রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / নারীর প্রতি সহিংসতা : রুখে দাঁড়াতে হবে
০৯/০৬/২০১৬

নারীর প্রতি সহিংসতা : রুখে দাঁড়াতে হবে

- তাসমিমা হোসেন

অনন্যার এবারের ঈদুল আজহা সংখ্যায় থাকছে বিষয়বৈচিত্র্য। বিশেষ সংযোজন ২০১৫ সালের অনন্যা শীর্ষদশ প্রাপ্ত বিশিষ্ট নারীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান ও সমাজপ্রগতি অর্জনে তাঁদের বলিষ্ঠ অবদানের প্রসঙ্গ। সমাজের পশ্চাৎপদতা, গোঁড়ামি, কুসংস্কার দূর করার লড়াইয়ে তাঁরা ব্যাপৃত। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের সম্মানিত করা হলো গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সেই ১৯৯৩ সালে কৃতী নারীদের সম্মাননা প্রদানের প্রয়াস শুরু হয়েছিল আমাদের। তার প্রায় দুই যুগপূর্তি হতে চলেছে। অনন্যা’র ২৮ বছরের পথযাত্রায় ২২ বছর ধরে আমরা প্রতিবছর নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট দশ নারীকে সম্মাননা প্রদান করে আসছি। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা। এ পর্যন্ত মোট ২২০ জন কৃতী নারীকে আমরা সম্মানিত করেছি।

গত সাত আট বছর ধরে নারীর অবদানের ক্ষেত্র, চারিত্র্যবৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়েছে। তরুণীরা এগিয়ে আসছেন অপ্রচলিত ক্ষেত্রেও। ভিন্ন ধরনের পেশায় যুক্ত হচ্ছেন নারীরা। পরিচয় ও প্রমাণ দিচ্ছেন তাদের যোগ্যতা, মেধা একাগ্রতা ও নিষ্ঠার। যেমন ব্যবসা, প্রযুক্তিখাত, ক্ষুদ্রঋণ, সামরিক বিমানচালনা ইত্যাদি। এই ধারার পরিবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সকল বাধা-বিপত্তির উজান ঠেলে নারীসমাজ যখন এগিয়ে চলেছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে সমাজ হচ্ছে সমৃদ্ধ, তখন তাদের উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত করার পরিবর্তে নারীরা শিকার হচ্ছেন নিষ্ঠুর সহিংসতার। নারীলাঞ্ছনা ও পৈশাচিকতার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। নারীর অধিকার হচ্ছে ভূলুণ্ঠিত। এক অশুভ শক্তি যেন নারীর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার হীন চক্রান্তে লিপ্ত।

সাম্প্রতিককালে নারী নির্যাতনের বেশ কিছু নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তনু, রিশাসহ অনেককে। এসব জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করি আমরা। পাষ-দের লালসার শিকার হয়ে যারা অকালে নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারবর্গকে গভীর সমবেদনা জানাই। এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্র ও সরকারের আরো আন্তরিকতা, কার্যকর উদ্যোগ ও দৃঢ়তা আমরা প্রত্যাশা করি। শুধু সরকারের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক আন্দোলন।

ইতোমধ্যেই অনন্যার বিশেষ রেসিপি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। গল্প, কবিতা, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, সংগীত, যুদ্ধশিশু, পাখির প্রসঙ্গসহ নানা ধরনের লেখা নিয়ে বর্ধিত কলেবরে বেরুলো ঈদসংখ্যা। সেজন্যে ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সংখ্যা প্রকাশিত হবে না।

ঈদুল আজহার মূল মর্মবাণী হলো ত্যাগ। নারীরা মা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে, বোন হিসেবে, সংসারের কর্ত্রী হিসেবে সব সময়ই সংসারে ত্যাগী ভূমিকা পালন করেন। আমরা যেন সেই ত্যাগের কথা বিস্মৃত না হই, অকুণ্ঠচিত্তে তাদের উপযুক্ত সম্মান দিই।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।