রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬: বিশেষ ধারা বাদ দিতে হবে
১২/০১/২০১৬

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬: বিশেষ ধারা বাদ দিতে হবে

-

সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ অনুমোদিত হয়েছে। মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ই রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এই আইনে। খসড়া এই আইনের বিশেষ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিশেষ ক্ষেত্রে’ ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনায় বিয়ে হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। গোল বেঁধেছে এই বিশেষ ধারা নিয়ে। নারী সংগঠনগুলো এই বিশেষ ধারা বাদ দেয়ার দাবিতে ক্রমেই সোচ্চার হয়ে উঠছে। তারা বিস্মিত, উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ। জোর দাবি উঠছে, এই ধারা পরিবর্তন করার। কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় এই আইন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম এবং সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেছেন, কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ রেখে আবার বিশেষ ক্ষেত্র যুক্ত করায় বাল্যবিবাহ আইনত বৈধতা পেল। এ-প্রসঙ্গটি বাদ দিয়ে আইনটি জাতীয় সংসদের পাস করার জন্যে তারা দাবি জানান। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, বিশেষ বিধান রাখায় আইনটির অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, এটি প্রচলিত আইন, শিশুঅধিকার সনদ ও সিডও সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা হরণের পথ প্রকারান্তরে খোলা রেখে তার নিরাপত্তা বিধান করা কতখানি সম্ভবপর? সেটা তলিয়ে দেখতে হবে। যে-কোনো মূল্যে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সে-কারণে আইনের সামান্য ফাঁকফোকরও থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। আইনটিকে এমনই নিশ্ছিদ্র হতে হবে, যেখানে কোনো ধরনের অজুহাতেই যেন অপ্রাপ্তবয়সী মেয়ের বিয়ে হতে না পারে।

আইনটি এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে। সুতরাং পুনর্বিবেচনার সময় নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উন্মুক্ত মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা ও চিন্তার আদানপ্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। নারীনিগ্রহ, নিপীড়নের কোনো আড়ালবর্তী ব্যবস্থাও যাতে না থাকে, এমন কল্যাণমুখী আইনই আমাদের একান্ত প্রত্যাশিত। চাই নারীর বিকাশ, নিরাপত্তা, অধিকার প্রতিষ্ঠার অনুকূল আইন। তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ। নারীকে পেছনে ফেলে, তাদের নিগৃহীত করে কোনোদিনই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাসমিমা হোসেন