রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ইলিশ খেতে মাওয়াঘাট
০৮/১৬/২০১৬

ইলিশ খেতে মাওয়াঘাট

- কাজী মাহদী আমিন

বাঙালিদের খাওয়ার পাতে মাছ না থাকলে কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগে। মাছের এই আকুতি মেটানোর জন্য আছে পদ্মাপাড়ের মাওয়াঘাট। সেখানে পাবেন পদ্মার বিখ্যাত ইলিশ। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে যখন রাজধানী ঢাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে, সেই সময় প্রতিষ্ঠিত হয় মাওয়া ফেরিঘাট। অজস্র মানুষের যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কারণে, মাওয়ার আশপাশে কালক্রমে গড়ে ওঠে শতাধিক রেস্তোরাঁ, যার অনেকগুলোতেই মেলে পদ্মার সুস্বাদু ইলিশের নানা পদ। ইলিশ ছাড়াও পদ্মার নানা ধরনের আরও সব মাছের স্বাদ নিতে পারবেন এই রেস্তোরাঁগুলোতে।

কী করবেন এবং কীভাবে যাবেন, আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি।

একটি টার্মিনাল হওয়ার ফলে, মাওয়ার প্রায় সব রেস্তোরাঁ খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা। লঞ্চ কিংবা ফেরি থেকে যাত্রী ওঠানামা করে থাকে অহরহ, দিনে রাতে যে-কোনো সময়। তাদের খাওয়া-দাওয়ার জন্যই মূলত এসব রেস্তোরাঁর প্রতিষ্ঠা। যার ফলে সুবিধা হলো, যে সময়ই মাওয়া যান না কেন, টাটকা খাবার পাবেন।

প্রথমেই অনেকগুলো রেস্তোরাঁর মধ্যে থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে আপনার পছন্দমতো একটি। মনে রাখবেন, বেশির ভাগ দোকান টিন-শেডের এবং নদীর একদম পাড়ে অবস্থিত। এসিসহ বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ নেই এখানে। তবে নদীর পাড়ে তাজা হাওয়ার মাঝে বসে টাটকা ইলিশ খাওয়ার অভিজ্ঞতা এসি রুমে বসে খাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো। সবগুলো রেস্তোরাঁতেই আপনি পাবেন ভাজা ইলিশ। প্রতি পিসের দাম পড়বে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সঙ্গে ভাত আর ডাল। তাজা মচমচে ইলিশ বাদে আপনি পাবেন ইলিশের ডিম ভাজা/ভুনা, ইলিশের লেজ-এর ভর্তা, বেগুনভর্তা, পেঁয়াজ-মরিচের ভর্তা, টমেটো ভর্তা, আলুর ঝাল ভর্তাসহ কয়েক পদের নদীর মাছ যেমন, চিংড়ি, রুই, পাঙ্গাশ। বাচ্চা বা কেউ যদি মাছ খেতে না চায়, তাদের জন্য গরু কিংবা মুরগির মাংসেরও ব্যবস্থা আছে। সব মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ পড়বে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো।

একসঙ্গে পরিবার-পরিজন বা বড় গ্রুপ নিয়ে মাওয়া যাওয়া সবচেয়ে ভালো। কেননা তখন আপনি তাজা আস্ত ইলিশ কিনে নিতে পারবেন ভেজে খাওয়ার জন্য। সেই ক্ষেত্রে ইলিশ পাবেন একদম ফ্রেশ, তাছাড়া খরচটাও কম লাগবে।

ভোজনবিলাসীদের জন্য মাওয়ার ইলিশ এবং ইলিশের ডিম অন্যতম পছন্দের পদ। ইলিশ মাছ নদী থেকে ধরার পর যত তাড়াতাড়ি খাবেন, তার স্বাদ বুঝতে পারবেন তত ভালোভাবে। মাওয়া ছাড়া অন্য কোথাও এই অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে না। ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কি.মি দূর হওয়ার ফলে, মাওয়া ঘুরে ঢাকায় ফিরে আসতে পারবেন একদিনের মধ্যেই। দেখে আসতে পারেন পদ্মা ব্রিজের বিশাল নির্মাণ কাজ; ঘণ্টা হিসেবে ভাড়ায় নদীতে স্পিডবোটে করে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন পদ্মা রিসোর্ট। সুন্দর আবহাওয়া এবং ভালো খাওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি কাটবে অনেক সুন্দর।

কীভাবে যাবেন

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মাওয়া পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সরাসরি বাস সার্ভিস আছে অনেক। গুলিস্তানে পৌঁছে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে কোথায় পাবেন বাস। ইগল, ইলিশ, পদ্মা ইত্যাদি বেসরকারি বাস সার্ভিস ছাড়াও আছে সরকারি বাস সার্ভিস বিআরটিসি।

গুলিস্তান বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ডে পাবেন এসি বাস। ঢাকা থেকে মাওয়ার বাস ভাড়া ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। বাস টার্মিনালের ঠিক পাশেই ফেরিঘাট, আর সেখানেই আছে সব খাওয়ার দোকান। যেতে লাগবে এক ঘণ্টা বা তার একটু বেশি। প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও যাওয়া যাবে একদম সহজেই। যাত্রাবাড়ি পার হয়ে বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু পেরিয়েই উঠে যাবেন ঢাকা-মাওয়া হাইওয়েতে। সেই রাস্তা সরাসরি গিয়ে শেষ হয়েছে মাওয়াতে।
এই বর্ষায় পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মাছেভাতে বাঙালি হয়ে ওঠার জন্য মাওয়াকে আপনার গন্তব্য বানিয়ে নিতে পারেন। সুন্দর এই ডে-ট্রিপে আপনি পাবেন তাজা ইলিশের স্বাদ, সেই সাথে বোনাস হিসেবে নদীর নির্মল হাওয়া।