বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / ঈদুল আজহার সাজসজ্জা
০৯/০৬/২০১৬

ঈদুল আজহার সাজসজ্জা

- অদ্বিতী

ঈদ মানেই নতুন পোশাক আর সাজগোজ করে ঘুরে বেড়ানো। রোজার ঈদের মতো এই ঈদে অতটা নতুন পোশাক কেনার ধুম না থাকলেও ঈদের ছুটির দিনগুলোতে নিজেকে তো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতেই হবে।

পোশাক যতই সাদামাটা হোক, তার সঙ্গে নজরকাড়া অনুষঙ্গ ও সাজ সকলের সামনে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট।
এই ঈদে রোজার ঈদের তুলনায় কাজের চাপ কিছুটা বেশি থাকে। তাই ঈদের দিনের প্রথমভাগে সেভাবে সাজগোজ করা বা নতুন পোশাক পরার সুযোগ থাকে না। তবে বিকাল বা সন্ধ্যায় ঘরে বা বাইরে দাওয়াত হোক বা ঘুরতে যাওয়া হোক, নিজেকে কিছুটা সুন্দরভাবে সাজানো যেতেই পারে।
যেকোনো পোশাকই বাছাইয়ের সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন আরামদায়ক হয়। সেই সঙ্গে এই উৎসবে চুলও রাখা চাই পরিপাটি করে। কারণ এবারের ঈদও উদযাপিত হবে গরমের মৌসুমে। তাই খোলাচুলে দীর্ঘসময় অস্বস্তি লাগতে পারে। সুন্দরভাবে চুল বেঁধে নিলে দেখতে যেমন পরিপাটি লাগবে, তেমনি গরমও কম লাগবে।

এছাড়াও ঘরে যদি মেহমানদারি করতে হয়, সেক্ষেত্রে খোলাচুলে সব সামলে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হবে। সব মিলিয়ে ঈদের দিন চুল বেঁধে রাখাই ভালো।

চুল বাঁধা থাকলে কানে বড় ঝুমকা বা স্টেটমেন্ট ইয়ার রিং বেশ ভালো লাগবে। কানে বড় দুল পরলে গলায় কিছু না পরলেও চলবে। অথবা ছোট লকেট ঝুলিয়ে নিতে পারেন।

হাতে পরা যেতে পারে হালকা ব্যাঙ্গেলস, ব্রেসলেট বা চুড়ি। আংটি পছন্দ হলে আঙুলে ছোট আংটি পরা যেতে পারে। বেশি জবরজং অলঙ্কার এড়িয়ে চলাই ভালো।

এবার আসা যাক মেকআপের টুকিটাকিতে।
ঈদের দিন বা পরদিন সকালে সাজটা হতে হবে স্নিগ্ধ। কারণ কাজ হোক বা ঘোরাঘুরি, যেকোনো ক্ষেত্রেই গাঢ় মেকআপ একেবারেই বেমানান। ঈদের দিন সকালে কাজের চাপ বেশি থাকে, তখন মেকআপ করাটাই ঝক্কি। আর পরদিন ঘুরতে বের হওয়া বা দাওয়াত খেতে গেলেও সাজ হওয়া চাই হালকা ও ন্যাচারাল। গরমের কারণে সাজ ওয়াটারপ্রুফ হলে ভালো হয়।

মেকআপের শুরুতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে চাইলে বরফ ঘষে নিতে পারেন। এরপর অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে নিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে প্রাইমার লাগিয়ে অল্প পরিমাণ ম্যাট ফাউন্ডেশন ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। চোখের নিচের কালি ও মুখে দাগ থাকলে তা ঢেকে ফেলতে অল্প পরিমাণে কনসিলার লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। কনসিলার অবশ্যই সেটিং পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে হবে। খুব হালকা করে গালের দু’পাশে ও ডাবল চিন থাকলে থুতনির নিচে কন্টোরিং করে নিতে পারেন। সব শেষে ফেসপাউডার বা সেটিং পাউডার পুরো মুখে বুলিয়ে ফাউন্ডেশন ভালোভাবে সেট করে নেবেন।

পোশাকের রঙের সঙ্গে মানিয়ে আইশ্যাডো লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে অথবা শুধু লাইনার ও কাজল দিলেও মানিয়ে যাবে। তবে পাপড়িতে মাসকারা বুলিয়ে নেওয়ার কথা ভুললে চলবে না। অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা ও আইলাইনার ব্যবহার করবেন।
দিনের বেলা হালকা লিপস্টিকই ভালো লাগে। তবে উৎসবের আমেজে গাঢ় লিপস্টিকও মানানসই। আর চোখের সাজ হালকা হলে গাঢ় লিপস্টিক বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সন্ধ্যার সাজে বেজ মেকআপ দিনের থেকে একটু ভারি করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত কিছু নয়। কারণ এই গরম আর বৃষ্টি মেলানো আবহাওয়ায় ঘেমে মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয় তো থাকছেই। এক্ষত্রে অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ বেছে নিতে হবে।
চোখে নীল, সবুজ, মেরুন, বাদামি, কালো ইত্যাদি রংয়ের শ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। আর সন্ধ্যার সাজে শিমার শ্যাডোও বেশ মানানসই।
তবে চোখের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ঠোঁট রাঙাতে হবে। সন্ধ্যায় কিছুটা গাঢ় লিপস্টিক ভালো মানায়। সেক্ষেত্রে চোখে স্মোকি লুক বা ন্যুড কালারের বিভিন্ন শেডের শ্যাডো ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। আর চোখে উজ্জ্বল শ্যাডো ব্যবহার করলে অবশ্যই ঠোঁটে হালকা রংয়ের লিপস্টিক দেয়া চাই।

সন্ধ্যার সাজে গালে ব্ল­াশ-অন এবং হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন মনমতো।
দু’বেলার সাজ শেষেই খানিকটা সেটিং স্প্রে ছিটিয়ে নেওয়া যায়। এতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে।