মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / খাবার-দাবার / হোটেল আল রাজ্জাক-এ রসনাপূর্তি
১২/০৩/২০১৬

হোটেল আল রাজ্জাক-এ রসনাপূর্তি

-

পুরান ঢাকা মানেই জিভে জল আসা শাহী খাবারের সমারোহ। ঢাকা ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও নানা কাজে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অনেকেই ছুটে আসেন ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার নানা দর্শনীয় স্থান দেখতে; যেমন - লালবাগের কেল্লা, নবাববাড়ি ইত্যাদি। আর একই সঙ্গে অনেকেই পুরান ঢাকার সেরা এবং নামি খাবারগুলো পরখ করতে ভোলেন না। বর্তমানে পুরান ঢাকার রেস্তোরাঁগুলোর নাম বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে বংশালে অবস্থিত হোটেল আল রাজ্জাকের কথা।

১৯৯৩ সালে মরহুম আলহাজ্ব হোসেন মোল্লা একটি বাংলা খাবারের রেস্টুরেন্ট দেয়ার পরিকল্পনা করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল একটি মানসম্মত রেস্টুরেন্ট দেয়ার, যেখানে মানুষ তৃপ্তি নিয়ে খাবে। তার বাবার নামে রেস্টুরেন্টটির নামকরণ করেন 'আল-রাজ্জাক'। রেস্টুরেন্ট শুরু হবার কিছুদিনের মধ্যেই এর সুনাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মানসম্মত খাবার আর আতিথেয়তার জন্য। শুধু এলাকা আর আশপাশের মানুষের মাঝেই নয় এর খ্যাতি ছড়িয়ে পরে ঢাকাসহ সারা দেশে। মানুষ যখন তার রেস্টুরেটন্টের খাবারকে পছন্দ করতে শুরু করে তখন মরহুম আলহাজ্ব হোসেন মোল্লা তার উদ্দেশ্য সফল হওয়াতে খুবই আনন্দ বোধ করতেন। তার কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রথম থেকেই খেতে আসা মানুষদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ আর ভালো আতিথেয়তার নির্দেশ দিতেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তাানেরা এই রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করছেন।

আল রাজ্জাক কেন এত জনপ্রিয় তার কারণ হিসেবে বলা যায় ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার ঢাকাইয়া খাবারের স্বাদ-সুনাম ঢাকার আদি থেকেই। সকাল ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত হোটেল আল রাজ্জাক খোলা থাকে। উপর-নীচসহ ২০০জন বসে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

এখানে সকালের নাস্তা বেশ জনপ্রিয় আর এতে পায়া, খাসির কলিজি, মগজ ভূনা, খাসি/চিকেন খিচুড়ি, সবজি, চিকেন সুপ, পরোটা, নানরুটিসহ থাকে নানা আয়োজন।

দুপুরের মেনুতে থাকে খাসির কাচ্চি, চিকেন বিরিয়ানি, খাসির লেগ রোস্ট, খাসির গ্লাসি, খাসির কোরমা, মোসাল্লাম, খাসির ভূনা ইত্যাদির পাশাপাশি রুই, চিংড়ি, পাবদা, ইলিশ, বোয়াল সহ নানা আইটেম।

বিকেল থেকে রাত অবধি মেনুতে রয়েছে নানারকম শাহী ও লোভনীয় খাবার-দাবার। মোগলাই, বটি কাবাব, চাইনিজ ভেজিটেবল, চিকেন টিক্কা, কোরমা, নানা পদের নান, শাহী পরোটা ইত্যাদি।

বর্তমানে তাদের মেনুতে যোগ হয়েছে ‘চিকেন চাটনী’ নামে নতুন একটি আইটেম যা খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

হোটেল আল রাজ্জাকই পবিত্র রমজানে ঢাকায় রেস্টুরেন্টে এসে সেহেরি খাওয়াকে প্রথম জনপ্রিয় করেছে। সারা ঢাকা ও আশপাশ থেকে সেহেরি খেতে আসা মানুষের ঢল নামে রমজান মাসে। প্রিয় রেস্টুরেন্টে সারা রাত সেহেরির জন্য এমন ভিড় - এ দৃশ্য শুধু আল রাজ্জাকেই দেখা যায়। সেহেরির মেনুতে থাকে চাঁদা মাছ, মুরগির চাটনি, লেগ রোস্ট, মোসাল্লাম, রুই ও চিংড়ি মাছসহ অন্যান্য জনপ্রিয় ডিশগুলো।

আল রাজ্জাক রেস্টুরেন্টটিতে শুরু থেকেই মেরিনেট করা একটি আস্ত খাসি দোকানের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা অনেকেই বিয়ে বা নানা অনুষ্ঠানে পরিবেশনের জন্য নিয়ে যেতেন।

বর্তমানে ইফতারসহ নিয়মিত শতাধিক পদের খাবার পাওয়া যাবে এখানে। এখানকার চা, ফালুদা, জুস্ ও লাচ্ছি সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রতিদিন অনেক বিদেশিও ভিড় করেন ঢাকাইয়া খাবারের স্বাদ নিতে বিশেষ করে চাঁদা মাছ ফ্রাই আর লেগ রোস্ট তাদের বেশ পছন্দের।

ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় হোটেল আল রাজ্জাকের কোথাও কোনো শাখা নেই। রেস্তোরাঁ ব্যবসার পাশাপাশি পরবর্তী সময় ১৯৯৫ সঙ্গে আল রাজ্জাক সুইটমিট ও ১৯৯৬ সঙ্গে আল রাজ্জাক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি চালু করা হয়।

সঠিক ব্যবস্থাপনা, খাবারের মান বজায় রাখা আর ভোক্তার তৃপ্তিকে প্রাধান্য দেয়াটা হতে পারে খাবারের ব্যবসার উন্নতির সোপান। আল রাজ্জাকের জনপ্রিয়তা সেটাই প্রমাণ করেছে।

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে রসনাবিলাসে শত নামের মাঝে সেরা ঠিকানাটি খুঁজবেন সবাই এটাই স্বাভাবিক। আর এই প্রত্যাশা পূরনেই দূর-দূরান্ত থেকে পুরান ঢাকার সেরা খাবারের রেস্তোরাঁগুলোতে ছুটে আসে ভোজনবিলাসীরা।

- ছবি ও লেখা: মোহাম্মদ ওয়াসিম, ক্রিয়েটর ফেইসবুক পেইজঃ Puran Dhakar Khabar, এডমিনঃ আপনার রান্নাঘর।