বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিবিধ / আক্রান্ত তবু আত্মবিশ্বাসী
১১/২৮/২০১৬

আক্রান্ত তবু আত্মবিশ্বাসী

-

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভিভা এন ডিভা অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষী সা-কে তাদের নতুন ক্যাম্পেনের মডেল বানিয়েছে।

অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের গল্প এই অঞ্চলে অনেকটা একইরকম। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে ক্রুদ্ধ অনুরাগীটি অ্যাসিড ছুঁড়ে শিক্ষা দিয়ে থাকে। অ্যাসিড আক্রান্ত নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুশ্রী হয়ে থাকেন, যা এই উপমহাদেশের মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত নারীদের জন্যে সম্বল হিসেবেই দেখা হয়। আক্রান্ত নারীরাও তাদের ঝলসে যাওয়া চেহারা নিয়ে অগোচরেই থেকে যান।

কিন্তু ভারতের লক্ষ্মী সা একেবারেই সেরকম নন। সম্প্রতি ভারতীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভিভা এন ডিভা অ্যাসিড আক্রান্ত এই নারীকে তাদের নতুন কালেকশনের মডেল হিসাবে পছন্দ করেছে। নারীদের তৈরি পোশাকের এই ব্র্যান্ডটি তাদের বিশেষ ক্যাম্পেনের নাম দিয়েছে, সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি।

বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে ৩২ বছরের এক লোক অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে ১৫ বছরের কিশোরী লক্ষীর মুখে। ‘প্রথমটায় ঠান্ডা লেগেছিল। তারপর প্রচণ্ড জ্বলতে শুরু করল। তারপর সেই তরলটি আমার চামড়া গলিয়ে দিল।” সেদিনের কথা ভুলবে না লক্ষী।

সেই থেকে লক্ষী সা উন্মুক্ত বাজারে অবারিত অ্যাসিড বিক্রয়ের ঘোরতর বিরোধী হয়ে উঠলো। একই সাথে অ্যাসিড আক্রমণের জন্যে আরও কঠিন শাস্তির আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি।

মডেল হবার ব্যাপারে বলেন, “একটা কাপড়ের ব্র্যান্ড এর প্রতিনিধিত্ব করার এই সুযোগ আমার মতো আরও অনেক নারীর জন্যে উদাহরণ সৃষ্টি করবে যেন তারা চেহারার সমস্যা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী হতে পারে। আর এই ক্যাম্পেন-এর মাধ্যমে আক্রমণকারীদের কাছেও বার্তা পৌঁছাবে যে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দিলেও, রূপ সৌন্দর্য নষ্ট করে দিলেও আমরা সাহস হারাবো না।”

অ্যাসিড সার্ভাইভারস ট্রাস্ট ইণ্টারন্যাশনাল-এর তথ্য অনুযায়ী শুধু ভারতেই প্রতিবছর ১০০০ অ্যাসিড আক্রমণ হয়ে থাকে যার বেশিরভাগ কখনও রিপোর্টই করা হয় না। তা সত্ত্বেও ভারতে অ্যাসিড আক্রমণের জন্যে বিশেষ কোনো আইনই নেই। তবে ২০১৩ সালে লক্ষী সা-র একটি আর্জির প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রাদেশিক সরকারগুলোকে নির্দেশ দেয় যেন অবারিত বিক্রি বন্ধ করে অ্যাসিড কেনাবেচায় নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন করে।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভিভা এন ডিভা লক্ষী সা সম্বন্ধে বলেছে, তাকে মডেল হিসেবে নেবার কারণ হল ফ্যাশন এবং সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ান। সাধারণ মানুষকে বোঝানো সৌন্দর্য শুধু চেহারা বা অঙ্গ সৌষ্ঠবেই নিহিত নয়।

লক্ষী সা বলেন এই বিষয়ে আরো আলোচনা হওয়া উচিত। “সমস্যাটা কিন্তু শুধু আক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই সীমিত থাকে না। বরং সমাজ নিজেই আক্রান্ত নারীদের যেন আরও দাবিয়ে রাখে। সেটা আরেকটি বড় সমস্যা। আমাদের এমনভাবে দেখা হয় যেন আমরা কোনো কাজেরই না, আমাদের যেন জীবনটাই বৃথা।”

ভিভা এন ডিভার সহপ্রতিষ্ঠাতা রুপেশ ঝাওয়ার বলেন অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের ছবি দিয়ে সাজানো একটি ক্যালেন্ডার দেখে তার মাথায় লক্ষী সা-কে মডেল হিসাবে নেবার চিন্তা আসে।

“আমার চোখ দুটো নিষ্কলুষ মসৃণ ত্বকের খুব করে সাজানো গোজানো মডেল দেখেই অভ্যস্ত। তাই এরকম ছবি আমার কাছে একই সাথে অস্বস্তিকর এবং প্রেরণাদায়ক ছিল।”

“আমি যেন এক ঝলকের জন্যে আরেক দৃষ্টিকোন থেকে সৌন্দর্য দেখলাম। ইচ্ছা হলো সেই সৌন্দর্য কোনোভাবে ধারণ করি। আর সেই সৌন্দর্য থেকে, চোখ থেকে ভীতি আর অসহায়তা সরিয়ে তাদের দেব একটি মঞ্চ যেখান থেকে তারা দম্ভ ভরে তাদের সাহস দেখাতে পারে, আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারে।”

- তঈমূর