রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিবিধ / গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ
১১/০২/২০১৬

গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ

-

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেগত ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী সিনেট ভবনে ‘জেন্ডার সেনসেটিভ গাইডলাইন ফর উইমেন ইন মিডিয়া ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় গণমাধ্যমে তৃণমূল থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেশি সংখ্যক নারী অন্তর্ভুক্তকরণের সুপারিশ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইউনেস্কো এবং সাউথ এশিয়া উইমেনস নেটওয়ার্ক (সোয়ান)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় গণমাধ্যমের শীর্ষ পর্যায়ে নারীর অনুপস্থিতিকে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে তা নিরসনের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রস্তুতের উপর জোর দেয়া হয়। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরির উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সভায় কিছু খসড়া নীতিমালার উপর নিজেদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও নারী নেতৃবৃন্দ।

দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পাক্ষিক ম্যাগাজিন ‘অনন্যা’-র সম্পাদক-প্রকাশক তাসমিমা হোসেন বলেন, এখনো অনেক সংবাদমাধ্যমে নারী সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক মহলের খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না, যা একেবারে বন্ধ হওয়া দরকার।

গণমাধ্যমসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীর অন্তর্ভুক্তি যে খুব জরুরি এ-বিষয়টি নিয়ে তরুণদের পাশাপাশি সমাজের প্রবীণদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন বলেন, আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে অনেক নারী কাজ করছে বলে মনে হলেও বিগত একযুগে নারী সাংবাদিকের উপস্থিতি আদতে কমেছে এবং শীর্ষ পর্যায়ে তা একেবারে শূন্যের কোঠায় এসে পড়েছে। এই সমস্যার আশু সমাধানের জন্য নারীদের পাশাপাশি পুরুষ সহকর্মীদেরও এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

প্রাথমিক বক্তব্য শেষে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে আলোচনাশেষে শীর্ষ পর্যায়ে নীতিমালায় নারী সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তি, নারী কর্মজীবীদের জন্য ডোর টু ডোর ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস, নির্যাতনের শিকার নারীর ছবি প্রকাশে সচেতনতা, অনলাইন সংবাদের মান পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ কমিটি, বিজ্ঞাপন কিংবা চলচিত্রে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ প্রদান করেন উপস্থিত সাংবাদিক ও নারী নেতৃবৃন্দ।

-শাহরিয়ার মাহি