শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / পেটের মেদ কমাতে চান?
০৮/১৬/২০১৬

পেটের মেদ কমাতে চান?

- নেহেরীন আফনান

সুস্থ, স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় দেহ সবারই আকাক্সিক্ষত। কিন্তু আমাদের আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় অনিয়মিত অভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শারীরিক ব্যায়াম করা হয় না বললেই চলে। এর পরিণতি বেশিরভাগ মানুষেরই চর্বিযুক্ত দেহ এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থূলতার সমস্যা। শরীর মোটা হলে চলাফেরায় কষ্ট হয়, সেই সঙ্গে নষ্ট হয় সৌন্দর্য। অনেকে আছেন খুব বেশি মোটা না, কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু জায়গায় মেদ জমায় তারা খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। কোনো ভালো পোশাক পরলেও ভালো লাগে না।

পেটের মেদ ফিটনেসের অন্তরায়। দেখা যায়, অনেকেরই শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেট বেশি মেদবহুল হয়। ফিটনেসের পুরো কার্যক্রমটিই তখন ভ-ুল হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় খাদ্যনিয়ন্ত্রণে থাকার পরেও অনেকেরই পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেক্ষেত্রে কিছু অনুশীলন রপ্ত করে নিয়মিত চর্চা করা উচিত।

শরীরে সঞ্চিত মেদের ক্ষেত্রে বেলি ফ্যাট হলো সবচেয়ে সাংঘাতিক রকমের মেদ। কারণ এই ধরনের ফ্যাট অত্যধিক হয়ে গেলে তা ক্রমশ শরীরে ভিতরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাবু করে ফেলে। এরফলে স্থূলত্ব, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হজমের সমস্যার মতো নানাবিধ রোগ হতে পারে।
এই ধরনের মেদ শরীরে সর্বদা দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে কোমরের অংশে সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। এই অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটকে যত তাড়াতাড়ি শরীর থেকে বের করে দেওয়া যায়, ততই মঙ্গল।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ধরনের মেদ ঝরানো সবচেয়ে কঠিন। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও পেটের মেদ কমতে চায় না। একটু কমলেও তাতে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। ফলে পেটের মেদ কমাতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন অনেকে। আসলে শরীর থেকে মেদ কমানোর প্রক্রিয়াটা খুবই ধীর।
কিছু সহজ ফ্রি হ্যান্ড অনুশীলনই পারে আপনাকে কাক্সিক্ষত ফল দিতে। এখানে সবচেয়ে কম সময় সাপেক্ষ এবং সবার জন্য উপযোগী কিছু অনুশীলন দেয়া হল; যা খুব সহজেই ঘরে বসে চর্চা করে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নিই, কিভাবে কী করবেন।

* শরীরের উপর চাপ পড়ে এরকম ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এক সপ্তাহে অন্তত চারবার পুশআপ, প্লাঙ্কস, স্কোয়াটস করুন। দ্রুত ওজন হ্রাসের জন্য এগুলো খুবই ফলপ্রসূ। কারণ এগুলো পেট ও পায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
* দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটুন।
* খাওয়ার পরে প্রতিদিন অল্প হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি পেটে মেদ জমা থেকে পরিত্রাণ দেবে।
* দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি আপনার শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখবে। একইসঙ্গে শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বের করে দিতেও সহায়তা করবে।
* জাঙ্ক ফুড এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার, যেমন কুকি, কেক, চিপস ও ক্যান্ডি পরিহার করুন। ধারণা করা হয়, দ্রুত চর্বি কমানোর সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।
* প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার- যেমন সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও শস্যকণা খান।

* প্রতিদিনের সকালটা শুরু হোক লেবুর শরবত দিয়ে। এই পদ্ধতি পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী একটি উপায়। ১ গ্লাসে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে লেবু চিপে শরবত করে সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মেশাবেন না। প্রতিদিন সকালে পানীয়টি পান করুন। এই পানীয় আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে পেটের মেদ কমাবে।
* কফির ক্যাফেইনের জেরে এই পানীয় আমাদের সতেজ ও সজাগ রাখতে সাহায্য করে; কিন্তু ওজন কমাতে নয়। মেদ ঝরানোর জন্য প্রত্যেক দিন ২ কাপ করে গ্রিন টি খান। কিছুদিনের মধ্যে তফাৎ দেখতে পাবেন।
* গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত তীব্রতাপূর্ণ ব্যায়ামে শরীরের মেদ ঝরে না বা ওজন কমে না। বরং নাচুন, অ্যারোবিক করুন, তাতে শরীরের মেদ ঝরবে।