বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / টাঙ্গুয়ার হাওর: জলের কাছে, প্রকৃতির মাঝে
১০/২৭/২০১৬

টাঙ্গুয়ার হাওর: জলের কাছে, প্রকৃতির মাঝে

-

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশে জলাশয়ের অভাব নেই। ঢাকার কিনারে আঁধার কালো বুড়িগঙ্গা যেমন একটি জলাশয়, তেমনি পদ্মাও আর একটি। তবে পার্থক্যটা কি জানেন? শহর থেকে যত দূরে যাবেন প্রকৃতি আপনার কাছে তার আদিম, অপরূপ শোভা তুলে ধরবে – দ্বিগুণ রূপে। উপভোগ করতে পারবেন সেই প্রকৃতি যা দেখার জন্য আপনার মন প্রায় সময়ই হাহুতাশ করে। এমনি এক অপরূপ প্রকৃতির উপহার – টাঙ্গুয়ার হাওর।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলায় অবস্থিত এই হাওরের আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার। বর্ষা কালে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত চোখের সীমানায় আসবে না – এতই তার বিস্তৃতি। শীত কালে অবশ্য অসংখ্য ছোট ছোট বিলে পরিনত হয় এই সুবিশাল জলাসয়। তবে ঘুরে দেখার আসল সময় ভরা বর্ষা।

স্থানীয় ভাষায় টাঙ্গুয়াকে বলা হয় - নয়কুড়িকান্দা অথবা ছয়কুড়ি বিল। বিশ্বের এক হাজার ৩১টি রামসার সাইটের মধ্যে টাঙ্গুয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। এ হাওর শুধু একটি মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়, এটি একটি মাদার ফিশারী। এর একদিকে নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশে জলাশয়ের অভাব নেই। ঢাকার কিনারে আঁধার কালো বুড়িগঙ্গা যেমন একটি জলাশয়, তেমনি পদ্মাও আর একটি। তবে পার্থক্যটা কি জানেন? শহর থেকে যত দূরে যাবেন প্রকৃতি আপনার কাছে তার আদিম, অপরূপ শোভা তুলে ধরবে – দ্বিগুণ রূপে। উপভোগ করতে পারবেন সেই প্রকৃতি যা দেখার জন্য আপনার মন প্রায় সময়ই হাহুতাশ করে। এমনি এক অপরূপ প্রকৃতির উপহার – টাঙ্গুয়ার হাওর।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলায় অবস্থিত এই হাওরের আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার। বর্ষা কালে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত চোখের সীমানায় আসবে না – এতই তার বিস্তৃতি। শীত কালে অবশ্য অসংখ্য ছোট ছোট বিলে পরিনত হয় এই সুবিশাল জলাসয়। তবে ঘুরে দেখার আসল সময় ভরা বর্ষা।

স্থানীয় ভাষায় টাঙ্গুয়াকে বলা হয় - নয়কুড়িকান্দা অথবা ছয়কুড়ি বিল। বিশ্বের এক হাজার ৩১টি রামসার সাইটের মধ্যে টাঙ্গুয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। এ হাওর শুধু একটি মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়, এটি একটি মাদার ফিশারী।

এর একদিকে ইন্ডিয়ার মেঘালয় পাহাড়, বাকি তিনদিকে দুইটি উপজেলা তাহিরপুর ও র্ধমপাশা। ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম। ৫১টি বিল আর ৮৮টি গ্রাম বেষ্টিত টাঙ্গুয়ার হাওরের আয়তন বর্ষায় ও হেমন্তে বাড়ে-কমে।

টাঙ্গুয়ার হাওর প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ। সারিসারি হিজল ও করচ বন এই হাওরকে করে তুলেছে অপরূপ। এছাড়াও নলখাগড়া, দুধিলতা, নীলশাপলা, পানিফল, শোলা, হেলেঞ্চা, শতমূলি, শীতলপাটি, স্বর্ণলতা, বনতুলসী ইত্যাদি সহ দু’শ প্রজাতিরও বেশী গাছ গাছালী রয়েছে এখানে।

বর্ষা মৌসুমে গোটা টাঙ্গুয়ার পরিণত হয় ২০-২৫ ফুট জলের এক স্বচ্ছ অ্যাকুরিয়ামে। মেঘ অনেক নিচ দিয়ে উড়ে যায়, দূর থেকে দেখে মনে হবে পানিতে বুঝি মেঘ এসে জমে আছে। সীমাহীন এই হাওরে বর্ষা কালে চলে বিশাল বিশাল ঢেউয়ের খেলা।পানি এতই পরিষ্কার যে ২০ ফুট নিচের ঘাস, গাছ, লতাগুল্ম খালি চোখে দেখা যায়। পুরো হাওর গাছের সীমানা দিয়ে ঘেরা। সেই গাছগুলোও মাথাটুকু বাদে ডুবে আছে নীলের সমুদ্রে।

হাওর ছাড়াও মেঘালয়ের প্রাকৃতিক দৃশ্যও দেখার মত। মেঘালয় অর্থাৎ মেঘের বাড়ি নামটি আসলেই যথার্থ। মুহুর্তে মুহুর্তে পরিবর্তন হয় তার রূপ।কখনো কালো মেঘে পাহাড় ঢাকা তুমুল বৃষ্টি, একটু পর আবার সব পরিষ্কার। হাওরে এসে এক পাশে যোগ দিয়েছে জাদুকাটা নদী। জাদুকাটা নদীর বালুর সৈকত যেন প্রকৃতির আরেক মোহনীয় রূপ। চিকচিক হলুদ বালুর সাথে পরিষ্কার নীলচে পানির মিলন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে। সব কিন্তু নৌকায় করেই ঘুরতে হবে।

এক কালে, এই হাওর থেকে বৃহৎ আকারের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তলন করা হয়েছে। যার ফলে প্রাকৃতিক চুনা পাথর কিংবা যিক্রন বালুর পাহাড় অনেকটাই বিলুপ্ত। তবে বর্তমানে এই হাওরের সম্পদ সুরক্ষিত। প্লাস্টিক এর প্যাকেট বা আবর্জনা ফেলে এই অপুরূপ প্রকৃতির উপহারকে নষ্ট করবেন না যেন কেউ।

টাঙ্গুয়ার হাওর ইন্ডিয়ান বর্ডারের পাশে তাই যাত্রাপথটা একটু সুদীর্ঘ। কিভাবে যাবেন, আর কি করবেন এবার বলে দেই।

কিভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেনঃ
ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ – শ্যামলী পরিবহনে ৫৫০ টাকা ভাড়া। শ্যামলী আর ইউনিক ছাড়া অন্য কোনো বাস যায় না। সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাহেব বাজার ঘাট পর্যন্ত রিকশায়। সেখান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করবেন, প্রতিদিনের জন্য ইঞ্জিন বোটে খরচ হয় ২,৫০০/- থেকে ৩,০০০/- টাকা, পক্ষান্তরে স্পীডবোটে খরচ হয় ৭,৫০০/- থেকে ৮,৫০০/- টাকা।

হাওরে যেতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। দু-তিনদিনের জন্য নৌকা ভাড়া করলে প্রয়োজনীয় বাজার সদাই করে নেবেন। সঙ্গে তেমন কিছুই নিতে হবেনা, তবে লাইফ জ্যাকেট থাকলে নিয়ে নিতে পারেন। হাওর ঘুরে রাতটা তাহিরপুর থানার ডাকবাংলোতে থাকতে পারেন। এছাড়াও সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৩ কিঃমিঃ উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজেও থাকা যায়।

তাহিরপুরে রাতে থেকে পরদিন ট্যাকের হাট, বারিক্কা টিলাসহ জাদুকাটা নদী ঘুরে সুনামগঞ্জ চলে আসতে পারেন। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে বেলা আড়াইটায় একটা, এরপর রাত ১০টায় অরেকটা গাড়ি ছাড়ে।

তবে সুনামগঞ্জ থেকে সড়কপথে তাহেরপুর গিয়ে সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করেও টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়া যায়। তবে শীতকালেও শুষ্ক মৌসুমে সাহেববাড়ি খেয়াঘাট পার হয়ে অপর পার থেকে প্রথমে মোটরসাইকেলযোগে ২ ঘন্টায় শ্রীপুর বাজার/ডাম্পের বাজার যেতে হয়। সেখান থেকে ভাড়াটে নৌকায় টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে পারেন।

ভরা মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, তাই এর সঠিক রূপ উপভোগ করতে একবার ঘুরেই আসুন না।

লেখাঃ কাজী মাহদী আমিন
ছবিঃ হাসান বিপুল