শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / সাজিয়ে নিন আপনার অফিস কিউবিকল
০৮/১৬/২০১৬

সাজিয়ে নিন আপনার অফিস কিউবিকল

- নুসরাত ইসলাম

আমাদের অনেককেই দিনের বেশিরভাগ সময় নিজ নিজ অফিসে কাটাতে হয়। অফিসে থাকাকালীন পজিটিভ এনার্জি থাকা খুবই জরুরি সৃজনশীলতার জন্য, যা পেতে পারেন একটি গোছানো অফিস কিউবিকল থেকে। সর্বক্ষণ কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে না থাকতে চাইলে কর্মক্ষেত্রটুকুর আশপাশে বিভিন্ন ধরনের জিনিস দিয়ে সাজিয়ে নিন, যার কারণে আপনার দিন হয়ে উঠবে উজ্জ্বল এবং একঘেয়েমিও কেটে যাবে। দেরি না করে জেনে নিন কি করে আপনার অফিস স্পেসটি আকর্ষণীয় করে তুলবেন।

ল্যাম্প

আপনার কিউবিকলটি সোডিয়াম আলোর নিচে বলে আপনাকেও সে আলোতে অফিস করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আপনার কিউবিকলে কম্পিউটারের পাশে ছোট্ট, সুন্দর একটি ডেস্ক ল্যাম্প রাখুন। শেড পছন্দ করুন আপনার রুচি অনুযায়ী। বাজারে এখন নানা ধরনের ও ডিজাইনের ল্যাম্পশেড পাওয়া যায়। বেছে নিন। এবার আপনার নিজস্ব ল্যাম্পটি জ্বালিয়ে তার মনোরম আলোয় কাজ করুন।

শেল্ফ

যদি কিউবিকলে জায়গা থাকে, তাহলে একটি শেল্ফ বসিয়ে নিন। এতে বিশাল বাইন্ডার, যাবতীয় টুকিটাকি কাগজ বা রেফারেন্স বুকগুলো টেবিলের উপর এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছড়িয়ে না রেখে, শেলফে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে পারবেন।

তাজা ফুল

আপনার কিউবিকলে একটি ফুলদানি রাখুন, তাতে রাখুন এক গুচ্ছ তাজা ফুল। আপনার কিউবিকলের চেহারাই পাল্টে যাবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’বার নতুন ফুল রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন, নিদেন পক্ষে একবার। খেয়াল রাখবেন, ফুল শুকিয়ে যেন ফুলদানিতে রয়ে না যায়।

ডেস্ক ক্যালেন্ডার

যদিও এখন চাইলে কম্পিউটার স্ক্রিনেই দিন-মাস সব দেখা যায়, ডেস্কে একটি ক্যালেন্ডার থাকলে খারাপ লাগবে না কিন্তু। তবে দেয়াল ক্যালেন্ডার ঝুলানোর চিন্তা বাদ দিন, জবরজং লাগতে পারে। ইচ্ছে করলে আপনি নিজেই ইউটিউব ভিডিও দেখে বিভিন্ন অ্যাক্সেসরিজ, যেমন : স্টোন, ওয়াটার কালার, স্টিকার ইত্যাদি দিয়ে আপনার পছন্দের থিম অনুযায়ী একটি ক্যালেন্ডার বানিয়ে নিতে পারেন।

দেয়ালচিত্র

যখন দিনের অর্ধেকের বেশি সময় আপনাকে অফিসেই কাটাতে হয়, তখন চোখ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখার জন্য চারপাশে সুন্দর এবং উদ্দীপনামূলক জিনিসের প্রয়োজন পড়ে। বিভিন্ন সাইজের কিছু ফ্রেমে আপনার পছন্দের আর্টওয়ার্ক সাজিয়ে নিন - তা হতে পারে প্রিয় আর্টিস্ট-এর ছবি, পছন্দের ব্যান্ড-এর অ্যালবাম কাভার বা বইয়ের প্রথম পাতা অথবা ইন্সপায়ারিং কোনো উদ্ধৃতি। এই ফ্রেমগুলো আপনার সামনের দেয়ালের তারের লাইন বা ময়লা কোনো স্পট ঢাকার পাশাপাশি প্রিয় মুহূর্তগুলোতে হারিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

এছাড়া কিউবিকলের দেয়ালে প্রিয় ছবি পিন বা আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখতে পারেন। অথবা কিউবিকলের উপরে (খেয়াল রাখবেন কম্পিউটার মনিটর যেন ঢেকে না দেয়) তার ঝুলিয়ে তাতে কাপড় আটকানোর ক্লিপ দিয়ে অনেক ধরনের ছবি লাগিয়ে রাখতে পারেন। এই পদ্ধতিতে কিছুদিন পর পর ছবি বদলাতেও পারবেন আপনি চাইলেই।

কাজের চাপের মাঝে কে না চায় পুরনো ছবির দিকে তাকিয়ে স্কুলের বন্ধুদের সাথের ভ্রমণ বা পরিবারের সব সদস্যদের সাথে ডিনার পার্টির কথা ভেবে মন একটু হালকা করে নিতে। অনেক ছবি একসঙ্গে রাখতে না চাইলে পাশাপাশি তিনটি ছবি ঝুলিয়ে দিন - প্রিয় মানুষ, প্রিয় জায়গা এবং প্রিয় জিনিসের।

রঙিন জিনিসপত্র

অফিসের ক্লান্তিময় ঘণ্টাগুলোতে উদ্যম ও শক্তি বজায় রাখতে কিছু গাঢ় রঙের জিনিস আশপাশে থাকা আবশ্যক। যেমন ধরুন, একটি নীল রঙের পেন্সিল হোল্ডার - এটি আপনার ডেস্কে খুব বেশি জায়গা নেবে না, কিন্তু অফিস স্পেসটুকুকে রঙিন করে তুলবে; বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে একটি লাল রঙের ল্যাম্প বা বিভিন্ন রঙের ফ্রেম থাকে দেয়ালে।

ভিন্নধর্মী চেয়ার

যদি নির্দিষ্ট কোনো রং, স্পোর্টস টিম বা অন্য যে কোনো থিম আপনার মনে আনন্দ নিয়ে আসে, তাহলে এমন একটি চেয়ার খুঁজে বের করুন, যা সেই থিমের সঙ্গে যায়। যদিও সব অফিসেরই নিজস্ব চেয়ার থাকে, নতুন এবং ভিন্নধর্মী চেয়ার কাজে নিয়ে এলে তা আপনার কিউবিকলের লুক সম্পূর্ণভাবে বদলে দেবে। কেননা অফিস স্পেসে সবচেয়ে দৃশ্যমান বস্তুটি কিন্তু আপনার চেয়ারটিই।