শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / শীতে সাজান ঘর ...
১১/২৬/২০১৬

শীতে সাজান ঘর ...

-

‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা, আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকব’। কবি ভাস্কর চক্রবর্তী এমনটাই বলেছিলেন। কিন্তু আমরা তো আর কবির মত ঘুমাবো না তাই শীতকালের বিষণ্ণতাকে পেছনে ফেলে শীতকালকে উপভোগের খাতিরে আমরা সাজাতেই পারি ঘর।

গ্রীষ্মের রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় মানুষের খোলামেলা পরিবেশে থাকতে ভালোলাগে, তখন ঘরবাড়িকে উজ্জ্বল আর শীতল করে রাখলে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। শীতকালে অবস্থাটা কিছু ভিন্ন। আজ আমরা শীতে কীভাবে ঘরকে নতুনত্বের সাহায্যে সাজানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।

আসবাবকে শীতের মেজাজ অনুযায়ী গোছান:
শীতকালের ঘর সাজানোর বিশেষ ব্যাপারটি হলো, শীতকে বাইরে রেখে ঘরের ভেতর নতুন পরিবেশ তৈরী করা। এর জন্য যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে উষ্ণ আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে বাইরের পরিবেশের বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত হওয়া। ঘর সাজানোয় অত্যন্ত গাঢ় ও সতেজ রঙের ব্যবহার বাইরের মনোটোনাস আবহাওয়াকে ভুলিয়ে রাখবে। বালিশের কভার থেকে শুরু করে আসবাবপত্র ঢাকার ক্ষেত্রে লিনেনের কাপড় নতুন পরিবর্তন হিশেবে মন্দ নয়। যখন ঋতুকেন্দ্রিক একটা রুচি আপনার আয়ত্বে এসে যাবে তখন আপনি ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে ঘরে নতুন উপাদান যোগ করতে পারবেন। যেমন দেয়ালে ঝিনুক বা নৌকার ছবির মত যেকোন নৌ-সংক্রান্ত ছবিই গরমকালের জন্য বেশি মানানসই। অন্যদিকে শীতের উপাদান হতে পারে কাশ্মিরি শাল, পাইনের ডাল, কম্বল এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে পড়বার উপযোগী শীতকালে সাজানো বই।

শীতের রঙেরা:
শীতকালে রঙ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা নির্ভর করে আপনি কোন থিমে শীতকে দেখতে চান। উষ্ণতার ছোঁয়া আছে এমন রঙই ভালো। যেমন- গাঢ় লাল, কমলা, সোনালী, খয়েরি প্রভৃতি।

আলোকসম্পাত:
গাঢ় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রঙগুলো একটি রুমকে উষ্ণ করে তুলে। গ্রীষ্মের ল্যাম্পগুলো পরিবর্তন করে তুঁত বা কপারের গাঢ় শেড দেয়া যেতে পারে। উপর থেকে নিচে নেমে আসা পর্দাগুলোকে গাঢ় অথচ একই রঙে ঘন করে দেয়া যেতে পারে। হালকা আলো এবং গাঢ় রঙ আপনার ঘরকে উষ্ণ করে তুলবে, আরামদায়ক হয়ে উঠবে পরিবেশ। কারুকাজ করা হালকা আলোর সঞ্চার করে এমন মোটা সুতা দিয়ে ঘরের ইন্টেরিয়রে নাটকীয়তার ছোঁয়া আনতে পারে। দরজার থেকে জানালার পর্দার হুক থেকে এগুলো ঝুলিয়ে রাখলে ঘরে উষ্ণতার একটা বাড়তি রঙ যে পাওয়া যাবে না, কে জানে!

পশমের ওম:
কার্পেট আর কম্বল ঘরের উষ্ণতা আর সৌন্দর্য বাড়ায়। তবে কোন রঙের কার্পেটের উপর আপনি হাঁটছেন আর কোনরঙের কম্বল বুকের উপর বিছিয়ে ঘুমুচ্ছেন তা আপনার রুচির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শীতের রঙগুলোকে (যেমন দেবদারু সবুজ রঙ) গুরুত্ব দিন।

ছোটখাট অথচ কার্যকরী আসবাব:
মোমবাতি হলো শীতের ছোটখাটো উপাদানগুলোর ভেতর অন্যতম চমৎকার বস্তু। মোমের ঘন আলো সমস্ত ঘরকে একটা আভা দেয়। এই আভা পরিবেশকে অত্যন্ত সহনশীল আর আরামদায়ক করে তুলে। বিভিন্ন পুরুত্ব আর উচ্চতার মোমবাতি ঘরে রাখা যেতে পারে।

আরো কিছু টিপস:
- গাঢ় রঙের বিভিন্ন স্তরবিশিষ্ট জামাকাপড় পরিধান করতে পারেন।
- উল ও ভেলভেটের কাপড়/ কম্বল উষ্ণতার কারখানা বলা চলে।
- নিজের বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও কুটিরশিল্প ঋতুভেদে ইন্টেরিয়রকে সাজানোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপাদান।
- নিজের হাতে করা কুরুশের কাজ বা সূচকর্ম আপনার ঘরকে আপনার সৃজনশীলতার সাহায্যে সাজিয়ে তুলতে পারে।

-জারিফ