বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / রূপচর্চায় এসেনশিয়াল অয়েল
১১/১৬/২০১৬

রূপচর্চায় এসেনশিয়াল অয়েল

-

নারিকেল, জলপাই, তিল, গ্রিন টি-সহ আরও বিভিন্ন উপাদান থেকে তেল তৈরি করা হয় যা সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার বা লোশনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এই তেলগুলো। তাছাড়া রুক্ষ চুল ঝলমলে করতে, চুল পড়া কমাতে, পা ফাঁটা উপশম, এমনকি তারুণ্য ধরে রাখতেও জুড়ি নেই প্রাকৃতিক তেলের। নিজের যত্নে ও রূপ রুটিনে, এসেনশিয়াল ওয়েলের ব্যাবহার আপনাকে দেবে অনেক নামীদামী ব্র্যান্ডের চেয়ে ভালো ফল।

নারিকেল তেল
চুল ও মাথার ত্বকের যত্নে নারিকেল তেল সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হলেও ত্বকের কোমলতা ধরে রাখতেও বেশ উপযোগী এটি। এই তেল চুলে প্রোটিনের ঘাটতি পুষিয়ে পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। তাছাড়া শ্যাম্পু করার আগে চুলে নারিকেল তেল মালিশ করা হলে চুলের এলোমেলোভাব দূর করে ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। একইভাবে নিয়মিত বিশুদ্ধ নারিকেল তেল ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কভাব দূর হয় ও ত্বক কোমল হয়।

অলিভ বা জলপাই তেল
কনুই ও হাটুর শুষ্ক ত্বক এমনকি পা ফাঁটা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে অলিভ অয়েল। এই তেলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা নমনীয়তা বজায় রেখে ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে চামড়ার তারুণ্য বজায় থাকে দীর্ঘদিন। তাছাড়া চুল ও মাথার ত্বকে মালিশের ফলে চুল মজবুত হয় ও আগা ফাঁটার সমস্যাও কমে।

তিলের তেল
ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে তিলের তেল। আরও আছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যা ফাঙ্গাল ইনফ্লেমেশন বা জ্বলুনি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এটি ত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ায়। এতে ত্বক উজ্জ্বল হয়। পাশাপাশি এই তেল সেবনে শরীরে টক্সিন দূর হয়।

কাঠবাদামের তেল
রূপচর্চায় এই তেলের ব্যবহার বেশ পুরানো। ভিটামিন সমৃদ্ধ কাঠবাদামের তেল চোখের চারপাশের ত্বকের যতেœ বেশ উপকারী। চোখের কালি দূর করতে এবং রোদে পোড়া ত্বক সারিয়ে তুলতে এই তেল কার্যকর্। তাছাড়া নখ শক্ত করতে ও কিউটিকল ভালো রাখতে আমন্ড অয়েল মালিশ করা যায়। এই তেলে রয়েছে পটাশিয়াম ও জিঙ্ক যা নখ শক্ত করতে সাহায্য করে। তবে কারও অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে এই তেল এড়িয়ে চলা ভালো।

টি ট্রি অয়েল
ব্রণ, র্যা শ বা যেকোনো ত্বকের সমস্যায় দারুণ উপকারী টি ট্রি অয়েল। তাছাড়া শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিলে উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চিকেন পক্স বা গুঁটি বসন্তের দাগ থেকে রেহাই পেতেও সাহায্য করে এই তেল। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি তেল মিশিয়ে নিলে ত্বকের কোমলতা বজায় থাকে। ব্রণের সমস্যা বেশি হলে প্রতি রাতে আক্রান্ত ত্বকে সামান্য টি ট্রি অয়েল মাখিয়ে ঘুমালে উপকার পাওয়া যাবে। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ত্বকের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন রোধে সাহায্য করে। এছাড়া তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও টি ট্রি অয়েল বেশ উপকারী।

সঠিকভাবে সঠিক তেলগুলোর ব্যবহার ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের তারুন্য ধরে রাখতেও জুড়ি নেই প্রাকৃতিক তেলের।

- ইরা