মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / খাবার-দাবার / কোরবানি ঈদ স্পেশাল রেসিপিঃ ফারাহ তানজীন সুবর্ণা
০৯/০১/২০১৬

কোরবানি ঈদ স্পেশাল রেসিপিঃ ফারাহ তানজীন সুবর্ণা

-

নিত্যনতুন রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে রান্না সুবর্ণার কাছে রান্না এখন এক বিশেষ শখে পরিণত হয়েছে। তবে ফিউশনধর্মী রেসিপিতেই তার আগ্রহ বেশি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফারাহ তানজিন সুবর্ণা দিয়েছেন একটি ফুল মিলের রেসিপি, যা অবশ্যই পাঠকের ঈদের দিনের মেন্যুতে জায়গা করে নিতে পারে।

ম্যাঙ্গো কোলাডা

উপকরণ
পাকা আম- ১ কাপ
আনারসের জুস- ২ কাপ
ডাবের পানি- ১ কাপ
ডাবের নরম শাঁস- ২ টেবিল চামচ
লেবুর রস- ১ চা চামচ
চিনি স্বাদমতো
বরফ প্রয়োজনমতো

প্রণালি
উল্লিখিত সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। আম/আনারসের টুকরো, পুদিনাপাতা বা লেবু দিয়ে সাজিয়ে নিন। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

কিমা-মটর পোলাও

উপকরণ
বাসমতি বা কালিজিরা চাল- ২কাপ
গরুর কিমা- ৫০০ গ্রাম
মটরশুঁটি- ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি- ১কাপ
পেঁয়াজবাটা- আধাকাপ
আদাবাটা- দেড় টেবিল চামচ
রসুনবাটা- ১ চা চামচ, জিরাগুঁড়ো- ১ চা চামচ
হলুদগুঁড়ো- আধা চা চামচ
মরিচগুঁড়ো- আধা চা চামচ
গরম মসলাগুঁড়ো- ১ চা চামচ
আস্ত গরম মসলা- দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ প্রতিটি ৩টা করে (আস্ত)
তেজপাতা- ২/৩টা, আস্ত কাঁচামরিচ- ৭/৮টা
টক দই- ২ টেবিল চামচ, চিনি- আধা চা চামচ
তেল- ১/৩ কাপ, ঘি- আধাকাপ
লবণ স্বাদমতো, পানি প্রয়োজনমতো

প্রণালি
প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ, তেজপাতা আর দারুচিনি দিয়ে হালকা করে ভেজে প্রথমে মরিচগুঁড়া দিয়ে ১ মিনিট ভেজে তারপর একে একে পেঁয়াজবাটা, হলুদ জিরা গুঁড়া, আদা রসুন বাটা আর লবণ দিয়ে কষিয়ে কিমা দিয়ে দিতে হবে। কিমার গায়ের পানি না শুকানো পর্যন্ত কষাতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে ফেটানো টক দই আর অল্প গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। কিমা সুসিদ্ধ হয়ে গেলে গরম মসলার গুঁড়া আর আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে দমে রেখে দিতে হবে। ঝোল থকথকে হয়ে তেল উপরে উঠে এলে নামিয়ে নিতে হবে।
বাসমতি চাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর প্যানে ঘি গরম করে মিহি করে কাটা পেঁয়াজ ভেজে বেরেস্তা করে তুলে রাখতে হবে। বেরেস্তা ভাজা ঘিতেই মটরশুঁটি হালকা ভেজে তুলে রাখতে হবে। সেই একই প্যানে বাকি ঘি গরম করে আস্ত গরম মসলা আর তেজপাতার ফোড়ন দিয়ে তা থেকে সুঘ্রাণ ছড়ালে পানি ঝরানো বাসমতি চাল দিয়ে ৪/৫ মিনিট ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে প্রয়োজনমতো ফুটন্ত গরম পানি আর লবণ দিয়ে ঢেকে দিন। পানি আর চাল এক সমান হয়ে এলে রান্না করা কিমা উপরে বিছিয়ে পোলাও দমে বসিয়ে দিতে হবে। পোলাও রান্না হয়ে গেলে মটরশুঁটি আর বেরেস্তা দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে কিমা আর মটরশুঁটি পোলাওয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। চাইলে এই পোলাও-এ অল্প পুদিনাপাতা বা ধনেপাতাও দিতে পারেন।

চিকেন চিজ কাবাব

উপকরণ :
মুরগির বুকের মাংস- ৩ টুকরো
পেঁয়াজ- ১টা (বড় আকারের। কুচি করে কাটা)
মোজ্জারেলা চিজ- আধাকাপ, শ্রেডেড
আদাবাটা- আধা চা চামচ
রসুনবাটা- ১/৩ চা চামচ
মরিচগুঁড়ো- আধা চা চামচ
জিরাগুঁড়ো- ১/৩ চা চামচ
গরম মসলাগুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
কাঁচামরিচ- ১টা (স্বাদমতো)
ধনেপাতা কুচি- ১ চা চামচ
ডিম- ১টা
ব্রেডক্রাম্ব বা বিস্কুটের গুঁড়ো প্রয়োজনমতো
লবণ স্বাদমতো
তেল ভাজার জন্য

প্রণালি :
হাড় ছাড়ানো মুরগির বুকের মাংস মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। একটা প্যানে অল্প তেল দিয়ে একে একে পেঁয়াজ মরিচকুচি, আদা-রসুনবাটা, মরিচ-জিরা-গরম মসলা গুঁড়ো, ধনেপাতা আর স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভাজা ভাজা করে নামিয়ে ঠান্ডা করে মুরগির মাংসের পেস্টের সঙ্গে ভালো করে মেখে নিতে হবে। এরপর দু’হাত পানিতে ভিজিয়ে মাখানো মুরগির মাংসের মিশ্রণ থেকে বল আকারে তৈরি করে নিন।
মাঝে খানিকটা গর্ত করে চিজের পুর ভরে ভালো করে মুখ বন্ধ করে কাবাবের আকার দিয়ে (একটু পাতলা/ফ্ল্যাট করে বানাতে হবে) ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে তারপর ব্রেডক্রাম্বে গড়িয়ে ফ্রিজে ঘণ্টাদুয়েক রাখুন। তারপর গরম তেলে কম আঁচে দুই দিক সোনালি করে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার চিকেন চিজ কাবাব। পরোটা, পোলাওয়ের সঙ্গে বা স্ন্যাক্স হিসাবে এটি অনন্য।

ফ্রাইড ভুঁড়ি

উপকরণ
গরুর ভুঁড়ি- ৫০০ গ্রাম, ছোট করে কাটা
পেঁয়াজ- ১টা, বড়
আদাবাটা- ১ চা চামচ
রসুনবাটা- ১/২ চা চামচ
মরিচগুঁড়া- ১ চা চামচ
হলুদগুঁড়া- ১/২ চা চামচ
গরম মসলাগুঁড়া- ১/২ চা চামচ
জায়ফল, জয়ত্রী আর শাহী জিরা ১ চিমটি করে
আস্ত গরম মসলা প্রতিটা ৩ টুকরো করে
তেজপাতা- ৪টা
টক দই- ১ টেবিল চামচ
পোস্তবাটা- ১ চা চামচ
পানি- ১/৩ কাপ
তেল- আধা কাপ

প্রণালি
কিউব করে কাটা ভুঁড়ি, আস্ত গরম মসলা আর ২টা তেজপাতা দিয়ে ১ লিটার পানিতে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে পানি ছেঁকে ও গরম মসলা দিয়ে রাখতে হবে। পেঁয়াজ, আদা-রসুনবাটা, হলুদ-মরিচগুঁড়া, এক চিমটি করে জায়ফল, জয়ত্রী, শাহি জিরা, পোস্ত, টকদই আর পানি ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর প্রেশার কুকারে অর্ধেকটা তেল দিয়ে ব্লেন্ড করে রাখা মিশ্রণটা দিয়ে ২/৩ মিনিট কষিয়ে সিদ্ধ করে রাখা গরুর ভুঁড়ি দিয়ে দিয়ে দিন। লবণ আর গরম মসলার গুঁড়াও একই সঙ্গে দিয়ে দিতে হবে। তারপর প্রেশার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে একদম কম আঁচে চুলায় রেখে দিন।
৩০ মিনিট পর প্রেশার কুকারের ঢাকনা খুলে দেখুন ভুঁড়ি সিদ্ধ হয়েছে কিনা। সিদ্ধ না হলে ঢাকনা দিয়ে আর মিনিট দশেক রাখতে হবে। তারপর ঢাকনা খুলে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিন। পানি একদম শুকিয়ে নামিয়ে ফেলুন। তারপর একটা ফ্রাইংপ্যানে বাকি তেল গরম করে রান্না ভুঁড়িটা দিয়ে দিয়ে ভাজা ভাজা করে নামিয়ে পরোটা, সাদা ভাত বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন। ভুঁড়ি ভাজার সময় তেলের অনেক ছিটে আসে। তাই ঢেকে দিতে হবে। পরে ঢাকনা সরিয়ে নিতে হবে।

পাইন অ্যাপেল বিফ

উপকরণ
গরুর মাংস- ৫০০ গ্রাম, হাড় ছাড়া
আনারস- ২০০ গ্রাম
দেশি পেঁয়াজ- ৮/১০টা(ছোট আকারের, আস্ত)
রসুনের কোয়া- ১৪/১৫টা (আস্ত)
আদাবাটা- ১ টেবিল চামচ
হলুদগুঁড়ো- আধা চা চামচ
মরিচগুঁড়ো- আধা চা চামচ
নারকেল দুধ- ১ কাপ
আস্ত কাঁচামরিচ- ৭/৮টা
তেল- ৩ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদমতো

প্রণালি
হাড় ছাড়া গরুর মাংস চর্বি আর পর্দা ফেলে লম্বা স্ট্রিপ আকারে কেটে নিতে হবে। আনারসও একইভাবে কেটে রাখতে হবে। প্যানে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে গরুর মাংস আঁচ বাড়িয়ে ভেজে নিন। তারপর আদাবাটা, হলুদ, মরিচগুঁড়ো আর লবণ দিয়ে কষিয়ে গরম পানি দিয়ে পাতলা করে নারকেল দুধ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। মাংস ৯০%-এর মতো সিদ্ধ হয়ে এলে আলাদা একটি প্যানে ১ টেবিল চামচ তেল গরম করে আস্ত পেঁয়াজ আর রসুনগুলো হালকা ভেজে সিদ্ধ মাংসের মধ্যে দিতে হবে। পেঁয়াজ আর রসুন সুসিদ্ধ হয়ে গেলে আনারস আর আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে ৪/৫ মিনিট রেখে হালকা গ্রেভিসহ নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মাহালাবিয়া

উপকরণ
তরল দুধ- ১লিটার
কর্নফ্লাওয়ার- ৫ টেবিল চামচ
হুইপড ক্রিম- ১ কাপ
চিনি- ৩/৪ কাপ
গোলাপ পানি- ১ টেবিল চামচ
এলাচগুঁড়ো- ১ চা চামচ
পেস্তা বাদামকুচি সাজানোর জন্য

প্রণালি
৩ কাপ দুধ আর চিনি একটা ননস্টিক পাত্রে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দুধ পাত্রের নিচে লেগে পুড়ে না যায়। বাকি এক কাপ দুধে সবটুকু কর্নফ্লাওয়ার ভালো করে গুলিয়ে রাখতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে গুলিয়ে রাখা দুধ-কর্নফ্লাওয়ারের মিশ্রণ ফুটন্ত দুধে আস্তে আস্তে ঢেলে চামচ দিয়ে দ্রুত মিশিয়ে নিন। নয়তো দলা পাকিয়ে যেতে পারে। তারপর জ্বাল দিয়ে কাস্টার্ডের মতো ঘন করে নামিয়ে নিতে হবে। একটু ঠান্ডা হলে গোলাপ পানি, এলাচগুঁড়ো আর হুইপড ক্রিম মিশিয়ে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে উপরে পেস্তা বাদামকুচি ছড়িয়ে ফ্রিজে ৩-৪ ঘণ্টা (সম্ভব হলে পুরো রাত) রেখে ঠান্ডা ঠান্ড পরিবেশন করতে হবে।