মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / এই ঈদের ফ্যাশন
০৯/০১/২০১৬

এই ঈদের ফ্যাশন

- ইরা

রোজার ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই চলে এসেছে ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতরের মতো হইচই করে কেনাকাটা না করলেও উৎসবে তো নিজেকে ফ্যাশনেবল করে উপস্থাপন করা চাই। তাই এই উৎসবের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়েও ভাবতে হবে এখনই।

রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে কেনাকাটার দিকে ঝোঁক কিছুটা কমই থাকে। কারণ ঈদুল আজহার বড় একটি অংশজুড়ে থাকে পশু কোরবানি এবং এর ভাগাভাগির কাজগুলো। তাই এ উৎসবে নতুন জামা, জুতা এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ কেনার জন্য মার্কেটগুলোতে তেমন একটা ভিড় থাকে না।
তাই বলে উৎসবে নতুন পোশাক না হলে চলে নাকি! তাছাড়া সকালে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও ঈদের দিন সন্ধ্যায় এবং পরের দু’দিন দাওয়াত আর ঘোরাঘুরি তো আর বাদ দেওয়া চলে না। তবে এই উৎসবে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঈদুল ফিতরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব চাই আনকোরা। এই সময় জমকালো পোশাকের প্রতি আগ্রহ থাকে কিছুটা বেশি। কিন্তু আসছে ঈদে আরামের দিকটাই বেশি বিবেচনা করতে হবে পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে।

ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা এই দু’টি উৎসবের মধ্যে সময়ের ব্যবধান খুবই কম। আর ফ্যাশনঘরগুলো তাদের বছরের সব থেকে বড় আয়োজনটি তুলে ধরে রোজার ঈদের সময়ই। দীর্ঘ সময় ধরে রোজার ঈদের জন্য নতুন ডিজাইন এবং কালেকশন নিয়ে প্রস্তুতি চলে এবং বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তা উপস্থাপন করা হয় ক্রেতাদের সামনে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা এবং যেহেতু এই উৎসবে পশু কোরবানিই মূল উদ্দেশ্য,তাই সব মিলিয়ে এই ঈদে পোশাকে তেমন একটা নতুনত্ব থাকে না। ঈদুল ফিতরের নকশা ও স্টাইলগুলোই এই ঈদে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়।
কোরবানির ঈদের সকালে কাজের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নতুন পোশাক পরার প্রবণতা সকালে তেমন একটা থাকে না। বরং সন্ধ্যায় এবং ঈদের পরবর্তী দু’দিন নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়ানোর বিষয় থাকে।

এই ঈদে সকালে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো। বিকাল বা সন্ধ্যায় পছন্দসই জমকালো পোশাক পরা যেতে পারে।
আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সারা বছরই সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক বিশেষ উপযোগী। কারণ সুতির পোশাক ঘাম শুষে নেয় এবং বাতাস চলাচল করতে পারে বলে বেশ আরামদায়ক। এখন সুতি কাপড়েও ভিন্নতা রয়েছে। মোটা এবং পাতলা বিভিন্ন ধরনের সুতি কাপড় এখন বেশ সহজলভ্য। তাছাড়া সুতির সঙ্গে অন্য সুতার মিশ্রণেও কিছু মিক্সড কাপড় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলোও বেশ আরামদায়ক।
এই মৌসুমে এই রোদ এই বৃষ্টি, সেদিক থেকে চিন্তা করলে হালকা জর্জেটের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। আরও আছে লিনেন, ক্রেপ, শিফন ইত্যাদি হালকা কাপড়। এগুলোও এই আবহাওয়ায় বেশ আরামদায়ক।

এ বছর শুরু থেকেই গাউন এবং ম্যাক্সি ড্রেস বেশ জনপ্রিয়। তাছাড়া স্কার্ট-ক্রপ টপস বা শার্ট, ঢোলাঢালা বা ঘের দেওয়া পালাজ্জো, ব্লক ও বাটিকের থ্রি-পিস, ডলার ওয়ার্কের ড্রেস, এমব্রয়ডারি থ্রি-পিস, লেইসের কাজ ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।
উৎসবের দিনে ভিন্নতা আনতে গাউন বা ম্যাক্সি ড্রেসের সঙ্গে কোমরে পরতে পারেন সুন্দর বেল্ট। বেল্ট পরলে গলায় ঝোলানো চেইন না পরাই ভালো। বরং কানে বড় বা স্টেটমেন্ট ইয়ার রিংই ভালো মানাবে। টপসের সঙ্গে পরতে পারেন রংচঙা স্কার্ফ বা শ্রাগ।

এ বছর শুরু থেকেই কেইপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফ্যাশন সচেতনদের কাছে। কিছুটা ফিটিং গাউন বা টপসের সঙ্গে পরা যাবে কেইপ।
পুরো বছর জুড়েই উজ্জ্বল ও গাঢ় রংগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে। তাছাড়া উৎসব মানেই রংচঙে পোশাক। তাই যেকোনো রংয়ের উজ্জ্বল শেডগুলোই বেছে নেওয়া যেতে পারে নিজ নিজ পছন্দমতো। লেমন, হলুদ, লাল, কমলা, গোলাপি, ম্যাজেন্টা, নীলের বিভিন্ন শেড, সবুজ ইত্যাদি রং বেশ আকর্ষণীয় লাগবে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন ও সুন্দর পোশাক পরা চাই এই উৎসবের দিনগুলোতে। আর সুন্দর আর রুচিশীল পোশাকেই প্রকাশ পায় আপনার ব্যক্তিত্ব।