বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / সাজিয়ে নিন স্মোকি আই
১০/১৬/২০১৬

সাজিয়ে নিন স্মোকি আই

-

চোখের সাজে স্মোকি আই নতুন কিছু নয়, বরং একটি প্রিয়, পরিচিত ও ট্রেন্ডি শব্দ। ড্রামাটিক মেকআপ হিসেবে স্মোকি আইয়ের তুলনা হয় না। আর যেহেতু গরমের দিনগুলো শেষের পথে, সময়টা ধীরে ধীরে উপযুক্ত হয়ে উঠছে একটু ভারী-জমজমাট মেকআপের জন্য। ঠাণ্ডার দিনে দারুণ গ্ল্যামারাস দেখাবে চমৎকার এই চোখের সাজ। তবে যেহেতু এটি কিছুটা ভারী এবং সময়সাপেক্ষ সাজ, কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চলুন দেখে নেই চোখ ধোঁয়াশে করে তোলার ৭টি ধাপ-

১। প্রথমেই ক্লেনজিং ক্রিম দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন যেন ত্বক পরিষ্কার থাকে।

২। এরপরে ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ভালোভাবে মুখে লাগিয়ে নিন যেন ত্বকের শুষ্ক, প্রাণহীন ভাবটা দূর হয়ে যায়।

৩। দীর্ঘস্থায়ী মেকআপের জন্য প্রথমে প্রাইমার প্রয়োগ করে এরপরে কনসিলার ব্যবহার করুন। ওপরে ব্যবহার করা যায় ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার। স্মোকি মেকআপে উপযুক্ত কনট্রাস্ট তৈরির জন্য অনেকে হালকা শিমারও ব্যবহার করে থাকেন।
৪। এবার এঁকে নিতে হবে চোখ। এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন আইপেন্সিল(সাধারণ কাজল) বা আইলাইনার। যাদের লাইনারে হাত কাঁপে তাদের জন্য পেন্সিল ব্যবহার করাই স্রেয়। কাজলের সাহায্যে চোখের নিচে ভেতরের কোণ থেকে শুরু করে বাইরের কোণের ওয়াটারলাইন বরাবর রেখা টানতে হবে। কাজলের বড় সুবিধা হচ্ছে এর খুব হালকা স্পর্শেই প্রয়োজনীয় শেড যেমন পাওয়া যায় তেমন সাজ নষ্ট বা আঁকাবাঁকা হওয়ার ভয়ও থাকে না। কাজল লাগিয়ে

১৫-২০ সেকেন্ড চোখ চেপে বন্ধ করে রাখলে নিচের চোখের কাজল হালকা লেপ্টে উপরের ওয়াটারলাইন বরাবর হালকা লেগে যাবে যাতে একধরনের স্মোকি এফেক্ট তৈরি হবে সাথে চোখও বড় দেখাবে। এরপর একই পেন্সিল দিয়ে পাপড়ির গোড়াতেও হালকা করে লাইনার লাগাতে হবে। লাইন আঁকা শেষ হলে একটা নরম ব্রাশ বা আঙুলের সাহায্যে লাইনারের শেডকে চোখের পাতার ওপরে ভালো করে স্মাজ করে দিতে হবে। এ মেকআপে চোখের পাপড়ির গোড়ায় শেড সবচেয়ে গাঢ় হতে হয়। তবে পেন্সিল ব্যবহারে খুব একটা সাবধানতা বা নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই এ মেকআপে।
৫। এবার আসে শেড দেওয়ার পালা, স্মোকি চোখের মূল হলো হালকা এবং গাঢ় রংয়ের সম্মিলনে আইশ্যাডোর সঠিক ব্যবহার ও ব্যবহৃত শ্যাডোগুলো নিখুঁতভাবে মিলানো। সাধারণত ধূসর, কালো, সবুজ, নীল, চকলেট এ ধাঁচের গাঢ় শেড ব্যবহার করা হয়। অপেক্ষাকৃত গাঢ় শেড ব্যবহারের পর প্রয়োগ করা হয় হালকা শেড। প্রথমে শ্যাডো ব্রাশের সাহায্যে গাঢ় শেডগুলো ওপরের পাতায় ভালো করে লাগিয়ে নিন। ব্রাশ বা আঙুলের সাহায্যে স্মাজ করে নিন। হালকা রঙের শেডটি এর উপরেই লাগাতে হবে। ওটিও অত্যন্ত সাবধানতার সাহায্যে মিলিয়ে নিতে হবে হালকাভাবে। আগের গাঢ় শেড এবং পরের হালকা শেড মিলিয়ে চোখে অন্যরকম এক আবহের সৃষ্টি হয়। খেয়াল রাখতে হবে যে ব্রাশ বা আঙুলের ব্যবহার যেনও আলতোভাবে করা হয়।
৬। সবশেষে চারপাশে ব্যবহার করুন গাঢ় নীল কিংবা সবুজ শেড, এতে ড্রামাটিক ভাবটি আরও প্রস্ফুটিত হবে। এই শেডকে এক্সট্রা ডাইমেনশন শ্যাডো হিসেবে গণনা করা হয় মূলত। ইদানিং মেটাল টোনের নানারকম রঙও ব্যবহার করতে দেখা যায়, এতে হাইলাইটের কাজটি হয়ে যায় নিমিষে।
৭। ফিনিশিং টাচ এর পরে চোখে লাগিয়ে নিন ফেক আই-ল্যাশ এবং মাশকারা ব্যবহার করুন। আই-ল্যাশ বাধ্যতামূলক না হলেও মাশকারা লাগানোটা খুবই প্রয়োজনীয়। সবশেষে হালকা পাফ ব্যবহার করে চোখের নিচের অংশ ভালোভাবে মুছে ফেলুন। সম্পূর্ণ হয়ে গেলো স্মোকি চোখের মেকআপ।

-নুসরাত