শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / সুইটস ক্রেভিং - কিভাবে সামলাবেন
১১/২৬/২০১৬

সুইটস ক্রেভিং - কিভাবে সামলাবেন

-

চিনি অথবা মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি অনেকেই তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেন, যা ক্ষেত্রবিশেষে আসক্তির পর্যায়ে চলে যায়। সুইটস ক্রেভিং বা এই ধরনের আসক্তিকে অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক মনে হতে পারে; কিন্তু চিনির প্রতি দুর্বলতার পেছনে বিভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় এবং মানসিক কারণ থাকতে পারে।

সেরোটোনিন এবং ডোপামিন
সেরোটোনিন হচ্ছে এক ধরনের হরমোন, যা ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে থাকে। শরীরে এ-হরমোনের অভাব দেখা দিলে চিনিজাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়।

নিয়মিত ব্যায়াম, সময়মতো ঘুমানো, পর্যাপ্ত বিনোদন এবং সুষম খাদ্যগ্রহণ আপনার শরীরকে জোগান দিতে পারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সেরোটোনিন। এর পাশাপাশি বিস্কুট অথবা চকলেট খাওয়ার পরিবর্তে শুষ্ক ওটমিলের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।

ডোপামিন হরমোন আপনার মস্তিষ্কে ‘আরও চাই’এ-ধরনের অনুভূতি তৈরি করে। শরীরে ডোপামিন বেড়ে গেলে চিনিজাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার; যেমন - চকলেট, জেলি, মিষ্টি, কোমল পানীয় ইত্যাদিতে থাকে পরিশোধিত চিনি, যা মস্তিষ্কে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয়, তাই এসব এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

পানিশূন্যতা
আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না যে, আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা আছে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে বেশ ক্ষুধা অনুভূত হয় যা মিষ্টিজাতীয় খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

এজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোমল পানীয় খাওয়ার পরিবর্তে ফলের রস পান করা শ্রেয়।

ক্লান্তি
যদি ক্লান্ত হন, তাহলে আপনার শরীরে চিনির প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাবে। কারণ চিনি খুব দ্রুত শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন, আপনার ঘুমের সময়সূচি ঠিকঠাক আছে কিনা অথবা আপনি পরিমিত, স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার খাচ্ছেন কিনা। এছাড়াও খিদে লাগলে চকলেট খাওয়ার চাইতে বাদাম, শুকনো ফল এবং চিজ মাখানো গমের তৈরি ক্র্যাকার্স খান। এগুলো আপনার শরীরে শক্তি জোগাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে।

পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়ার অভাব
যখন আপনি সারাদিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার খান না, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দেয় এবং শরীর আপনাআপনিই তা পূরণের চেষ্টা করে। এটা শরীরে জমা চিনির ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি সারাদিনে কিছু সময় পরপরই অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করেন। এছাড়াও, প্রতিবেলার খাবার হতে হবে সুষম। নুডলস, পাস্তা, বার্গার বা কোনো ধরনের ফাস্টফুডের পরিবর্তে ডিম-মাছ-মাংস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি খেতে চেষ্টা করুন।

মানসিক চাপ
মানসিক চাপ রক্তে চিনির পরিমাণ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা শরীরে চিনির প্রতি আসক্তি সৃষ্টির কারণ। এর সমাধান সব ক্ষেত্রে বেশি প্রোএক্টিভ হওয়া এবং মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলা। তা সে হোক মেডিটেশন, এরোমা থেরাপি, শরীরচর্চা অথবা নিজেকে সময় দিয়ে যে কোনোভাবেই। এছাড়াও লোভজাগানিয়া আইসক্রিম খাওয়ার বদলে চেষ্টা করুন এক কাপ গ্রিন-টি পান করতে।


জিনগত
দুর্ভাগ্যবশত বংশগত জিনের প্রভাবেও চিনির প্রতি আসক্তির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এটি নিয়েও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদিন ধরে নিয়মিত বিরতিতে অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আবেগীয় কারণ
কিছু মানুষ আছেন, যারা বিশেষ কোনো অনুভূতির সময় মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। হয়তো আপনি অবচেতন মনেই আপনার দুঃখ, হতাশা, বিরক্তি, একঘেয়েমি কাটানো অথবা আনন্দের মুহূর্তকে উদ্যাপন করতে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন মিষ্টিজাতীয় খাবারের উপর।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য চেষ্টা করুন খাবার আগে কিছু সময় অপেক্ষা করতে। এছাড়া চিন্তাভাবনাগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করুন, অথবা অন্য কোনো কাজে নিমগ্ন হয়ে পড়ুন।

- শারিদ বিন শফিক