বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / উপকারী ফেইস মাস্ক
১০/১৯/২০১৬

উপকারী ফেইস মাস্ক

-

ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে পরিবেশ দূষণ, খাদ্যাভাস এবং অনিয়মিত ঘুম ইত্যাদি কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়। আর এই বাড়তি যত্ন নিতে অনেকেই বেছে নেন নামীদামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী।

কিন্তু সুন্দর ত্বকের জন্য টাকা খরচ করে দামী প্রসাধনী কেনা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং হাতের নাগালে থাকা কিছু সাধারণ উপকরণ আর কিছুটা সময় নিয়ে ত্বকের যত্ন করলেই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা যায় দীর্ঘদিন।

ঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ উপকারী ফেইস মাস্ক। এমনই কিছু মাস্ক তৈরির প্রণালী এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।

টমেটো ও লেবুর মাস্ক

একটি টমেটো নিয়ে ভালোভাবে থেতে পিউরি তৈরি করে এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি গলায় এবং মুখে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। যা ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে কার্যকর। এই মাস্কটি ব্যবহারে রোদে পোড়াভাব দূর হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

কাঠ বাদামের মাস্ক

৪ থেকে ৫টি কাঠ বাদাম সারা রাত দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে কাঠ বাদামের খোসা ছারিয়ে নিয়ে দুধ এবং বাদামের পেস্ট তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ওই পেস্ট মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। এই মাস্কটি ভালো নাইট ক্রিম হিসেবে কাজ করবে, যা ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।

হলুদের মাস্ক

ত্বকের যত্নে হলুদ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভেষজ উপাদান। এই উপাদানটি ত্বকের যেকোনো সমস্যা দূর করে, অসম গায়ের রং স্বাভাবিক করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ৩ টেবিল চামচ লেবুর রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ হলুদ গুড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণটি ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

কলা ও দইয়ের প্যাক

একটি পাকা কলা চটকে এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ টক দই এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেনো প্রতিটি উপাদান খুব ভালো করে মিশে যায়। মুখ এবং গলায় পুরু করে মিশ্রণটি মেখে অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে গেলে ৩০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। কোমল ত্বকের জন্য সপ্তাহে দু’বার এই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

ওটমিল মাস্ক

ত্বকে জমে থাকা ময়লা এবং মৃত কোষের পরত তুলে ফেলতে নিয়ম করে এক্সফলিয়েট করা জরুরি। এক্সফলিয়েশন অর্থ হলো স্ক্রাবিং। যা ত্বককে পরিষ্কার করে এবং ত্বকে বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনাও কমায়। ৪ চামচ ওটমিলের সঙ্গে ৪টি কাঠ বাদাম গুড়া করে মিশিয়ে নিতে হবে। সামাণ্য দুধ এবং ১ টেবিল চামচ মধু দিয়ে ওটমিল ও কাঠবাদামের মিশ্রণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মুখের ত্বকে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করে আলতো হাতে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে ত্বকে জমে থাকা ময়লা এবং মৃতকোষ পরিষ্কার হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

সুন্দর ত্বক চাইলে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। আর তাই প্রতিদিন বা সপ্তাহে নিয়ম করে ত্বকের যত্নে কিছুটা সময় বরাদ্দ করে রাখা উচিত।

-অদিতি