শনিবার,২৩ Jun ২০১৮
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / সন্ত্রাস দমনে সহযোগী অ্যাপ
০৮/০১/২০১৬

সন্ত্রাস দমনে সহযোগী অ্যাপ

- রিদোয়ান

সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের ছোবলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলিট ফোর্স র্যাব উন্মুক্ত করেছে নতুন একটি অ্যাপ- রিপোর্ট টু র্যাব। ইতিপূর্বে জননিরাপত্তার জন্য ডিএমপি অ্যাপ নামক একটি অ্যাপও উন্মোচন করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ।

রিপোর্ট টু র্যাব( Report 2 RAB))
অপরাধ বা অপরাধীর কোনো তথ্য র্যাবকে জানাতে অথবা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার মুখে দ্রুত সাহায্য পাওয়ার জন্য ‘রিপোর্ট টু র্যাব’ নামের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই র্যাব সদর দপ্তরে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। যে কোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারী এই অ্যাপটির সাহায্যে জঙ্গি আক্রমণ, খুন, ডাকাতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দেহজনক গতিবিধি, হঠাৎ গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্যসহ অন্যান্য সকল ধরনের অপরাধ সম্পর্কে র্যাবকে জানাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট জেলা, থানা এবং অপরাধের বর্ণনা জানিয়ে র্যাবের কাছে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি ব্যবহারকারী চাইলে ঘটনাস্থলের ছবি তুলেও পাঠাতে পারবেন। তথ্যদাতা যেমন নাম পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করতে বা তথ্য দিতে পারবেন, তেমনি নাম-পরিচয় প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে।
অ্যাপটির আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ ফিচার হলো : এতে র্যাব-১ থেকে শুরু করে র্যাব-১৪ পর্যন্ত প্রত্যেকটি টিমের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। তাই বিপদে পড়া ব্যক্তি দ্রুত সাহায্যের জন্য অ্যাপটিতে প্রদত্ত ফোন নাম্বারে ফোন করতে পারবেন। অনেকে নিজের নিরাপত্তা ও বিড়ম্বনার ভয়ে অপরাধ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেন না। তবে এই অ্যাপসের মাধ্যমে জনগণের মাঝে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। এই অ্যাপ্লিকেশনটি িি.িৎধন.মড়া.নফ অথবা গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে ইনস্টল করে নিতে পারবেন।

ডিএমপি অ্যাপ
রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত জনগণের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছুদিন আগেই ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাপ’ (ডিএমপি অ্যাপ) নামের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বেশ কার্যকর এই অ্যাপটিতে ঢাকার সকল থানার ওসি এবং ডিউটি অফিসারের নম্বরসহ প্রতিটি থানার ঠিকানা ও ম্যাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিপদের সময়ে গুগল ম্যাপের সহায়তায় সবচেয়ে কাছের থানা খুঁজে বের করা যাবে। অ্যাপটিতে রয়েছে বিভিন্ন সেকশন, যার ফলে পুলিশের বিভিন্ন শাখার ফোন নম্বর সবসময় ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকবে। বিপন্ন নারীর সাহায্যের জন্য ‘নারী সহায়তা’ নামের ফিচার রয়েছে অ্যাপটিতে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যেও রয়েছে বিশেষ ফিচার। চাইলে ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহার করে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারেও কল করতে পারবেন। এর পাশাপাশি পুলিশ ব্লাড ব্যাংক এবং চেন্সারি বিভাগের ফোন নম্বরও রয়েছে এই বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে। ডিএমপির ফেসবুক পেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্য ফেসবুক বাটনও রয়েছে এই অ্যাপটিতে।

এছাড়া এই অ্যাপ্লিকেশনটি পরিচিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ‘টেল আদারস’ নামক অপশনও রাখা হয়েছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে এই অ্যাপটি ইনস্টল করে নিতে পারবেন।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই উচিত যতটা সম্ভব সচেতন থাকা। আর সচেতনতার পদক্ষেপ হিসেবে আপনার ডিভাইসে এই অ্যাপগুলো ইনস্টল করে নিতে পারেন, যা অনাকাক্সিক্ষত বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।