বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / ঘরে বসেই ওয়্যাক্সিং
০৮/১৬/২০১৬

ঘরে বসেই ওয়্যাক্সিং

- ইরা

শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে ওয়্যাক্সিং একটি বেশ পুরানো এবং জনপ্রিয় পন্থা। কিন্তু ঘরে বসে ওয়্যাক্সিং করার পদ্ধতি অনেকেরই জানা নেই। আবার পার্লারে গিয়ে ওয়্যাক্সিং করার মতো সময় হয়ে ওঠে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। ওয়াক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজন আঠালো একটি পদার্থ এবং স্ট্রিপ। আঠালো ওই মিশ্রণটি ঘরেই তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। এই প্রতিবেদনে এর প্রণালি তুলে ধরা হলো।

ধাপ : ১
একটি পাত্রে খানিকটা চিনি নিয়ে চুলায় গরম করতে হবে। এ-সময় অনবরত নাড়তে হবে। চিনি গলে ক্যারামেল তৈরি হবে।
ধাপ : ২
ওই মিশ্রণের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই সময়ও অনবরত নাড়তে হবে, যেন সব উপকরণ মিশে যায়। এছাড়া মিশ্রণটি পর্যাপ্ত আঠালো কিনা, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।
ধাপ : ৩
যদি মিশ্রণ বেশি ঘন হয়ে গেছে বলে মনে হয়, তাহলে সঙ্গে অল্প পরিমাণে পানি মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
ধাপ : ৪
মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিতে হবে এক ঘণ্টার মতো, যেন তাপমাত্রা কমে আসে।
ধাপ : ৫

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চলে এলে একটি টিনের পাত্রে মিশ্রণটি রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। এই মিশ্রণ দিয়ে ঘরে বসেই ওয়্যাক্স করা যাবে। প্রয়োজন হবে স্ট্রিপের।

বাজারে টিনজাত যে মিশ্রণগুলো পাওয়া যায়, তার থেকে ঘরে তৈরি ওয়্যাক্সের মিশ্রণ বেশি উপকারী। ঘরে ওয়্যাক্সিং করার বেশ কিছু উপকারী দিক আছে। সেগুলো হচ্ছে :
* ঘরে তৈরি মিশ্রণে কোনো ধরনের কেমিক্যাল থাকে না, এ-কারণে ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং ত্বক কোমল হয় এবং আলাদা জেল্লা আসে।
* কোনো ধরনের অ্যালার্জি হওয়ারও ঝুঁকি নেই এই মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে।
* ঘরোয়া ওই মিশ্রণ লোমের বৃদ্ধি কমায়। তাই একবার ওয়্যাক্স করার পর আবারো যখন ওয়্যাক্স করবেন, তখনই এর পার্থক্য চোখে পড়বে।
* এই মিশ্রণ ত্বক এক্সফলিয়েট করবে। এতে ত্বক পরিষ্কার থাকবে।

ওয়্যাক্সিংয়ের পর ত্বকের যত্ন

ওয়্যাক্স করার ফলে ত্বক অনেকটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের বাড়তি যতœ নেওয়া প্রয়োজন। ওয়্যাক্স করার পর অবশ্যই ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার মাখা অত্যন্ত জরুরি। এখানে এরই কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো।
ওয়্যাক্স করার পরপরই রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন ওয়্যাক্স করা ত্বকে সরাসরি রোদ না লাগে। এছাড়া অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে ঘর থেকে বেরুতে হবে।

ওয়্যাক্স করার পর গরম পানি দিয়ে গোসল এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে ত্বকের এসেনশিয়াল অয়েল হারাবে।
রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে পুরু করে লোশনের পরত লাগিয়ে নিতে হবে। এতে সারারাত ত্বক ময়েশ্চারাইজড থাকবে।
ওয়্যাক্সিং-এর ফলে অনেক সময় ত্বক চুলকাতে পারে এবং লাল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উপশম পেতে ট্যালকম পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে। বেশি সমস্যা হলে ত্বকে খানিকটা বরফ ঘষে নেওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের জ্বলুনি কমে আসবে।

আরও কিছু টুকিটাকি :
* ওয়্যাক্সিংয়ের আগে ত্বক এক্সফলিয়েট করে নিতে হবে। এতে ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ উঠে যাবে এবং ওয়্যাক্স করা সহজ হবে।
* ওয়্যাক্স করার আগে খানিকটা বেবি পাউডার বুলিয়ে নিতে পারেন। এতে চামড়ায় টান কম পড়বে।
* ওয়্যাক্সিং-এর জন্য লোমের আকার বেশ জরুরি, নতুবা ঠিকমতো উঠে আসবে না। তাই বেশি ছোট অবস্থায় ওয়্যাক্স করা ঠিক নয়। এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না।
* ওয়্যাক্সিং-এর মিশ্রণটির তাপমাত্রা বুঝে নেওয়া জরুরি। কারণ অতিরিক্ত গরম মিশ্রণ ত্বক পুড়িয়ে ফেলতে পারে।
* ওয়্যাক্স স্ট্রিপ টানার সময় পেশি শক্ত করে রাখা উচিত। এতে ব্যথা কম লাগবে।