মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / শরতের স্নিগ্ধতায় সুতি শাড়ি
১০/২২/২০১৬

শরতের স্নিগ্ধতায় সুতি শাড়ি

-

শরত ঋতুর মাঝামাঝি থেকেই প্রকৃতিতে শুরু হয় গরমকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। সকাল-দুপুরে রোদের খানিকটা তেজ থাকলেও বিকেল হলেই বইতে থাকে স্নিগ্ধ হাওয়া। বছরের এই সময়টি অনেক মনোরম। তাই এই আবহাওয়ার সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায় সুতি শাড়ি।

পাটভাঙা সুতি শাড়ি গরমে আরামদায়ক। কিন্তু আবহাওয়ায় গ্রীষ্ম-বর্ষার মিশেলে হঠাৎ বৃষ্টির ভয়ে অনেকেই সারা বছর প্রিয় সুতি শাড়িগুলো তুলে রাখেন আলমারিতে। শরতের এই স্নিগ্ধ আবহাওয়া উপভোগ করতে নামিয়ে আনুন সাধের শাড়িগুলো।

বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শরতে আকাশ থাকে অনেক পরিষ্কার। তাই আকাশ দেখায় অনেক বেশি নীল। মাঝেমধ্যে আকাশে খেলা করে সাদা মেঘের ভেলা। কাশবনে শুভ্র ফুলের ঢেউ বয়ে যায় আর প্রকৃতি ধারণ করে অন্যরকমের এক সৌন্দর্য। প্রকৃতির এই মনোরম রূপের ছটার প্রতিচ্ছবি দেখা দেয় পোশাক-আশাকেও। শুভ্র-সাদা, নীল-সাদা, আকাশি নীল, হালকা সবুজ, হালকা গোলাপি ইত্যাদি রংয়ের সঙ্গে কখনও আবার উজ্জ্বল লাল, কমলা, বেগুনি ইত্যাদি রংও বেশ মানিয়ে যায়।

সুতি শাড়ির বিশেষত্ব হলো, সাদামাটা একটি শাড়ির সঙ্গে মানানসই ভারি গয়না এনে দিতে পারে ক্লাসিক লুক। জবরজং শাড়ি পরতে যাদের মন টানে না, তাদের জন্য সুতি শাড়ির তুলনা নেই।

মাটি, কাপড়, পুতি, পিতল, রূপা বা অন্যান্য মেটালে তৈরি গয়না সহজেই মানিয়ে যায় সুতির শাড়ির সঙ্গে।

সুতি শাড়ির মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। মোটা তাঁত বা পাতলা কোটা, এমনই বৈচিত্র্যে ভরপুর। তাই উৎসব বা উপলক্ষ অথবা নিজের আরামের কথা চিন্তা করে বেছে নিতে পারেন সুতি শাড়ি। হালকা রংয়ের একটি শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টের ব্লাউজ লুক বদলে দিতে পারে আপনার।

সুতি শাড়ি এতটাই ‘ভার্সেটাইল’ যে এতে আটপৌরে কিংবা জমকালো লুক আনা যেতে পারে খুব সহজেই।

সুতি শাড়ি বাছাই করা নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুশ্চিন্তায় ভোগেন অনেকে। রং বাছাই এবং শাড়িতে মোটা দেখাবে কিনা এমন নানান চিন্তার মুখোমুখি হতে হয় মাঝেমধ্যে। সুতি শাড়ি বিভিন্ন ধরনের হয়। এর মধ্যে বেশি জনপ্রিয় তাঁত, কোটা, জামদানি, মনিপুরি তাঁত, চেক ইত্যাদি। তাছাড়া ব্লক, বাটিক, অ্যাপলিক, হাতের কাজ, টাইডাই ইত্যাদি মাধ্যমে সাজানো হয় সুতি শাড়ি। সেখান থেকে নিজের পছন্দসই শাড়ি বেছে নেয়া মোটেও কঠিন নয়।

দিনে একটু হালকা রংয়ের সুতি শাড়িই বেশি ভালো লাগে। তবে হালকা রংয়ের শাড়ির সঙ্গে গাঢ় রং ও প্রিন্টের ব্লাউজ বেশ ভালো লাগবে। রাতে বা সন্ধ্যায় বেছে নেওয়া যেতে পারে উজ্জ্বল ও গাঢ় রংয়ের শাড়ি।

সুতি শাড়ি পরার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা আনা যায়। এক প্যাঁচে শাড়ি বা কুচি দিয়ে - যেকোনো ভাবেই দারুণ মানায় এই শাড়ি। আঁচল ছেড়ে শাড়ি পরলে কিছুটা ফুলে থাকে, তাই দেখতে কিছুটা মোটা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আঁচল ভাঁজ করে পিন করে নেয়া যেতে পারে। এতে আপনাকে দেখতেও অনেক পরিপাটি লাগবে।

সুতি শাড়ির সঙ্গে গয়না এবং সাজেও থাকতে হবে দেশি ধাঁচ। খোঁপা বা মেসি বান অথবা লম্বা বেণি, কানে বড় দুল বেশ মানানসই সুতি শাড়ির সঙ্গে। চাইলে গলায় মালাও পরতে পারেন। চোখে ঘন কাজলের টান সাজে এনে দেবে পূর্ণতা। সুতি শাড়ির সঙ্গে কপালে টিপ আর হাতে চুড়ি না হলে চলেই না। সঙ্গে খোঁপায় তাজা ফুল গুঁজে নিতে পারেন।

ধরনের মতো সুতি শাড়ির দামেও রয়েছে ভিন্নতা। শাড়ির মান এবং কাজের ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হয়। দেশিয় ফ্যাশন হাউজ, বিভিন্ন শপিং মল, মিরপুর বেনারসি পল্লি ইত্যাদি স্থানে হরেক রকমের ও ভিন্ন দামের শাড়ি পাওয়া যাবে।

সুতি শাড়ির যত্নের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। কখনওই অতিরিক্ত ক্ষার বা ব্লিচযুক্ত ডিটার্জেন্ট দিয়ে সুতি শাড়ি ধোয়া যাবে না। এতে রং উঠে যেতে পারে এবং শাড়ির সুতো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতি শাড়ি ধোয়ার পর মাড় দেওয়া যায়। তবে বেশি ঘন মাড় না দেওয়াই ভালো। অবশ্যই বাতাসে শুকাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন সরাসরি তীব্র রোদে না শুকানো হয়। সুতি শাড়ি আয়রন করে তুলে রাখতে হবে।

সাজে বাঙালিয়ানা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেকে স্মার্ট লুকে উপস্থাপন করতে সুতি শাড়ির বিকল্প খুব কমই পাবেন।

- আফরিন