বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / ঝগড়াতে যা বলতে নেই
০৮/১৬/২০১৬

ঝগড়াতে যা বলতে নেই

- অদ্বিতী

মাঝেমধ্যে খুনসুটি না হলে কি আর সম্পর্কের মিষ্টতা থাকে? মাঝেমধ্যে হালকা ঝগড়া সম্পর্ককে আরও পাকাপোক্ত করে। তবে ঝগড়ার সময় কিছু কথা পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত, নয়তো তা তিক্ততার সৃষ্টি করবে। ।

রাগের মাথায় কিছু কথা সঙ্গীর মনে আঘাত দিতে পারে, যা ঝগড়া চলাকালীন বোঝা যায় না। তাই যত রাগ নিয়েই তর্কাতর্কি করুন না কেন, মুখ ফসকেও কিছু কথা কখনও বলতে নেই।

‘তোমার দোষ’

ঝগড়ার সময় সঙ্গীর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া খুবই কমন। এমন পরিস্থিতিতে একজন আরেকজনের ঘাড়ে দোষ চাপাতেই থাকে। এতে সমস্যা আরো ঘোলাটে হয়ে যায়। আরেকজনের উপর দোষ চাপানোর বদলে মূল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। এক্ষেত্রে সমস্যার সূত্রপাত কোথায়, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি সঙ্গীর কোন ব্যবহার খারাপ লাগছে, সেই বিষয়গুলো নিয়েও আলাপ করে ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া উচিত।
‘তুমি গত সপ্তাহে একই কাজ করেছিলে’

সঙ্গী কবে কি ভুল করেছিল, তা উল্লেখ করে ঝগড়া টেনে নিয়ে যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনার কোনো ভুলের কারণে যদি ঝগড়া শুরু হয়, সঙ্গী যদি একই ভুল আগে করে থাকে, তাও নতুন করে তুলে ধরা ঠিক নয়। বরং এই বিষয়গুলো সমঝতার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। আর পুরানো ঝগড়ার কারণ পুনরায় টেনে আনা মানে আপনি ওই বিষয়টি মন থেকে ক্ষমা করতে পারেননি। এক্ষেত্রে পুরানো ঝগড়া পুরোপুরি মিটিয়ে নেয়া জরুরি।

‘আমি এই সম্পর্ক রাখতে চাই না’

সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাওয়াও খারাপ পরিণতির দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একবার মুখ ফসকে এ ধরনের কথা বের হয়ে গেলে পরে যতবারই ‘সরি’ বলুন না কেন, যে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তা সারিয়ে তোলা কঠিন। তাই যতই রেগে থাকুন না কেন, এই ধরনের কথা কখনওই বলবেন না।
ব্যক্তিত্বে আঘাত দিয়ে কথা বলা

কোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলা খুবই অপমানজনক। যত আপন মানুষই হোক না কেন, ব্যক্তিত্ব তুলে কথা বলা খুবই ক্ষতিকর। এতে সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরতে পারে।

‘আমি এখনই কথা বলতে চাই’

এই বাক্যটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ সঙ্গী যদি কথা বলতে না চায়, তার মানে সে মাথা গরম অবস্থায় কোনো বেফাঁস কথা বলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে চাইছে না। সেক্ষেত্রে জোর করে কথা বলতে চাইলে ঝগড়া মিটমাট করার বদলে সমস্যা আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে।

এগুলো তো ছিল কি করা উচিত নয় তার একটি তালিকা। কিন্তু ঝগড়া তো আর পুষে রাখা যাবে না। এই মনোমালিন্য মিটিয়ে নিতে হবে যতটা সম্ভব দ্রুত। এক্ষেত্রেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

ঝগড়ার কারণ মিটমাট করে তবেই সন্ধি

একটা বিচ্ছিরি ঝগড়ার পরে স্বাভাবিক হওয়া আসলেই খুব কষ্টকর। তবে যে কারণে ঝগড়া, সেই বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত সন্ধি করলে সেটা পরবর্তীকালে নতুন করে ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটাবে।

সময় দেওয়া

ঝগড়ার পরে তা মিটিয়ে নিতে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। দুই পক্ষকেই শান্ত হওয়ার জন্য সময় নেওয়া উচিত। যে-কোনো সমস্যা সময় নিয়ে ভাবলে সেটা সহজ এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে আসে। এর পরে মিলমিশের কথা ভাবা প্রয়োজন।

কোনো এক পক্ষ যদি একটু রগচটা হন, তবে তাকে শান্ত হতে সময় দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। তখনই তার সঙ্গে কথা চালিয়ে গেলে সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে।

ঝগড়াই মুখ্য নয়

অনেক সময় আমরা ভুলে যাই ঝগড়াটা আসলে কী নিয়ে শুরু হয়েছিল। তখন মূল সমস্যা মেটানোর চেয়ে ঝগড়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েই বা ঝগড়াতে জেতাই বড় হয়ে যায়। এটা সম্পর্কের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে যেটা সবচেয়ে খারাপ হয়, তা হচ্ছে ঝগড়া মিটে যাওয়ার পরেও রাগের মাথায় বলা কটু কথা সম্পর্কের মাঝে গম্বুজের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে গেলে সব সময় মনে রাখতে হবে, পুরানো সমস্যা খুঁচিয়ে ঝগড়া করা শেষ পর্যন্ত কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না।

ঝগড়া সম্পর্কের একটি অংশ মাত্র, মুখ্য কোনো বিষয় নয়। ঝগড়া টেনে বড় করার থেকে যতটা সম্ভব মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।