শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / শৈশব কাটুক বইয়ের মাঝে
০৯/১৫/২০১৬

শৈশব কাটুক বইয়ের মাঝে

-

আজকাল বাবা-মারা বাচ্চাদের নিয়ে অহরহ এই অভিযোগ করেন যে তারা একদম বই পড়তে চায়না। আসলে না পড়তে চাওয়া বিষয়টি শুধু শিশু নয়, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও বিদ্যমান। মন থেকে আন্তরিকভাবে কিছু পড়ার অভ্যাস আমাদের যেন কমেই চলেছে। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এ পড়ার অভ্যাসটি যদি শৈশব থেকেই সন্তানের মধ্যে গড়ে তুলে দেয়া যায়, তাহলে তাদের মধ্যে যেমন গড়ে উঠবে নিয়মিতভাবে ভালো ভালো সব বই পড়ার অভ্যাস, তেমনি প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকবে তাদের জ্ঞানের পরিধি। এখন তাহলে জেনে নিন, শিশুদের মাঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বাবা-মায়েরা কী করতে।

* বই পরার আগে তো আমাদের অক্ষর চিনতে হবে। শিশুকে স্কুলে ভর্তি করার আগেই বাসায় খেলতে খেলতে বর্ণমালা সম্পর্কে ধারণা দিন।এতে স্কুলে ভর্তির পর যখন সে দেখবে সে ভালো পারছে, তখন তার আত্মবিশ্বাসও যেমন বাড়বে, তেমনি দূর হয়ে যাবে স্কুলভীতিও।

* প্রতিদিনই শিশুদের সঙ্গে কিছু না কিছু পড়ুন ও পড়ান। তাদের সাথে কিছু পড়ার চেষ্টা করুন। পড়ার জন্য এমন কোনো বিষয় বেছে নিন যা শিশুর সঙ্গে সঙ্গে আপনারও ভালো লাগবে। সেটা হতে পারে অত্যন্ত ছন্দময় মজার কোনো সহজ কবিতা, হতে পারে ছোট কোনো গল্প বা রূপকথা, কিংবা হতে পারে টিনটিনের মতো মজার ও জনপ্রিয় কোনো চরিত্রের কার্টুন বই।

* পারিবারিক ভাবে বাড়িতে বই পড়ার একটি পরিবেশ তৈরি করে রাখুন। এলোমেলো একটা-দু’টো দামি বই বেডরুমে ফেলে না রেখে একটি সংগ্রহ তৈরি করুন নানা পদের বই দিয়ে। বসার ঘর বা সুবিধামত জায়গায় একটি লাইব্রেরি তৈরি করুন।

* শিশুকে স্কুলে ভর্তির আগে তাকে নার্সারি লেভেলের ছড়াগুলো শিখিয়ে দিন। প্রয়োজনে ছড়াগুলো অভিনয় করে পড়ান, সঙ্গে সঙ্গে তাদের ও অভিনয় করে আবৃত্তি করতে বলুন। যখন সে নার্সারিতে ভর্তি হবে, তখন সেই হয়তো সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

* এই কম্পিউটার, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের যুগে শিশুরা যে ঐ যান্ত্রিক জিনিসগুলোর প্রতি আকর্ষিত হবে, সে তো বলাই বাহুল্য। তাই শিশুর পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন - দিনের অমুক সময়টিতে তারা পছন্দের বই নিয়ে বসবে। এতে উৎসাহিত করতে আপনার শিশুকে ছোটখাটো পুরষ্কারও দিতে পারেন।

* প্রথম প্রথম বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে শিশুর পছন্দের চরিত্রকে নিয়ে লেখা বই বা কমিক কিনে দিতে পারেন। রঙচঙে বই বাচ্চাদের আকর্ষণ করে।

* শিশুরা বড়দের অনুকরন করতে পছন্দ করে। তাই আপনি নিজেও নিয়ম করে একটা সময় বই পড়ার জন্য রাখুন।

* শিশু কী বিষয়ে পড়তে উৎসাহ বোধ করে অথবা আপনি তাকে কোন কোন বিষয় পড়ালে সে আনন্দ পায়, প্রশ্ন করে জেনে নিন। সে যদি পড়ার মধ্যে আনন্দ পেয়ে যায়, আপনার জন্য তা হবে অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।

* পাবলিক লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ইত্যাদিতে বাড়ির ক্ষুদেদের সদস্য বানিয়ে দিন। আর শুধু বাংলা সাহিত্য বা অনুবাদ নয়, ইংরেজি সাহিত্যেও খানিক নজর দেবেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইয়াং লার্নার্স প্রোগ্রামেও এদেরকে ভর্তি করিয়ে দিতে পারেন। এছাড়াও প্রতি বছর বই মেলায় নিয়ে যান। পছন্দমত বই কিনে দিন।

* পড়ার পাশাপাশি তাদের লিখতেও উৎসাহ দিন। তাকে নিজের থেকে ছড়া কিংবা আজ স্কুলে সে কী কী করল তা লিখতে বলুন। এতে করে তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। তার লেখায় অনেক ভুল থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাকে সবার আগে চমৎকার লেখার জন্য বাহবা দিয়ে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ভুলগুলো ধীরে ধীরে শুধরে দিন। হতে পারে, আপনার শিশুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বড় কোনো লেখক কিংবা কলামিস্টের প্রতিভা!

-তাজরিয়ান