রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিবিধ / কিশোরীদের জন্য মেলিন্ডা গেটসের উদ্যোগ
১০/২৬/২০১৬

কিশোরীদের জন্য মেলিন্ডা গেটসের উদ্যোগ

-

মাইক্রোসফট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের ছোট মেয়ে ফিবি ১৩ বছরে পা দিয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। নিজের মেয়ের কৈশোরে পা দেয়া উপলক্ষ্যে সারা পৃথিবীর সব কিশোরীদের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়ে ব্যতিক্রমী পন্থায় তার জন্মদিন উদযাপন করলেন ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেলিন্ডা।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগী সংগঠন গুলোকে আর্থিক সহায়তা করে থাকে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। সেই সূত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের কিশোর-কিশোরীদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পারেন মেলিন্ডা।

নিজের মেয়ে টিনএজ বয়সে পা দিলে মেলিন্ডা অনুভব করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন কিশোর বা কিশোরী যত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জীবনযাপন করে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কিশোর-কিশোরীরা, বিশেষ করে কিশোরীরা তা চিন্তা করারও সুযোগ পায় না। যুক্তরাষ্ট্রে টিনএজাররা বা কিশোরীরা যেভাবে নিজের জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়ার অধিকার পেয়ে থাকে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তা অকল্পনীয়।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মেলিণ্ডা বলেন, “সারা পৃথিবীতেই নারী ও কিশোরীরা সমাজে পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করার পথে অনেক অনতিক্রম্য বাধার মুখোমুখি হয় এবং কৈশোর শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এই লিঙ্গীয় বিভেদ দেখা দিতে শুরু করে।“

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশে কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি উপলব্ধি করেছেন, তাদের কৈশোরে পা দেয়ার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের কিশোরীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক দেশের মেয়েদের কৈশোরে পা দেয়ার মানে তাদের পড়ালেখার সেখানেই সমাপ্তি। তাদের ভাইরা পড়াশোনা চালিয়ে যাবার অনুমতি পেলেও মেয়েদের ঘরে আটকে দেয়া হয় সংসারের কাজে সাহায্য করার অজুহাতে।

এখানেই শেষ নয়। বয়স ১৮ বছর হলেই এই কিশোরীদের এক তৃতীয়াংশকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়, এবং বিয়ের পরপরই তারা গর্ভধারণ করে। এবং নিজেরা কৈশোর পেরোনোর আগেই, অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হবার আগেই আরেকটি শিশুকে লালন পালনের দায়িত্ব নিতে হয় তাদের।

মেলিন্ডা টাইম ম্যাগাজিনকে আরো বলেন, “ভারতে এমন কয়েকজন কিশোরীর সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের ভেতরে থাকা অমিত সম্ভাবনা এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে নাড়া দেয়। আমার হৃদয় গুড়িয়ে যায় যখন তারা বলে, এই চক্র ভাঙ্গার কথা তারা ভাবতেও পারে না, এবং তাদের মেয়েদেরও একই ভাগ্য বরণ করে নিতে হবে। আমি অনুভব করি, আমার ফিবি আমার কাছে অমূল্য এবং এই মেয়েরাও নিশ্চয়ই কারো না কারো কাছে ফিবির মতই অমূল্য।"

তাই ফিবি’র জন্মদিনে সারা পৃথিবীর সব দেশের কিশোরীদের জন্য ফিবি’র মতো সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন জীবনের স্বপ্ন দেখেছেন মেলিন্ডা।

এ লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যপী কী কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে সারাবিশ্বের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন মেলিন্ডা।

মেলিন্ডা বিশ্বাস করেন, মানবজাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নারী ও মেয়েশিশুরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ নারী ও মেয়েরা শুধু উন্নয়নের সুফল ভোগ করে না, তারাই এই উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়। তাই মেয়েদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থিক সঙ্গতির সুযোগ সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করলে তাতে সবারই উপকার হবে।

মেলিন্ডা আশা করছেন, আগামী ১৫ বছরের ভেতর তার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই সব বাধা ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব হবে যা নারীদের পিছনে ফেলে রেখেছে। এবং এর মধ্যে দিয়ে সর্বোতভাবে সমাজেরও উন্নয়ন ঘটবে।

- তিন্নি