শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / কোরবানির মাংসে ক্যালরির পরিমাণ
০৯/১৫/২০১৬

কোরবানির মাংসে ক্যালরির পরিমাণ

-

অল্প কিছুদিন পরেই আসছে ঈদুল আজহা। তবে ঈদের ছুটির দিনগুলোতে সারাবেলা কোরবানির মাংস খেয়ে শরীরের বারোটা বাজালে সব আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান হলো, কোরবানির মাংসজাতীয় পদের ক্যালরিমান জেনে পরিমিত পরিমাণে মাংস খাওয়া।

খাদ্যের ক্যালরি কী?

ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক। খাদ্যের ক্যালরিমানের মাধ্যমে তা আমাদের শরীরে কতটুকু শক্তি উৎপন্ন করে, তা জানা যায়। জেনে রাখা ভালো, খাদ্যের ক্যালরি বলতে মূলত তা শরীরে কত কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন করে, তাই বোঝায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দিনে আনুমানিক ২৫০০ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার গ্রহণ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ আনুমানিক ২০০০ হওয়া উচিত। তবে ওজন কমানো বা বাড়ানোর ইচ্ছে থাকলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক লোকজন কিংবা ক্রীড়াবিদদের জন্যও ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যথাযথ ওজন ধরে রাখার জন্য দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। আসছে কোরবানিতে বিভিন্ন পশুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। কোরবানির মাংসের ক্যালরিমান জানা থাকলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, ঠিক কী পরিমাণ মাংস খাওয়া উচিত।

কোরবানির মাংসে ক্যালরির পরিমাণ

কোরবানির মাংস হিসেবে গরুর মাংসই সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে থাকে। ১০০ গ্রাম গরুর মাংস সাধারণত ২৫০ ক্যালরির সমান। তবে রন্ধন-পদ্ধতির ভিন্নতার জন্য গরুর মাংসের বিভিন্ন পদে ক্যালরির পরিমাণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। এই যেমন এক কাপ গরু ভুনা মাংসে ৪০০ থেকে ৪৫০ ক্যালরি থাকে। এক কাপ বা ২৫০ গ্রাম রান্না করা গরুর কিমা মাংসে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ৫৫০। সমপরিমাণ গরুর কোর্মায় ক্যালরিমান আনুমানিক ৩৭০। এক কাপ পরিমাণ গরুর মাংসে ৪৭০ ক্যালরি থাকে। স্বাভাবিক আকৃতির একটি গরুর কাটলেটে ক্যালরিমান ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।

ঈদের ছুটির দিনগুলোতে গরুর মাংসের কাবাব খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গরুর মাংসের শামি বা শিক কাবাবের প্রতি পিসে ক্যালরির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২৫০ পর্যন্ত হতে পারে।

গরু ছাড়াও খাসির মাংস বেশ জনপ্রিয়। ক্যালরির দিক থেকে খাসির মাংসে ক্যালরিমান গরুর মাংসের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ১০০ গ্রাম খাসির রেজালায় প্রায় ৩২৩ ক্যালরি বিদ্যমান। তবে সমপরিমাণ খাসির কোর্মায় ক্যালরি তুলনামূলক কম ১২৫ থেকে ১৫০। ১০০ গ্রাম খাসির কিমা রান্নায় এই মান আনুমানিক ১৭৫। এক কাপ পরিমাণ খাসির বিরিয়ানিতে ক্যালরিমান ৩৮০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে। সমপরিমাণ খাসির মাংসের কারিতে ক্যালরিমান ২৭০ হয়ে থাকে।

রোগীদের জন্য সচেতনতা

যাদের বয়স ৩০-এর কম, কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপজনিত কোনো সমস্যা নেই এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, তারা কোরবানিতে গরু, খাসি কিংবা অন্যান্য মাংস একটু বেশি খেলেও সমস্যা নেই। তবে খাবারের সঙ্গে সালাদ ও শাক-সবজি রাখতে হবে। গরু বা খাসির মাংসের সঙ্গে সালাদ এবং শাক-সবজি খেলে শরীরে চর্বি জমাট বাঁধার আশঙ্কা কমে যায়। প্রাণিজ আমিষ বিশেষ করে রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির যতটা সম্ভব গরু বা খাসির মাংস থেকে দূরে থাকাই ভালো। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা থাকলে কোরবানির মাংস যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত। এছাড়া যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, কোরবানির মাংস খাওয়ার ব্যাপারে তাদের সচেতন থাকতে হবে।

উৎসবের দিনগুলোতে চুটিয়ে আনন্দ করার জন্য সুস্থ শরীরের বিকল্প নেই। আসছে ঈদে তাই বুঝেশুনে সঠিক পরিমাণে মাংস খান। সুস্থ-সবল দেহে ও হাসি খুশিতে ঈদ উদযাপন করুন।

-নাসিফ রাফসান