বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / শারদীয় সাজে অপরূপা
১০/১০/২০১৬

শারদীয় সাজে অপরূপা

-

ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয়ে যায় পূজার আনন্দ। মন্ডপে গিয়ে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এই সব মিলিয়েই পূজা। আর এই আনন্দে পূর্ণতা পেতে চাই মানানসই সাজ।
ষষ্ঠীতে হালকা সাজে শুরু করে দশমীতে গর্জিয়াস, এক এক দিনের সাজ পোশাক হতে হবে একেক রকম। তাই এই চারটি দিন নিজেকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে জানা থাকা চাই কিছু সহজ বিষয়। পূজার কিছুদিন আগে থেকেই ত্বকের যতœ নেওয়া উচিত। কারণ ত্বক সুন্দর থাকলে তবেই না মেকআপ সুন্দর হবে। ত্বকের ধরন বুঝে যতœ নেওয়া জরুরি। সেই সব দিকগুলোই এখানে তুলে ধরা হলো।

তৈলাক্ত ত্বক
যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত, তাদের নানান রকম সমস্যা থাকতে পারে। তাই সবার প্রথমে ত্বকে তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং-এর ক্ষেত্রে ‘অয়েল ফ্রি প্রোডাক্ট’ ব্যবহার করুন। ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার হিসেবে টমেটোর রস খুব কার্যকর। ক্লিনজিং ও টোনিংয়ের পর কলা ও মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

শুষ্ক ত্বক
এই ধরনের ত্বকের প্রধান কাজ হল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। ভিটামিন-ই অয়েল আর গ্লিসারিন আধ চামচ করে মিশিয়ে প্রতিদিন লাগাতে পারেন। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু, আধা চামচ অলিভ অয়েল ও গোলাপজল মিশিয়ে সারা মুখে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করা উচিত।

মিশ্র ত্বক
প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কারের জন্য হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তবে ত্বকে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সিদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়া চটকে, মধু ও দুধ পরিমাণ মতো মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে তারপর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক সপ্তাহে ৩ দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

এবার আসা যাক সাজসজ্জায়। দিন ও রাতের সাজ হতে হবে আলাদা।

পূজায় দিনের সাজ
ষষ্ঠী থেকে দশমী চলে পূজার উৎসব। তাই ষষ্ঠীতে সাজ হালকা হয়ে দশমী পর্যন্ত রঙিন হয়ে ওঠে। দিনে মন্দিরে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় প্রকৃতির সজীব ভাবটা যেন সাজের মধ্য থাকে।

দিনে ঘর থেকে বেরোনোর আগে অবশ্যই ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। নতুবা রোদে পুড়ে ত্বকের জেল্লা নষ্ট হয়ে যাবে।

সকালের বেইজ মেকআপ করার ক্ষেত্রে ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার উপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। ফাউন্ডেশনের বদলে বিবি ক্রিমও ব্যবহার করা যাবে। খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশন যেন ত্বকের সঙ্গে মিশে যায়।
চোখের সাজে অফ হোয়াইট হাইলাইটস, বাদামি ও কালো অথবা পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। পেনসিল আই লাইনার অথবা চাইলে শুধু কাজলের একটা হালকা রেখা টেনে দিন চোখে।

ঠোঁটে হালকা গোলাপি বা বাদামি লিপস্টিক অথবা লিপগ্লস লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা বাদামি বা কোরাল রংয়ের ব্লাশঅন লাগিয়ে নিন।

সারা দিনের জন্য বাইরে বের হলে চুলটা এমনভাবে বাঁধুন, যাতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়। আবার দেখতেও যেন ভালো লাগে। খোঁপা করলে ফুল পরতে পারেন। কপালে বড় লাল টিপ আর বিবাহিতরা সিঁথিতে সিঁদুর পরুন।

পূজায় রাতের সাজ
সন্ধ্যার পর সাজ হবে জমকালো। তাই রাতের মেকআপ একটু যতœ ও সময় নিয়ে করতে হয়। রাতে ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। ত্বকের দাগ ঢাকতে এবং হাইলাইট করতে উজ্জ্বল কনসিলার ব্যবহার করুন। তার উপর পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে হবে। সুন্দর বেস মেকআপের মূল ভিত্তি হলো ব্লেন্ডিং। তাই সময় নিয়ে ফাউন্ডেশন কনসিলার ব্লেন্ড করে নিন।

রাতে চোখের সাজ হতে পারে জমকালো। চাইলে গ্লিটার শ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। চোখের পাপড়িতে কয়েক পরত ওয়াটার প্রুফ মাশকারা লাগিয়ে নিন। চোখের মেকআপ গাঢ় হলে স্বাভাবিক রংয়ের লিপস্টিকই ভালো মানাবে।

সাজের সঙ্গে মানানসই স্টাইল করে নিন চুলে। শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা লম্বা বেণী ভালো লাগবে। গরমে অস্বস্তি লাগার সমস্যা না থাকলে খোলা চুলেও স্টাইল করা যায়। স্ট্রেইট বা কার্ল যে কোনো স্টাইল এখন জনপ্রিয়।

পূজার সাজে ফুল থাকা চাই। চুল সাজাতে পারেন ফুলের স্নিগ্ধতায়। খোঁপায় জড়িয়ে নিন শিউলি ফুল বা বেলিফুলের মালা। বড় লাল টিপ আর বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর পূজার সাজে আনবে পূর্ণতা।

পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নিন। সারাদিনের জন্য বের হলে ব্যাগে রাখতে পারেন ফেস পাউডার, লিপস্টিক, সানক্রিম, ফেসিয়াল টিস্যু, ছোট আয়না ও এক বোতল জল।
পূজায় শাড়ির কোনো বিকল্প নেই। তবে সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, স্কার্ট-টপস, ম্যাক্সি বা গাউন ড্রেস যে কোনো পোশাক বেছে নিতে পারেন নিজের পছন্দ মতো। দিনে সুতি, লিনেন, হালকা জর্জেট ইত্যাদি কাপড়ের পোশাকই ভালো লাগবে। সন্ধ্যার পোশাকে বেছে নিতে পারেন সিল্ক, মসলিন বা কাতান।

মন্ডপে ঘোরার জন্য আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল পরা উচিত। হিল পরলেও খেয়াল রাখতে হবে সেটি পরে হাঁটতে যেন কোনো সমস্যা না হয়।

প্রতিদিন পূজাম-প ঘুরে, হৈচৈ, আনন্দ করে যত দেরি করেই বাড়ি ফিরুন না কেন, মুখ পরিষ্কার না করে ঘুমাতে যাবেন না কিন্তু। মুখে ক্লিনজিং মিল্ক লাগিয়ে ভালোভাবে তুলা দিয়ে মুছে ফেলুন। অলিভ অয়েলও ভালো মেকআপ রিমুভার হিসেবে কাজ করে। এরপর অবশ্যই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

সব শেষে টোনার দিয়ে মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

- সামিরা আহসান