বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / মর্নিং সিকনেস : উপশমে করণীয়
০৮/১৬/২০১৬

মর্নিং সিকনেস : উপশমে করণীয়

- তিন্নি

গর্ভবতী মায়েদের ঘন ঘন বমি ভাব এবং বমি হওয়ার প্রবণতাকে ‘মর্নিং সিকনেস’ বলে। নাম মর্নিং সিকনেস হলেও সারাদিন ধরেই এই প্রবণতা চলতে থাকে। তবে বেশিরভাগ গর্ভবতীর ক্ষেত্রে এর প্রবণতা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে সবচেয়ে বেশি থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে ব্যক্তি বিশেষে এর লক্ষণগুলো হয় ভিন্ন ভিন্ন।

সাধারণত গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের কিছু আগে পরে মর্নিং সিকনেসের প্রবণতা শুরু হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের মাথাতেই শুরু হয়ে এই প্রবণতা পরবর্তী মাসগুলোতে আরো প্রকট হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ গর্ভবতীর ক্ষেত্রেই ১৪ সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে মর্নিং সিকনেস সম্পূর্ণ চলে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে আরো মাসখানেক থাকে। খুব স্বল্পসংখ্যক গর্ভবতীর ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেয়ার আগ পর্যন্তও এ-প্রবণতা থাকতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা প্রায় শূন্যের কোঠায় থেকে যেতে পারে।

সাধারণত দ্রুতগতিতে বিভিন্ন হরমোন বেড়ে যাওয়া, গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া, পরিপাকতন্ত্র অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠা ইত্যাদির কারণে মর্নিং সিকনেসের প্রবণতা দেখা দেয়।

বিশেসজ্ঞরা বলে থাকেন যে প্রথমবারে গর্ভবতীদের মাঝে মর্নিং সিকনেসের প্রবনতা অনেক বেশি থাকে, যা দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ করলে অনেকাংশেই কমে আসে। এছাড়া কারো কারো ক্ষেত্রে মর্নিং সিকনেস অতিরিক্ত পরিমাণে দেখা দেয়, যদি গর্ভবতী যমজ সন্তান ধারণ করেন। এর বাইরে আরও যেসব কারণে মর্নিং সিকনেস প্রকট ভাবে দেখা দিতে পারে তা হলো - জন্মনিয়ন্ত্রক পিল গ্রহণ করে থাকলে, মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে, গর্ভবতীর মা ও বোনদের একই ধরনের প্রবণতা থাকলে, এবং মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে।

উপশমের জন্য কী করবেন?

সাধারণ মর্নিং সিকনেসের প্রবণতায় কিছু কয়েকটি ছোটখাট নিয়ম মেনে চললে একটু আরাম পাওয়া যায়।
* একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে ঘন ঘন হালকা খাবার খান। খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। উচ্চ প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এক্ষেত্রে বাড়তি সাহায্য করবে।
* খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। কারণ এতে পরিপাকপ্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে যেতে পারে।
* বিছানার পাশেই ক্র্যাকারের মতো হালকা কিছু খাবার রেখে দিন। ঘুম ভাঙার পরপরই দুয়েকটা খেয়ে ২০-৩০ মিনিট শুয়ে থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে উঠুন। হুট করে উঠে বসলে বা দাঁড়ালে বমি হতে পারে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে বমি বমি ভাব হলেও এভাবে ক্র্যাকার খেলে ভালো বোধ করবেন।
* যেসব খাবার ও গন্ধ বমি ভাব আনে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। যদি সব খাবারেই বমি বমি ভাব বা বমি হয়, তবে যেসব খেতে ভালো লাগে, সেগুলোই খান।
* খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তবে খাবেন। কারণ গরম খাবারের গন্ধ বেশি ছড়ায়।
* বেশি চর্বিযুক্ত, মশলাযুক্ত, অম্লজাতীয় ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। কারণ এসব হজম হতে অনেক সময় নেয়, যা আপনার বমির প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। পারলে তেল-মশলা ছাড়া খাবার খান।
* সকালে নাস্তা করার পরে দাঁত মাজুন।
* প্রতি প্রতিটি মিল-এর মাঝের সময়ে তরল খাবার বা পানি পান করুন। ঠান্ডা কার্বোনেটেড ওয়াটার এক্ষেত্রে বেশ সাহায্য করবে। বেশি বমি হলে গ্লুকোজ, লবণ ও পটাসিয়ামযুক্ত স্পোর্টস ডিংক খেতে পারেন।
* তরল খাবার একসঙ্গে বেশি খাবেন না। কারণ এতে আপনার স্বাভাবিক খাবারের ক্ষুধা নষ্ট যেতে পারে। চুমুক দিয়ে পান করার বদলে স্ট্র ব্যবহার করতে পারেন, কম পরিমাণে পানের জন্য।
* খাবার ও গন্ধ ছাড়াও বদ্ধ ঘর, কড়া পারফিউমের গন্ধ, এমনকি বাতির ঝলকানিও বমির উদ্রেক করতে পারে। এগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
* মুক্ত বাতাসে সময় কাটান। বাইরে হেঁটে এলে বা ঘরের জানালা খুলে দিলে সুস্থবোধ করবেন।
* ক্লান্ত বা বিষণ থাকলে বেশি বমি বমি ভাব হতে পারে। বিশ্রামে থাকলে বা কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে নিলে সুস্থ বোধ করবেন।
* খাবারের সঙ্গে অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে ডাক্তারের দেয়া ভিটামিনগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার ডাক্তারকে অনুরোধ করতে পারেন গর্ভধারণের শুরুর দিকে আয়রন ট্যাবলেটগুলো না দেয়ার জন্য। আয়রন হজম হতে দেরি হয়। তাতে বমির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে।
* শুকনো আদা খেতে পারেন। আদা হজমে ও বমি বমি ভাব কাটাতে সাহায্য করে। গরম পানিতে আদা সিদ্ধ করে খান, অথবা আদা চা-ও খেতে পারেন।
* অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে দেখতে পারেন। লেবু, পুদিনাপাতা বা কমলার গন্ধ বমি বমি ভাব কাটাতে সাহায্য করে।