বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / যে-পোশাকে দেখাবে স্লিম
০৮/১৬/২০১৬

যে-পোশাকে দেখাবে স্লিম

- ইরা

সুন্দর দৈহিক গঠন কে-না চায়? কিন্তু সবাই তো আর র্যাম্প মডেলদের মতো দৈহিক গঠনের অধিকারী নয় যে, যেকোনো পোশাকই আপনাকে লাগবে স্লিম অ্যান্ড ট্রিম! কিন্তু সঠিক পোশাক বাছাই কিংবা শরীরের গঠন বুঝে পোশাক বেছে নিতে পারলে আপনাকে অবশ্যই দেখাবে আকর্ষণীয় ও মানানসই।

প্রথমেই কোন ধরনের পোশাকে আপনাকে মানায়, সে সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকা উচিত। নতুবা শখ করে কেনা পোশাক জলে যাবে।
যাদের উপরের অংশ নিচের তুলনায় কিছুটা ভারি, তাদের কখনওই বেশি আঁটসাঁট পোশাক পরা উচিত নয়। এতে দেখতে বেমানান লাগতে পারে। অর্থাৎ ‘বডি হাগিং’ টি-শার্ট বা টপস এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং সামান্য ঢোলা ও ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক পরলে ভালো লাগবে।
যাদের উপরের অংশ ভারি, তাদের গলার কাছে ফ্রিল দেওয়া ডিজাইন এড়িয়ে চলা উচিত।

ঢোলাঢালা টপসে বেশ মোটা লাগতে পারে। হাল ফ্যাশনের গাউন বা ম্যাক্সিড্রেস বেশ জনপ্রিয় হলেও এ-পোশাকে বেশ মোটা দেখায়। তাই যারা নিজেদের কিছুটা চিকন দেখাতে চান, আবার ম্যাক্সিড্রেস পছন্দ করেন, তারা কোমরে বেল্ট পরতে পারেন। এতে কোমরের কাছে কিছুটা আঁটসাঁট থাকবে এবং দেখতে কিছুটা শুকনা লাগবে।

যাদের নিচের অংশ তুলনামূলক মোটা, তাদের জন্য চুড়িদার বেশ ভালো। ঢোলা পায়জামা, ধুতি ও ঢোলা সালোয়ার সবসময়ই এড়িয়ে চলা উচিত।
যাদের পেছনের অংশ বেশি ভারি, তাদের এমন পোশাক বেছে নেওয়া উচিত যেন এই সমস্যা কিছুটা ঢাকা পড়ে। কুর্তি এবং টপস বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খানিকটা লম্বাই গ্রহণযোগ্য। এতে হিপ ঢাকা থাকবে। নিচের দিকে ছড়ানো কুর্তি না পরে কিছুটা চাপা কুর্তি এই ধরনের শরীরিক গঠনের অধিকারীদের জন্য ভালো।

যাদের হাত মোটা, তাদের স্লিভলেস পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে বেমানান দেখায়। বরং কনুই পর্যন্ত হাতা অথবা থ্রি কোয়ার্টার হাতা তাদের জন্য মানানসই।

গলা এবং কাঁধের অংশ চওড়া হলে হাই নেক বা গলাবন্ধ পোশাক না পরাই ভালো।
একরঙা দেশি পোশাকে দেখতে অনেকটাই স্লিম লাগে। কুর্তি বা কামিজ বেশ মানানসই। যদি প্রিন্ট ভালো লাগে, তবে ছোট ছাপের পোশাক বেছে নিতে হবে। অথবা লম্বালম্বি স্ট্রাইপের নকশাও এক্ষেত্রে ভালো। অথবা চাইলে একরঙা সালোয়ারের সঙ্গে ছোট প্রিন্টের কুর্তি পরা যেতে পারে।

তবে দেশি পোশাকের ক্ষেত্রে সবসময়ই অনন্য হচ্ছে শাড়ি। শাড়িতে মানায় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আর শাড়ির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যের একটি হলো এতে আপনাকে আকর্ষণীয় লাগবে, পাশাপাশি দেখাবে অনেকখানি স্লিমও।

যারা কিছুটা মোটা, তাদের ভারি কাতান, বেনারসি, টিস্যু ইত্যাদি শাড়ি যেগুলো ফুলে থাকে, সেসব এড়িয়ে চলা উচিত। বরং হালকা সিল্ক, ক্রেপ, জর্জেট, শিফন ইত্যাদি শাড়িতে তাদের বেশি মানাবে।

যাদের পেটে মেদ বেশি, তাদের আবার বেশি পাতলা শাড়ি পরা উচিত নয়। এতে দেখতে খারাপ লাগবে। তখন বেছে নিন তাঁত, সুতি গাদোয়াল, তসর ইত্যাদি।

বেশি উজ্জ্বল ও হালকা রংয়ের পোশাকে দেখতে মোটা লাগতে পারে। হালকা এবং উজ্জ্বল রং পছন্দ হলেও সঙ্গে অন্য রঙের অনুষঙ্গ রাখা উচিত। আবার গাঢ় রংগুলো দেখতে কিছুটা স্লিম দেখায়। তাই রঙের ক্ষেত্রেও বুঝেশুনে বাছাই করতে হবে।

খোলাচুলের বদলে উঁচু করে খোঁপা বা ঝুঁটি বেঁধে নিতে পারেন। পাদুকা হিসেবে প্রাধান্য পেতে পারে হিল। তবে কখনও নিয়মিত হিল ব্যবহার করা উচিত না। বিশেষত পেন্সিল হিল। এক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্ম হিল কম ক্ষতিকর। নিয়মিত হিল পরলে পা এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই বুঝেশুনে পরতে হবে।

দৈহিক গঠন যেমনই হোক না কেন, নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারাই বেশি জরুরি। যে-ধরনের পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাই পরা উচিত।