মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / আদি লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান ‘শাওনের ডালা’
০৯/০৬/২০১৬

আদি লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান ‘শাওনের ডালা’

-

বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনি অবলম্বনে প্রতিবছর টাঙ্গাইলে আয়োজন করা হয় ‘শাওনের ডালা’ লোকসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ বছরও আয়োজিত হয়েছিল শাওনের ডালা ‘শ্রাবণ সংক্রান্তি ১৪২৩’। প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের প্রথম দিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

নৌকায় করে বেহুলা লাচারির যাত্রাপালার শিল্পীরা নৃত্যগীত করে নদীর ৭টি ঘাটে পূজা দেয়।
‘বেহুলা লাচারি’ নামের এই পালায় পুরুষেরা নারী সেজে সংলাপ ও নৃত্যগীতে মনসা, নরেকা, সনেকা, দাশী ইত্যাদি চরিত্রে অংশ নিয়ে থাকেন।
বেহুলা লাচারিতে দেখানো হয় শিব ও পার্বতীর কৈলাস গমন, মনসা পদ্মাবতীর জন্ম ইতিহাস, চাঁদ সওদাগরের নিকট মনসা পূজা দাবি, চাঁদ সওদাগর মনসাকে পূজা না দেওয়ায় তার ছয় পুত্রকে কালিদহ সাগরে ডুবিয়ে মারা। পরবর্তীকালে বেহুলা-লখিন্দরের প্রেম ও বিয়ে।

লোহার বাসরঘরে মনসার নির্দেশে কালনাগ গিয়ে লখিন্দরকে দংশন করে, কলার ভেলায় ভেসে মৃত পতিসহ বেহুলার দেবপুরীর উদ্দেশে যাত্রা।
এই দেবসভায় বেহুলার আকুল আকুতি ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে দেবতাদের সন্তুষ্ট করায় লখিন্দরের পুনর্জীবন লাভ। এই সকল দৃশ্য কখনো কাহিনিতে কখনো নৃত্যগীতে কখনো সংলাপে বেহুলা লাচারিতে স্থান পেয়েছে। শাওনের ডালা বেহুলা লাচারির শ্রাবণ সংক্রান্তির একটি পরিবেশনা।

প্রতিবছর শ্রাবণ সংক্রান্তিতে বেহুলা লাচারির দলগুলো আলাদাভাবে বড় বড় নৌকায় করে নৃত্যগীত করতে করতে ৭ ঘাটে পূজা দেয়। সর্পদেবী মনসা, পদ্মাদেবী ও শিব মহাদেব সহ দেবদেবীর উদ্দেশে পূজা দেয়া হয়। তাদের জন্য ছোট ছোট কলার ভেলায় ভোগসামগ্রী নদীর পানিতে ভাসানো হয়।
টাংগাইল জেলার যমুনা, ঝিনাই, ধলেশ্বরী, বংশী, ফটিকজানি ও লৌহজং নদীতে প্রতিবছর এই শাওনের ডালা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।