মঙ্গলবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / নিলাম
০৯/০৬/২০১৬

নিলাম

- রোদেলা নীলা

লাল শাড়িতে আমাকে দেখতে তোমার অনেক দিনের বায়না;
সেই কবে থেকে তুমি জোর করছিলে,
জানোতো কুচিটাই আমি ঠিকমতো ধরতে পারি না, পুরো আস্ত একটা শাড়ি।
তুমি বললে, ওসব নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না, তোমার আঁচল আমি সামলাবো।
চৈত্রের শেষরাতে তুমি ঠিকই কাগজে মোড়ানো একখানা শাড়ি ধরিয়ে দিয়ে বললে,
এই নাও তোমার নববর্ষের উপহার, কাল তোমায় আমি দেখতে চাই আমার দু’চোখ ভরে।
আচ্ছা, এত টাকা তুমি কোথায় পেলে?
সেকি অভিমান তোমার, প্রশ্ন শুনেই রাগে কটমট।
বছরের প্রথম দিনে একটা সামান্য শাড়িও দিতে পারব না তোমায়?
কেবল শাড়ি কি এনেছিলে, গুনে গুনে নিয়ে এসেছ দুই ডজন চুড়ি।
কোমরে জড়ানোর বিছা আর পায়ে দেওয়ার আলতা আনতেও ভোলোনি।
আমি যখন রঙিন শাড়ির আভরণে আয়নার সামনে কপালে আলপনা আঁকতে মগ্ন,
কোথা থেকে যে তুমি আমার খোঁপায় জুড়ে দিলে সাদা বেলির মালা-
সেই মালা এখন হায়েনার পায়ে দলিত ব্যথিত প্রিয়।
বুকের আঁচল সিমেষে হ্যাঁচকা টানেই খুলে ফেলল মানুষ নামক কতগুলো পশু;
আমার যে গাল ভালোবাসার চুম্বনে ছিল সিক্ত সেখানে কেবল লাল লাল নখের আঁচড়।
আমার প্রশান্ত বুকে তুমি এঁকে দিতে হাজার স্বপ্নের বিনুনি;
সেখানে এখন কুকুরের বিষাক্ত আক্রমণ।
তোমার বাহুর সমর্পণে জড়িয়ে রাখা আমার ছোট্ট কবুতর শরীর কখন যে ওদের
খাবার বনে গেল-তা বুঝিনি তখনো। মনে হয়েছিল আগুন লেগেছে কোথাও,
প্রাচ্যের মৃত্যুকূপে একদল শেয়াল খাবারের লোভে এদিক ওদিক ছুটছে।
দেশে কি এমনই অভাব হলো, ওরা আমাকেই বেছে নিল খাদ্যরূপে।
প্রশাসন তখন খেলায় মত্ত, মানুষ মত্ত দর্শকের সারিতে।
তোমার শক্ত বাহুর আড়াল থেকে ওরা আমার শরীর দেখছে,
ছাব্বিশ বছরের রমণীর শরীর যেন দেখেনি কেউ কোনোদিনও।
কেউ বলছে, এখানে মরতে এসেছিস কেন মেয়ে?
কেউবা বলছে, ঠিক হয়েছে, বোঝো শরীর দেখিয়ে শাড়ি পরার মজা।
তুমি যে আমায় জোর করে নিয়ে এলে তাতো কেউ বলছে না গো?
উদ্ধারে ব্যস্ত মাত্র গুটিকয়েকজন বাঁচালো আমার সম্ভ্রম;
কিন্তু ততক্ষণে সমগ্র মিডিয়া নিয়ে গেল শত শত ভিডিও ।
উপকার কি হলো জানি না;
কেবল এইটুকু জানি, আমার শরীর নিলামে উঠেছে প্রিয়।