বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / ‘ফ্রেনেমি’ – বন্ধু, কিন্তু বন্ধু নয়
১১/১৪/২০১৬

‘ফ্রেনেমি’ – বন্ধু, কিন্তু বন্ধু নয়

-

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের পক্ষে সমাজে একা বসবাস করা সম্ভব নয়। নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য, বিপদে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সামগ্রিকভবে সহচর্য লাভের জন্য একজন বন্ধুর একান্ত প্রয়োজন। মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একজন ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। কারণ,একজন প্রকৃত বন্ধু জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অংশীদার হয়।

একজন ভালো বন্ধু পাওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝে কোনো ধরনের স্বার্থ কিংবা প্রাপ্তির চিন্তা মাথায় না রাখা। মনে রাখবেন স্বার্থের প্রয়োজনে করা বন্ধুত্ব আপনাকে একটা সময়ে লাভবান করলেও চূড়ান্ত বিচারে আপনাকে করে তুলতে পারে নিঃসঙ্গ। এ কারণে কোনো ধরনের প্রাপ্তির চিন্তা থেকে নয়, বরং নিজের ভালোলাগা আর ভালোবাসাগুলোকে ভাগাভাগি করে নেয়াই হোক বন্ধুত্বের প্রথম দাবি। দ্বিতীয়ত, বন্ধুত্বের মাঝে যেন ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য সহজেই স্থান করে নিতে না পারে সেজন্য নতুন করে বন্ধু হওয়ার মানসিকতাটুকু বোঝাও কম-বেশি জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু যে সমমানসিকতাসম্পন্ন মানুষেরাই আপনার বন্ধু হবেন তেমনটা কিন্তু নয়, বরং নতুন বন্ধুর মানসিকতা যেমনই হোক না কেন তার প্রতি আপনার সহনশীলতা এবং আপনার মতের প্রতি তার সমর্থনই পারে একটা নির্ভেজাল বন্ধুত্ব গড়ে দিতে। নতুন কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়বার মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার মনের কথা কিংবা কাজের পরিবেশের অনেক কথা ভাগাভাগি করে নিতে চান, তেমনি আপনার বন্ধুটির মনেও একই রকম আকাঙ্ক্ষা থাকাটা স্বাভাবিক। কাজেই নিজের কথা বলার পাশাপাশি বন্ধুর কথা শুনতে চাইবার মানসিকতাটাও থাকা জরুরি। আর এ প্রেক্ষাপটে খুব বেশি মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক কোনো মানুষের সাথে বন্ধুত্বে জড়ানোর আগে অবশ্যই তার সাথে আপনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন সে বিষয়টুকু ভেবে দেখা দরকার। বন্ধুত্বের যেমন সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা হয় না, তেমনি বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধরাবাঁধা কোনো নিয়মের কথা বলা যায় না। তবে বন্ধুত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান যেন মুখ্য হয়ে না দাঁড়ায় সেটি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে।

বন্ধু থেকে শত্রুদের আলাদা করতে পারাও কিন্তু অনেক জরুরি। আবার বন্ধু, কিন্তু কথাবার্তায় ইনসেনসিটিভ, এমনও আছে যাদের অনেক কথায় নিজেরই খারাপ লাগে। হয়ত হঠাৎ করে এমন ভাবে খোটা মেরে কথা বললো, কিম্বা এক বন্ধুর সাথে কানাকানি করে, আর এক বন্ধুর মন খারাপ করিয়ে দিল।

তাই আসুন, জেনে নেয়া যাক কিভাবে এই ‘ফ্রেনেমি’ চিনে নেয়া ও তাদের এড়িয়ে চলার উপায়

স্বার্থপর মানুষের সাথে বেশি সখ্যতা করা উচিত নয়। এমনকি না জেনে সখ্যতা করে ফেললেও ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়া উচিত। কারণ স্বার্থপর মানুষেরা সখ্যতার সুযোগ নিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করে থাকে, সরলতার সুযোগ নিয়ে অন্যকে ব্যবহার করে থাকে নিজের স্বার্থে। তাদের কাছে কারো আবেগ অনুভূতি বা কষ্টের কোন মূল্য নেই। নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়ে গেলেই এ ধরণের মানুষ খুব কৌশলে সরে পড়ে। আপনি যতই তাকে ভালো জানুন বা ভালোবাসুন না কেন, সে কখনোই আপনার দিকে আর ফিরে তাকাবে না। তাই ভদ্রতার খাতিরেও এই ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখা উচিত না। কারণ এতে নিজেরই অনেক বড় কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

এইসব বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী হতে হয়। নিজের ব্যক্তিগত বিষয় গুলো এই ধরনের বন্ধুদের কাছে গোপন রাখাই ভালো। নিজের গোপন কথা বা দুর্বল স্থান গুলো কখনো তাঁকে জানতে দেয়া উচিত নয়। কেননা পরবর্তীতে সেগুলোকে অস্ত্র বানিয়েই সে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করবে। সর্বদা সতর্ক থাকুন যেন আপনাকে ব্যবহার করে সেই ব্যক্তি নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারে, এবং কোনভাবেই যেন তার কারণে আপনার কোন ক্ষতি না হয়।

‘না’ বলতে শিখুন। আপনি যখন বুঝতে পারবেন যে আপনাকে কেউ তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে চাইছে, তখন সরাসরি ‘না’ করে দিন। সরাসরি না করতে পারলেও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিন যে আপনি আগ্রহী নন। যত শক্তভাবে না বলতে পারবেন, তত আপনার দৃঢ়তা প্রকাশ পাবে। এভাবে দুয়েকবার ‘না’ বলে দিলে এ ধরণের ফ্রেনেমিরা আপনার থেকে দূরে থাকবে।

-ফাবিহা ফারজিন