শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / শিশু স্কুলে যেতে চায় না?
০৩/১৬/২০১৬

শিশু স্কুলে যেতে চায় না?

- সামরিন আলম

অনেক শিশুকেই স্কুলভীতি বা স্কুল ফোবিয়ায় ভুগতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো বাবা-মার জন্য কঠিন হয়ে পরে। চলে কান্নাকাটি, জোরাজুরি, অনুরোধ, বকাঝকা। এমন বাচ্চাও রয়েছে যারা স্কুলে যাবার আগে শরীর খারাপের কথা বলে - যেমন মাথাব্যথা, পেটব্যথা। এসকল বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে নিন, স্কুলে যেতে অনীহার সঠিক কারণটি বের করার চেষ্টা করুন যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
সম্ভাব্য কারণসমুহ-

স্কুলভীতির পেছনে থাকতে পারে নানাবিধ কারণ। প্রথমেই মনোযোগ দিন স্কুলে যেতে না চাইবার পেছনের সঠিক কারণটি বের করার দিকে।
 ছোট শিশুদের পক্ষে মা-বাবা ও ঘরের নিরাপদ বলয় থেকে বেরিয়ে একা একা স্কুলে সময় কাটানো কঠিন বৈকি। হঠাৎ নতুন পরিবেশে অপরিচিত শিশুদের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সমস্যা হয়। ফলে সে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে।
 বুলিং; সহপাঠী অথবা অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের টিপ্পনি, মানসিক, শারীরিক আঘাতের শিকার হলে শিশুদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় যা স্কুলের ব্যাপারে ভীতি এবং অনিহা জাগিয়ে তোলে।
 স্কুলে যাওয়ার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে অনেক মেয়ে স্কুলে যেতে চায় না। কিছু লাজুক ছেলেও স্কুলে যেতে ভয় পায়।
 ক্লাসের পড়া বুঝতে যদি কঠিন লাগে, শিক্ষকের সহযোগিতা যদি না পায় অথবা শিক্ষক যদি কড়া হয়, তবে শিশু স্কুলে যেতে ভয় পাবে।
 সরকার আইন করে স্কুলে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এখনও অনেক স্কুলে নানারকম শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে যা শিশুর জন্য আতঙ্কজনক। ফলে তার মাঝে দেখা দেয় স্কুল ভীতি।
 বাবা-মায়ের ঝগড়া, ও অন্যান্য পারিবারিক বিবাদ ইত্যাদি শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবারের অশান্তি থেকে শিশুর মনে দেখা দেয় নিরাপত্তার অভাব, সেই সাথে স্কুলে যেতে অনীহা।
যেসব স্কুলে মাঠ নেই অথবা নেই কোনো শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, শিক্ষাসফর ইত্যাদি- সেই স্কুলে শুধু পড়াশোনার চাপে বাচ্চারা হিমসিম খায়, সেই সাথে ভোগে একঘেয়েমিতে।

করণীয়-
 শিশুকে স্কুলের ব্যাপারে কৌতূহলী করে তুলতে হবে। অল্প অল্প সময়ের জন্য স্কুলে নিয়ে যান। আস্তে আস্তে সময় বাড়িয়ে অভ্যস্ত করুন।
 লাজুক স্বভাবের শিশুরা সাধারণত অনেকের মধ্যে গুটিয়ে থাকে। ওর সঙ্গে তাই নিয়ম করে মুখোমুখি বসুন। নানা বিষয়ে কথা বলুন।
 স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে কখনোই চাপাচাপি করবেন না কিংবা কোনো প্রলোভন দেখাবেন না।
 শিশুকে স্কুলের ব্যাপারে উৎসাহিত করা অথবা স্কুলে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে স্কুল শিক্ষকের সাহায্য নিন।
 অকারণে সন্তানকে বকাঝকা করবেন না। সমবয়সি কারও সাথে তুলনা করবেন না।
 শিশুর শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক সুস্থতার দিকে নজর রাখুন।
 শিশুকে আশ্বস্ত করুন। স্কুল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিন।
 সন্তানের সঙ্গে কথা বলে বুঝুন সে হীনম্মন্যতার শিকার কিনা। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই এ ক্ষেত্রে প্রথম করণীয়।
 প্রয়োজনে স্কুল পরিবর্তন করতে হতে পারে।