শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / গর্ভধারণের আগে ও পরে
১২/০১/২০১৬

গর্ভধারণের আগে ও পরে

-

পরিবার আমাদের সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সন্তান ছাড়া পরিবার যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। একটি দম্পতি সংসার শুরু করার পর থেকেই সন্তানের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। কিন্তু সংসারে নতুন অতিথি আসার আগে প্রয়োজন অনেক প্রস্তুতির। সন্তান ধারনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সন্তান জন্ম পর্যন্ত থাকে নানারকম প্ল্যানিং, জিজ্ঞাসা সেই সাথে শঙ্কাও। গর্ভধারনের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাই সাজানো হয়েছে এই লেখা।

- সাধারণত গর্ভধারণের বিষয়টি বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলেই ঠিক করে থাকেন। নারী গৃহিণী হোন কিংবা কর্মজীবী, গর্ভধারণের কথা ভাবার আগে কিছু জরুরি বিষয় জেনে নেয়া ভালো বলে মত প্রকাশ করেন গাইনোকলজিস্টরা। গর্ভধারণের অন্তত ৩ মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিজেকে তৈরি করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের ডাক্তারা।

- গর্ভধারণের আগে থেকেই শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিজের খাদ্যতালিকার দিকে নজর দিন। দেহে ক্ষতিকর টক্সিন জমে থাকে, এমন খাবার থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন যতটা সম্ভব। এছাড়া গর্ভধারণের পর থেকে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিন, ফাইবার ইত্যাদি খাবারের বেশি করে গ্রহণ করুন। সেইসাথে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি রাখুন খাদ্যতালিকায়।

- চর্বিহীন মাংস হিসেবে মুরগি খেতে হবে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য। পাশাপাশি ডাল, ডিম, দুধও খাবেন প্রোটিনের উৎস হিসেবে।

- মাছ প্রোটিনের একটি বড় উৎস। তবে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনটায় কী কী পুষ্টি উপাদান আছে, তা জেনে নিতে হবে। যেমন সামুদ্রিক মাছে আছে আয়োডিন, মাছের তেলে আছে ভিটামিন ডি। এক্ষেত্রে তৈলাক্ত মাছ, সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে সপ্তাহে একবার। এছাড়া শিং মাছ, কই মাছও খুবই উপকারী। নিয়ম করে খেতে হবে, মাছ খেলে মাংস নয় এভাবে। খেয়াল রাখতে হবে প্রোটিনের আধিক্য যেন না হয়।

- ক্যালসিয়াম আছে, এমন খাবার খুবই জরুরি। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হলো দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। এক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ছানাবিহীন ১ গ্লাস দুধ, ১টি ডিম, ১টি কলা, দুপুরের খাবারের পর দই খাওয়া। দুধ ছাড়া ক্যালসিয়ামের অন্যান্য উৎসের মধ্যে কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি, সবুজ শাক-সবজি, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, কচুশাক, ঢেঁড়শ ইত্যাদি অন্যতম।

- দেহে আয়রনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার। যেমনঃ গরুর কলিজা, ডিমের কুসুম, কচুশাক, কাঁচকলা। ফলের মধ্যে ডালিম, কালোজামে প্রচুর আয়রন রয়েছে।

- ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার, ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার খাদ্যতালিকা থেকে যতটা সম্ভব বাদ রাখতে হবে।

- গর্ভধারণের আগে নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা করুন, যতটা সম্ভব। আগে থেকেই কোনো ডায়েটেশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে ওজন কমানোর চেষ্টা করে তারপর গর্ভধারণের কথা ভেবে নিন। আর গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার পর কখনোই ওজন কমানোর কথা চিন্তা করবেন না। প্রতি সপ্তাহে নিজের ওজন পরীক্ষা করবেন।

- গর্ভধারণের কথা ভাবা শুরু করলে প্রথমেই খাদ্যতালিকা থেকে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমিয়ে ফেলুন। এরপর গর্ভবতী হওয়ার পর প্রয়োজন না হলে ক্যাফেইন থেকে দূরে থাকাই ভালো।

- গর্ভধারণের আগেই জেনে নিন মায়ের জন্য কী কী টিকা দেয়া জরুরি। প্রয়োজনীয় টিকা দেয়ার অন্তত ১ মাস পর গর্ভধারণের চেষ্টা করা উচিত। এরপর গর্ভধারণের পর নিয়ম মেনে মায়ের জন্য প্রযোজ্য প্রতিটি টিকা সতর্কতার সঙ্গে দিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

- গর্ভধারণের আগে জেনে নিন আপনার জেনেটিক্স কী বলে। গর্ভপাত অনেকটা জেনেটিক কারণেও ঘটে থাকে। এছাড়া ভালো একজন গাইনোকলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে আরও তথ্য জেনে নেয়া ভালো।

- স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। কোনো রোগ থাকলে তা সারিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন। এমনকি আপনার স্বামীর কোনো অসুখ থাকলেও তার চিকিৎসা করাতে হবে। এরপর ডাক্তার আপনার শারীরিক কিছু পরীক্ষা যেমনঃ ওজন, রক্তচাপ ইত্যাদি পরীক্ষা করবেন। তাই আগে থেকেই পরীক্ষা করা থাকলে প্রসবকালে আপনার ডাক্তার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

- দম্পতি আদৌ সন্তান জন্মদানে সক্ষম কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নেয়া ভালো। মহিলা, পুরুষ উভয়ই এর জন্য দায়ী হতে পারে। এজন্য যথাযথ পরীক্ষা করে সমস্যা ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করান।

- জরায়ু মুখে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য প্যাপ টেস্ট করাতে হবে। এছাড়াও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। কারণ এসব অসুখ মারাত্মক সমস্যার কারণ হয় গর্ভাকালীন ও পরবর্তী সময়ে। তাই গর্ভধারণের আগেই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুন ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। এছাড়া ঐওঠ ও ঐবৎঢ়বং এই টেস্টগুলো করে নেয়া ভালো।

- নেহেরিন আহমেদ