শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / রেড মিটের দোষগুণ ও স্বাস্থ্য সতর্কতা
০৯/০১/২০১৬

রেড মিটের দোষগুণ ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

- রিদোয়ান

কোরবানির ঈদে স্বাভাবিকভাবেই খাবারের প্লেটে গরু-খাসি থেকে শুরু করে মাংসের বাহারি পদের নানা সমারোহ দেখা যাবে। লাল মাংসের নানা গুণ থাকলেও রয়েছে বেশ কিছু খারাপ দিকও যা অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আসুন জেনে নিই, কোরবানির মাংসের কিছু ভালো-মন্দ দিক ও সেই সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্য টিপস।

১) লাল মাংস বা রেড মিট জিংক, আয়রন এবং প্রোটিনের উৎস। শিশুদের দৈহিক গড়নের জন্য জিংক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন শরীরে রক্তশূন্যতা কমায়। অন্যদিকে প্রোটিন শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধির জন্য দরকারি।
২) গরুর মাংসে রয়েছে বি ১২, বি ৬ এবং বিরোফ্রাবিন, যা শরীরে শক্তি সরবরাহ করে। এছাড়া এই মাংসে বিদ্যমান ফসফরাস মজবুত হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য জরুরি।
৩) গরুর মাংসে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম ও ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই বেশি পরিমাণে খেলে উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত সমস্যা হতে পারে।
৪) লাল মাংসের চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করা হলে স্বাস্থ্য-ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। মাংস থেকে চর্বি সরানোর কার্যকর উপায় হচ্ছে তা প্রথমে গরম পানিতে বেশ কিছুক্ষণ চুবিয়ে তারপর কম তেলে রান্না করা।
৫) অনেকেরই মাংসের সঙ্গে অতিরিক্ত ঝোল খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু ঝোলে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই যতটা সম্ভব ঝোল এড়িয়ে মাংসের টুকরো খান।

৬) কোরবানির মাংসের সঙ্গে বেশি করে শাক-সবজি এবং সালাদ খান। সবজি ও সালাদ খেলে লাল মাংসের চর্বি সহজে শরীরে জমাট বাঁধবে না।
৭) গরু-খাসি কিংবা অন্যান্য লাল মাংস রান্না করার সময় অতিরিক্ত তেল-ঘি ব্যবহার করা চলবে না। অতিরিক্ত তেল-চর্বি বা ঘি রান্নার স্বাদ বাড়ালেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৮) কোরবানির ঈদের ছুটির দিনগুলোতে মাংস খেতে হবে পরিমাণমতো। এই সময়টায় প্রায় প্রতিদিনই লাল মাংস খাওয়া হলেও খেয়াল রাখতে হবে দৈনিক মাংস খাওয়ার পরিমাণ যেন ৯০ গ্রামের বেশি না হয়।
৯) কোরবানির ভুনা মাংসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। সেজন্যে এর পরিবর্তে শুকনো কাবাব খান। তবে এ সময়টায় কোমল পানীয় বা মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো।
১০) লাল মাংস খেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এর ফলে আপনার দেহের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবে এবং শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড জমবে না।
১১) কোরবানি ঈদের ছুটির দিনগুলোতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে হাঁঁটুন। এতে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমবে না। দৌড়ালেও বেশ উপকার পাবেন।
১২) যাদের কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে, তারা ঈদে নিয়মিত লাল মাংস খাওয়ার আগে ও পরে অবশ্যই প্রেসার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন। হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকলে লাল মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো।

এইসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ঈদে পেটভরে মাংস খেলেও স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যাবে। তবে যারা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।