রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / নেপালে যাবার এই তো সময়
১১/২৬/২০১৬

নেপালে যাবার এই তো সময়

-

পর্বতের দেশ নেপালের অর্থনীতি অনেকটাই টুরিজমের উপর নির্ভরশীল। তার কারনও আছে। নেপালেই দর্শন করা যায় পৃথিবীর সর্বচ্চ পর্বত - তুষারঢাকা মাউন্ট এভারেস্ট। পর্বত প্রেমিকদের ভ্রমণের জন্য পারফেক্ট গন্তব্য।

কিন্তু কিছুদিন আগের ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে কি নেপাল যাওয়া এখন নিরাপদ? আসলে এখনি সময়। সেই টুরিজম নির্ভর মানুষগুলো শান্তি ও মানসিক শক্তি পাবে পর্যটকদের দেখা পেয়ে। তাছাড়া, ইউরোপ-অ্যামেরিকা তাদের নাগরিকদের নেপাল ভ্রমণের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে ইতোমধ্যেই। ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটি। পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। আর বছরের শেষে, বর্ষার পরে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এর শেষ পর্যন্তই নেপাল ভ্রমনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন?
বিমানে করে রাজধানী কাঠমুন্ডুতে গিয়ে নামবেন। দেশের মাঝখানে রাজধানী হওয়াতে অন্যান্য জায়গায় সহজেই যাওয়া যায়। টুরিজম নির্ভর দেশে টুরিস্ট গাইড এর কোন অভাব নেই। এই পেশাই তাদের অর্থনীতির একটি বড় চলনশক্তি। বহুভাষী গাইডদের সাথে আপনার দেখা হয়ে যাবে। স্প্যানিশ, জার্মান, ইংলিশ, হিন্দি নানা ভাষায় তারা পারদর্শী। সেইসাথে অত্যন্ত বন্ধুবৎসল ও সহায়ক। একজন ভালো গাইড আপনার ভ্রমন অনেক সুন্দর ও আরামদায়ক করে তুলবে।

দেশটির ৭৫টি জেলার মধ্যে ১৪টি ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যস্ত হয়েছে। সেইসব এলাকায় না যাওয়াই উত্তম।গাইডরাই আপনাকে সঠিক এলাকায় নিয়ে যাবে। ভূমিকম্পে কাঠমুন্ডু মোটামুটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। তবে এখন হোটেল-মোটেল সব চালু হয়ে গিয়েছে এবং টুরিস্টদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে।

লেকের পাড়ে স্বর্গীয় পোখারা শহর; গন্ডার, হাতি, বাঘ এবং অন্যান্য প্রাণীর অভয়ারণ্য – চিতোওয়ান ও বারদিয়া; গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান – লুম্বিনি এবং অন্যান্য আরও অনেক দর্শনীয় গন্তব্য এখন টুরিস্টদের জন্য রেডি হয়ে আছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে সামলে।

কাঠমুন্ডুতে যেসব দালানে একটি সবুজ স্টিকার লাগানো দেখবেন, সেটিকে আপনি নিরাপদ মনে করতে পারেন কারন নেপালিজ সরকার সেটিতে ঝুকিমুক্ত চিহ্ন দিয়েছে। প্রায় সব হোটেল-মোটেলেই আপনি এটিএম, ইন্টারনেট, খাওয়া সবকিছুই পাবেন। মাঝেমধ্যে একটু লোডশেডিং হতে পারে। তবে বাংলাদেশের মানুষের লোডশেডিং এ কি ভয়?

বর্ষার মৌসুম শেষে অন্নপূর্ণা ও হিমালয় দুটো রেঞ্জই ট্রেকিং এর জন্য নিরাপদ হয়ে যাবে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্বতপ্রেমিকদের জন্য এইটা সুখবরই বটে। লাংটাং, রলয়ালিং এবং মানাল সুরেঞ্জগুলও টুরিস্টদের জন্য ইতিমধ্যেই নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে।

খাবার-দাবার
খাওয়ার-দাওয়ার কথা বলতে গেলে, নেপালিরা প্রায় সবাই নিরামিষ ভোজী। তবে টুরিস্টদের জন্য তারা অবশ্যই অন্যান্য মেন্যুও তৈরি রাখে। তবে সবখানে নাও পেতে পারেন আপনার পছন্দের আমিষ। কিন্তু ডাল-রুটি, টাটকা সবজি, আর পাহাড়ের পানির চা কিন্তু হেলাফেলা করার মত নয়।

খরচের কথা বলতে গেলে, বাংলাদেশী এক টাকার বিনিময়ে নেপালে আপনি পাবেন প্রায় দেড় রুপী। মানে খরচ দেশের থেকেও কম হবে। টুরিস্ট গাইডের খরচ আর হোটেল ভাড়া ছাড়া আপনার তেমন উল্লেখযোগ্য খরচ কিন্তু নেই।

নেপালে আপনি উপভোগ করতে পারবেন পাহাড়-পর্বত আর হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতি আর ইতিহাসের অপরূপ নিদর্শন। প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের বহু নিদর্শনের দেখা মেলে এই দেশে। প্রাচীন সভ্যতার চাক্ষুষ প্রমান কিংবা পাহাড়ের রোমাঞ্চকর পরিবেশ আপনাকে এক অন্য আমেজ দেবে। এই অপরূপ সংমিশ্রণ আর কোথাও না। তাই নেপাল ভ্রমন অন্তত একবার না করলে জীবনে একটা বড় অভিজ্ঞতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবেন।

- কাজী মাহদী আমিন