মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / খাবার-দাবার / কোরবানি ঈদ স্পেশাল রেসিপিঃ লিভা চৌধুরী
০৯/০১/২০১৬

কোরবানি ঈদ স্পেশাল রেসিপিঃ লিভা চৌধুরী

-

ভূরিভোজ হোক আর সাধারণ খাবার-দাবারই হোক, শেষপাতে বাঙালির মিষ্টি না হলে চলেই না। আর ঈদের দিনে তো ডেজার্ট খুবই দরকার। লন্ডন প্রবাসী শৌখিন রাঁধুনি লিভা চৌধুরী পাঠকদের জন্য দিয়েছেন বেশ কয়েকটি মজাদার মিষ্টির রেসিপি।

স্পঞ্জ রসগোল্লা

উপকরণ
দুধ- ২ লিটার
কর্নফ্লাওয়ার- ২ চা চামচ (সমান করে)
সিরার জন্য-
চিনি- ৩ কাপ
পানি- ৮ কাপ।

প্রণালি
২ লিটার দুধের ছানা করে এতে ২ চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে খুব ভালো করে মথে নিতে হবে। ১৬-১৮ মসৃণ বল করে নিন। ৮ কাপ পানির ৩ কাপ চিনির পাতলা সিরা তৈরি করে নিন। সিরা ফুটে উঠলে মিষ্টি দিয়ে দিন এবং ১৫ মিনিট ঢাকনা দিয়ে উচ্চতাপে জ্বাল দিন। তারপর চুলা বন্ধ করে মিষ্টিগুলো ৪/৫ ঘণ্টা সিরায় রেখে দিন। ব্যস, স্পঞ্জ রসগোল্লা তৈরি হয়ে গেল। টাটকা স্পঞ্জ রসগোল্লার মজাই আলাদা।

ক্যারট ডিলাইট

উপকরণ
মিষ্টির জন্য-
ঘি- ২ চা চামচ
ছানা- ১ কাপ
সুজি- ২ চা চামচ
এলাচ গুঁড়ো- ১ চিমটি
চিনি- ১/৩ কাপ (মিষ্টি অনুযায়ী)
হালুয়ার জন্য-
গাজর- ৬টি, মিডিয়াম সাইজের
ঘি- ১ টেবিল চামচ
এলাচ, দারুচিনি- ২/৩টি
তেজপাতা- ২/৩টি
ছানা- ২ টেবিল চামচ (মিষ্টির ছানা থেকে তুলে রাখবেন)
গুঁড়োদুধ- ১/৪ কাপ
চিনি- ১/৩ কাপ
গোলাপজল কয়েক ফোঁটা
পেস্তাবাদাম পছন্দমতো

প্রণালি
প্রথমে প্যানে ঘি দিয়ে মিষ্টির সব উপকরণ দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে নামিয়ে নেবেন। খেয়াল রাখবেন, যদি দানা দানা থাকে তাহলে হাত দিয়ে ভেঙে মসৃণ করে নেবেন। তারপর সসেজ-এর শেপ করে রাখবেন। আর একটি প্যানে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে তেজপাতা দেবেন। তারপর গাজর দিয়ে দারুচিনি-এলাচ দিয়ে গাজরটাকে ভেজে নেবেন কিছুক্ষণ। গাজর ভাজা হয়ে গেলে চিনি, ছানা, গুঁড়োদুধ দিয়ে নাড়বেন। পানি শুকিয়ে নামাতে হবে আগে গোলাপ জল ও পেস্তাবাদাম কুচি দিয়ে নামিয়ে নেবেন। একটু ঠান্ডা হলে ফয়েল পেপারে হালুয়াটা বিছিয়ে নেবেন। তারপর ছানার সসেজটাকে হালুয়ার উপর দিয়ে মুড়িয়ে নেবেন। তারপর ২ ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রেখে দেবেন। একটু শক্ত হয়ে গেলে পিস পিস করে কেটে পরিবেশন করুন ক্যারট ডিলাইট।

চকো গুলাবজামুন

উপকরণ
গুঁড়োদুধ- আধা কাপ থেকে ১ টেবিল চামচ কম (নিডো হলে ভালো)
ময়দা- সিকি কাপ (১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ)
কোকো পাউডার- আধা টেবিল চামচ
ঘি- ১ টেবিল চামচ
ডিম- ১টি
বেকিং পাউডার- ১ চা চামচ
পেস্তাবাদাম কুচি পরিবেশনের জন্য
সিরার জন্য-
চিনি- দেড় কাপ
পানি- সাড়ে ৩ কাপ
এলাচি- ৪/৫টি
গোলাপ জল- ১ চা চামচ

প্রণালি
গুঁড়ো দুধ, ময়দা, বেকিং পাউডার, চকলেট পাউডার, কোকো পাউডার একটা তারের চালনিতে চেলে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে খুব ভালো করে মেখে নিন। তারপর ডিমটা ভালো করে মেখে ১০টি ছোট বল করে নিতে হবে। বাইরে থেকে খুব মসৃণ বল হবে।
২ কাপ তেল প্যানে নিয়ে মিষ্টিগুলো দিয়ে খুব অল্প আঁচে ভেজে নিতে হবে। চিনি, পানি, এলাচি, গোলাপ জল দিয়ে পাতলা সিরা করে মিষ্টিগুলো দিয়ে ১০-১২ মিনিট জ্বাল দিতে হবে। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

ক্রিম জ্যাম

উপকরণ
ছানা- আধা কাপ
ময়দা- ২ টেবিল চামচ
গুঁড়াদুধ- ২ টেবিল চামচ
বেকিং পাউডার- আধা চা চামচ
ঘি- ১ টেবিল চামচ
ডিম- ১টি
এলাচিগুঁড়া- ১ চিমটি
সিরা তৈরির জন্য-
চিনি- ২ কাপ
পানি- ৪ কাপ

প্রণালি
প্রথমে শুকনো উপকরণগুলো সব একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ছানার সঙ্গে শুকনো উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে ঘি দিয়ে মেখে নিতে হবে। এবার ডিম দিয়ে ছানার সঙ্গে মেখে ডো করে নিতে হবে। (যদি ডোটা খুব বেশি আঠালো হয়, তাহলে কিছুক্ষণ রেফ্রিজারেটরে রেখে দিলে ঠিক হয়ে যাবে) তারপর ডো-টা দিয়ে ছোট আকারে গোল গোল করে মিষ্টি বানিয়ে নিতে হবে।
একটি হাঁড়িতে সিরা তৈরির উপকরণগুলো জ্বাল দিতে হবে। এরপর খুব অল্প আঁচে ডুবোতেলে বানানো মিষ্টিগুলো হালকা বাদামি রং করে ভেজে ফুটন্ত সিরায় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে ১২ মিনিটের জন্য। তারপর ঢাকনা খুলে আরও ৭/৮ মিনিট জ্বাল দিতে হবে। এবার ৪ টেবিল চামচ পাউডার মিল্ক, ২ টেবিল চামচ এভাপোরেটেড মিল্ক, এক চিমটি এলাচগুঁড়ো দিয়ে খুব ভালো করে মেখে ক্ষীরসা করে নিতে হবে। মিষ্টিগুলো মাঝখান থেকে কেটে এই ক্ষীরসাটা মিষ্টির মাঝখানে দিতে হবে। শুকনো নারকেল আর পেস্তাবাদাম কুচি দিয়ে ডেকোরেশন করে পরিবেশন করতে হবে।

পোড়াবাড়ির চমচম

উপকরণ
দুধ- ২ লিটার
ময়দা- ২ চা চামচ (সমান করে)
সিরার জন্য-
চিনি- ৩ কাপ
পানি- ৫ কাপ
ক্যারামেল তৈরির জন্য-
চিনি- ২/৩ টেবিল চামচ
পানি সামান্য

প্রণালি
২ লিটার দুধ থেকে ছানা তৈরি করে ছানা থেকে সব পানি বের করে নিন। তারপর ময়দা দিয়ে ভালোভাবে মথে নিন। ছানার খামির ১৮ ভাগে ভাগ করে, চমচমের আকার তৈরি করে নিন।
ক্যারামেল তৈরি-
একটি ভারী সসপ্যান চিনি ছিটিয়ে মৃদু আঁচে চুলায় দিন। চিনি গলে রং ধরতে আরম্ভ করলে সসপ্যান ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সুন্দর বাদামি লাল রং করুন। এবার সামান্য পানি দিয়ে নাড়ুন। ক্যারামেল পানিতে গুলে গেলে নামিয়ে রাখুন। এবার সিরা তৈরি করে নিন। একটা ছড়ানো সসপ্যানে ৩ কাপ পানি ও ৫ কাপ পানি দিয়ে জ্বাল দিন। সিরা ফুটে উঠলে আরও কিছুক্ষণ রেখে একটু ঘন সিরা তৈরি করে নিন।
এবার ফুটন্ত সিরার মধ্যে সবগুলো চমচম একসঙ্গে ঢেকে দিন। চুলার আঁচ বাড়িয়ে ১৫ মিনিট এভাবে রাখুন। ১৫ মিনিট পর ঢাকনা তুলে তৈরি করে রাখা ক্যারামেল মিষ্টির উপর ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা ছাড়া আরও ১৫ মিনিট এভাবে মিষ্টিগুলো চুলার মধ্যে রাখুন। এভাবে যদি সিরার পানি বেশি শুকিয়ে যায়, তাহলে অল্প পানি মিষ্টির উপর ছড়িয়ে দিতে পারেন। এখন চুলা বন্ধ করে কয়েক ঘণ্টার জন্য মিষ্টিগুলো সিরার মধ্যে রেখে দিন। ইচ্ছে হলে সিরা থেকে চমচমগুলো তুলে মাওয়ায় গড়িয়েও নিতে পারেন। ব্যস, পোড়াবাড়ির চমচম তৈরি।

বালুশাই

উপকরণ
ময়দা- ১ কাপ
পানি- ৩/৪ কাপ
তেল- হাফ কাপ
বেকিং পাউডার- ২ চামচ
মিল্ক পাউডার- ৩/৪ টেবিল চামচ
জায়ফল জয়ত্রি গুঁড়া- সামান্য
ঘি- ২ চা চামচ
ভাজার জন্য তেল

প্রণালি
প্রথমে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ডো তৈরি নিন।

ভিতরে পুর দিয়ে বালুশাই-এর শেপ দিন।
অল্প আঁচে ব্রাউন করে ভেজে তুলুন।

২ কাপ চিনি, ৩/৪ কাপ পানিতে ঘন সিরা করে গরম গরম বালুশাই সিরায় ২/৩ মিনিট ভিজিয়ে তুলে ন।

মাওয়ায় গড়িয়ে সার্ভ করুন।


গুলাবজামুন

উপকরণ
গুঁড়ো দুধ- আধা কাপ
ময়দা- সিকি কাপ (১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ)
ঘি- ১ টেবিল চামচ
ডিম- ১ টি
বেকিং পাউডার- ১ চা চামচ
পেস্তাবাদাম কুচি পরিবেশনের জন্য

সিরার জন্য-
চিনি- ৩ কাপ
পানি- ৫ কাপ
এলাচি- ৪/৫টি
গোলাপজল- ১ চা চামচ

প্রণালি
গুঁড়োদুধ, ময়দা, বেকিং পাউডার একটা তারের চালনিতে চেলে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে খুব ভালো করে মেখে নিন। তারপর ডিমটা ভালো করে মেখে ১০টি ছোট বল করে নিতে হবে। বাইরে থেকে খুব মসৃণ বল হবে। ২ কাপ তেল প্যানে নিয়ে মিষ্টিগুলো দিয়ে খুব অল্প আঁচে ভেজে নিন। চিনি, পানি, এলাচি দিয়ে পাতলা সিরা করে মিষ্টিগুলো দিয়ে ১০-১২ মিনিট ঢেকে জ¦াল দিতে হবে। এবার অল্প আঁচে আরো ১০ মিনিট ঢাকনাছাড়া জ¦াল দিন। নামানোর আগে গোলাপজল ছিটিয়ে মিষ্টিগুলো সিরায় ২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

ক্ষীর টোস্ট

উপকরণ
ছানা- ১ কাপ
সুজি- আধা চা চামচ
ময়দা- আধা চা চামচ
চিনি- ৪ কাপ
পানি- ৩.৫ কাপ
পাউডার মিল্ক- ৪ টেবিল চামচ
এভাপোরেটেড মিল্ক- ২ টেবিল চামচ
এলাচগুঁড়া- এক চিমটি

প্রণালি
ছানা, সুজি, ময়দা ও ২ চা চামচ চিনি দিয়ে খুব ভালো করে মেখে নিতে হবে। ১.৫ কাপ চিনি, ৩.৫ কাপ পানি দিয়ে পাতলা করে চিনির সিরা করে বলক আসার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি দিয়ে ঢেকে দিন। মিষ্টি প্রায় ডাবল সাইজ হয়ে যাবে ১০ মিনিট পরে। এরপর ঢাকনা খুলে আরো ১০ মিনিট রান্না করুন। এরপর মিষ্টিগুলো সিরায় রেখে দিন। সিরা ঠান্ডা হলে মিষ্টিগুলো একটা তারের চালনিতে রেখে দিন কিছুক্ষণের জন্য। মিষ্টিগুলো মাঝখান থেকে কেটে পাউডার মিল্ক, এভাপোরেটেড মিল্ক, এলাচগুঁড়ো দিয়ে খুব ভালো করে মেখে ক্ষীরসা করে নিতে হবে। এই ক্ষীরসাটা মিষ্টির মাঝখানে দিন। তৈরি হয়ে গেল ক্ষীর টোস্ট।