শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ‘জেলখানায়’ একদিন
১১/২১/২০১৬

‘জেলখানায়’ একদিন

-

জেলখানা- শব্দটি শুনলে ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলের মাঝেই এক অজানা ভয় সেইসাথে কৌতূহল কাজ করে। কী আছে দেয়ালের ওপারে? কী ঘটে সেখানে, কেমন সেখানকার জীবন - এমন অনেক প্রশ্নের পাহাড় জমে মনের মাঝে। সম্প্রতি জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে কিছুদিনের জন্য ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার উন্মুক্ত করেছিল বাংলাদেশ জেল কর্তৃপক্ষ। তাই জিজ্ঞাসু মনের পিপাসা কিছুটা হলেও মেটানোর সুযোগ মিললো এবার।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান 'জার্নি'র সহযোগিতায় গত ২ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা কারাস্মৃতি জাদুঘরে ‘সংগ্রামী জীবনগাঁথা’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে ছিল বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রায় ১৪৫টি দুর্লভ আলোকচিত্র, যা উন্মুক্ত ছিল সর্বসাধারণের জন্য। আলোকচিত্রগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, কারাগারে থাকার ইতিহাস ও ঘটনাবহুল জীবনী তুলে ধরা হয়। এছাড়াও জাতির জনকের পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবনের নানা মুহূর্ত উঠে এসেছে প্রদর্শনীর আলোকচিত্রে। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের একাধিক ছবি ছাড়াও ছিল বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর নানা বৈঠকের ছবি।

এছাড়া একাধিক কোলাজ ছবিতে হেনরি কিসিঞ্জার, ফিদেল ক্যাস্ত্রো, ইন্দিরা গান্ধী, আলজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বুমেদিন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাকুয়েট তানাকা, সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট পদগর্নি ও সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নানা বৈঠকের দুর্লভ ছবিও প্রদর্শন করা হয়। ছবিগুলো দেখে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার গল্পটাও জানা যাবে। যে-কক্ষটিতে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেটিকেই পরিণত করা হয়েছে এই জাদুঘরে। সেখানে তাঁদের আবক্ষমূর্তির পাশাপাশি ব্যবহার করা জিনিসপত্রও রাখা হয়েছে।

এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য সাধারণ বন্দি থেকে শুরু করে র্দুর্র্ধষ আসামীদের যেসব কক্ষে রাখা হতো, সেগুলো দেখার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চটা উন্মুক্ত না থাকায় সেটা না দেখতে পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে অনেক দর্শনার্থীকে। আর এ সমস্ত সুযোগ মিলেছিল মাত্র ১০০ টাকা ফি-এর বিনিময়ে।

যদিওবা এ সুযোগ ৫ তারিখ পর্যন্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু হঠাৎই অনিবার্য কারণবশত ৪ তারিখ বিকেল থেকে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অবশ্য আবার দু’দিনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এটি। ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের এখানে নিয়মিত ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে কারা কর্তৃপক্ষের।

উল্লেখ্য, দেশের সবচাইতে প্রাচীন; ২২৮ বছরের পুরনো এই কেন্দ্রীয় কারাগারটি গত জুলাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে।

-রিজবানুল হাসান