মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / ১১ শিল্পীর রং-তুলিতে মিসরীয় সভ্যতা
১১/০৩/২০১৬

১১ শিল্পীর রং-তুলিতে মিসরীয় সভ্যতা

- অনন্যা ডেস্ক

কাগজের আদিরূপ ছিল প্রাচীন মিসরের ‘প্যাপিরাস’। ‘পেপার’ শব্দটি আসে এখান থেকে। সমকালীন এগারো শিল্পী প্যাপিরাসের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন মিসরীয় সভ্যতার নানা গল্প। তাদের সেই আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে রাজধানীর গ্যালারি টুয়েন্টি ওয়ানে শেষ হলো চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ‘প্যাপিরাস’। প্রদর্শনীটি গত ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।

২০১৫ সালের ২৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি মিসরের কায়রোর আহমেদ শওকি জাদুঘরে একটি চিত্রপ্রদর্শনী হয়। সেখানে ১১জন শিল্পী অংশ নেন। সেই মিসর ভ্রমণে শিল্পীরা জাহাজে করে মিসরের নীল নদে ঘুরেছিলেন। মাঝে মাঝে ডাঙায় নেমে দেখেছিলেন মিসরীয় সভ্যতা ও সমসাময়িক শিল্পকলার নিদর্শন। চার দিন, পাঁচ রাতের অদ্ভুত সেই ভ্রমণ শেষে শিল্পীরা ঠিক করেন, এ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে করবেন আরেকটি প্রদর্শনী। সেটিই এবার আয়োজিত হলো। প্যাপিরাস কাগজে শিল্পীরা আঁকলেন মিসরের নারী, নীল নদ, গ্রাম, মন্দিরের ছবি, মিসরে যাওয়া পর্যটকের ডায়েরির পাতা।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিসরীয় দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আহমেদ জাকি বলেন, “বাংলাদেশের শিল্পীরা কত নিপুণ দক্ষতায় মিসরীয় সভ্যতার গল্পটি বলেছেন। এখানে এসে মনে হচ্ছে, নিজের দেশেই এসে পড়লাম।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, “প্যাপিরাস ক্যানভাসে নতুন ধারণার সঙ্গে শিল্পীদের নতুন উদ্ভাবন, স্বকীয়তাবোধের সঙ্গে পরিচিত হবেন দর্শক। আমি মনে করি, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে শিল্পকলার ক্ষেত্রে এ-এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।”

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া এগারো শিল্পী হলেন: অধ্যাপক মাহমুদুল হক, অধ্যাপক নাসরিন বেগম, অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, রেজাউন নবী, আফরোজা জামিল কঙ্কা, সোহানা শাহরীন, শামীম সুব্রানা, মাহবুবুল ইসলাম বাবু, বিপাশা হায়াৎ, মাকসুদা ইকবাল নিপা, গোলাম ফারুক স্বপন।

অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতের ছবিগুলোর শিরোনাম ‘মেমরি অব স্পিরিচুয়াল’,‘ফ্রম দ্য ডায়েরি অফ ট্রাভেলার টু ইজিপ্ট-১ ও ২’। প্যাপিরাসের ক্যানভাসে অ্যাক্রেলিক ছাড়াও গোল্ড লিফ, চা পাতা-কফির মিশ্রণে এক ধরনের নিরীক্ষা করেছেন শিল্পী।

আফরোজা জামিল কঙ্কার ছবি ‘বাল্যবিবাহ’, ‘নুবিয়ান ভিলেইজ অ্যান্ড আসওয়ান ইজিপ্ট’ এ উঠে এসেছে মিসরের সামাজিক ব্যবস্থার গল্প।

শামীম সুব্রানার ‘বুড়িগঙ্গা’ ও ‘রিভার নীল’ ছবি দুটিতে ঢাকা ও মিসরের নদী তীরবর্তী জীবনের গল্প উঠে এসেছে।

‘ফ্রিডম’, ‘আর্নিং অফ লিভিং’, ‘আলেক্সান্ডার টু তুতানখানাম’ ছবিগুলোতে মিসরের রাজনৈতিক ইতিহাসের গল্প বলেছেন মাহবুবুল ইসলাম।

অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা এঁকেছেন ‘নিলা’ নামে নীল নদের নৈসর্গিক ছবি।

সোহানা শাহরিনের ছবির শিরোনাম ‘দাওয়াত আবু সিমেল’, ‘ইল্যুশন অফ পাই’।

গোলাম ফারুক স্বপন এঁকেছেন ‘ব্রেইন-২ ও ৩’।

নাসরিন বেগমের ‘ইজিপ্সিয়ান লেডি’ শিরোনামের ছবিতে মূর্ত হয়েছে মিসরীয় নারী সমাজের চিত্র।