়োজকদের কবি আহসান কবির। মঞ্চে ছিলেন নাইপলের স্ত্রী নাদিরাও। ৮৪ বছর বয়সী নাইপল এ-পর্যায়ে ফিরে তাকান তার যৌবনের দিকে। থেমে থেমে, কিন্তু দরাজ কণ্ঠে তিনি বলেন তার বিবিসির লন্ডন অফিসের নবাগত ফ্রিল্যান্সার জীবন ও তার গল্প খুঁজে বেড়ানোর গল্প।

লিটফেস্টের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নারীবিষয়ক আলোচনাগুলো। ‘নারী ও নারীত্ব’ পর্বে অংশ নেন নাসিমা আনিস, সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাপড়ি রহমান ও সাদিয়া মাহজাবিন ইমাম। লেডি নাদিরা নাইপল, রোসামুন্ড উরিন, ইভি ওয়াইদ, দেবরথ স্মিথের অংশগ্রহণে মূল মঞ্চে ‘ন্যাস্টি ওমেন’ পর্বে নারীর প্রতি সমাজে অবজ্ঞার দৃষ্টি তুলে ধরা হয়। এর সঞ্চালনা করেন বী রোলাট। একই সময় নারীদের না-বলা গল্প নিয়ে ‘বিনিথ দ্য সারফেস’ অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের সামনের লন স্টেজে। প্রাঞ্জল এ-আড্ডায় উঠে আসে কীভাবে অগোচরে থেকে যাওয়া জীবনের সিংহভাগ কী করে সাহিত্যে উঠে আসে আর কেনইবা আসে না। ‘মঞ্চ যখন আমার’ শীর্ষক পর্বটিও মঞ্চে নারী অভিনেত্রী অংশগ্রহণের বিভিন্ন প্রসঙ্গ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করে।

একাডেমি লনে অভিনেত্রী বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন মঞ্চনাটকের তিন নাট্য অভিনেত্রী সারা যাকের, মিতা হক ও সামিনা লুৎফা। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ডুরহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা পরিচালক ও রিডার নয়নিকা মুখার্জি যুদ্ধকালীন নারীর উপর নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা বলেন ‘বীরাঙ্গনা’ শীর্ষক-পর্বে। সাদাফ সাযের সঞ্চালনায় এ-পর্বে ব্র্যাক স্টেজে আরো অংশ নেন ফিরদৌস আজিম ও শিরীন হক।

দ্বিতীয় দিনের বাংলা পর্বগুলোর মধ্যে ‘সাহিত্য যখন সবার’ পর্বটি প্রাণবন্ত ছিল আলোচক-দর্শকের মিথস্ক্রিয়ায়। মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ-পর্বে আন্দালিব রাশদীর সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইমতিয়ার শামীম।

শেষদিনে এবছরের জেমকন সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেয়া হয় লিটফেস্ট মঞ্চ থেকে। এরপর ব্র্যাক চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ঢাকা লিট ফেস্টের ষষ্ঠ আসরের।

- অনন্যা ডেস্ক