শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / নানা গুণের নারকেল তেল
০৮/০১/২০১৬

নানা গুণের নারকেল তেল

- শিল্পী কর্মকার

চুলের যত্নে নারকেল তেল একটি পরিচিত উপাদান। কেশ পরিচর্যার পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে নারকেল তেলের, যা অনেকেরই হয়তো অজানা। আসুন জেনে নেই এর নানাবিধ ব্যবহার।

ময়েশচারাইজার হিসেবে

ত্বক নরম ও মোলায়েম করতে নারকেল তেলের জুড়ি নেই। রেগুলার ক্রিমের তুলনায় নারকেল তেল ত্বকের গভীরে ঢুকে ত্বককে করে তোলে সতেজ ও নমনীয়। ব্যবহারে একটু বেশি তেলতেলে মনে হতে পারে। তাই খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলেই চলে। মুখ ও শরীরে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ত্বক বাড়তি তেল শুষে নেবে, দেখা দেবে অপরূপ জেল্লা।

কন্ডিশনার হিসেবে

উশকোখুুশকো, ফ্রিজি চুলকে পরিপাটি রাখতে নারকেল তেল অদ্বিতীয়। ডিপ কন্ডিশনিংয়ের জন্যও ব্যবহার করতে পারেন। আবার শুধু চুলের ডগায়ও ব্যবহার করা চলে। যেখানে সাধারণত চুলের ভঙ্গুরদশা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ওজন কমাতে

নারকেল তেলের মলিকিউলার স্ট্রাকচার অন্যান্য রান্নার তেলের থেকে ভিন্ন। এতে রান্না করা খাবার ফ্যাট হিসেবে শরীরে জমে না থেকে সোজা চলে যায় লিভারে, মেটাবলাইজড হবার জন্য। এতে আপনার এনার্জির মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে মস্তিষ্ক আপনার শরীরকে ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করে। এছাড়াও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে নারকেল তেল ।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন

যে কোনো ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশনে নারকেল তেল নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।

সর্দি-কাশি রোধে

নারকেল তেলে রয়েছে লরিক এসিড নামের একটি উপাদান, যা ভাইরাস আক্রমণ ও এর বিস্তার রোধে সহায়ক। ঠান্ডা লাগলে প্রতিদিন কনজেশনের জায়গায় অল্প অল্প করে নারকেল তেল লাগান; উপকার পাবেন।

কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে

নারকেল তেল শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। লরিক এসিডের কারণে এলডিএল-এর মাত্রা কমিয়ে শরীরে বাড়িয়ে দেয় এইচডিএল-এর মাত্রা। ফলে কমে যায় হৃদরোগের ঝুঁকি। প্রতিদিন তাই ১/২-১ চামচ নারকেল তেল খেলে উপকার পাবেন।

অ্যালঝাইমার্স-এর প্রকোপ কমাতে

শরীরে যখন গ্লুুকোজের মাত্রা কমে যায়, তখন ব্রেইন ফুডের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে কার্যকর রাখা প্রয়োজন, যা আপনার স্মরণশক্তির উন্নতি ঘটিয়ে, অ্যালঝাইমার্স-এর প্রকোপ কমাবে। নারকেল তেল সেই ব্রেইন ফুডের কাজ করে। প্রতিদিন অন্যান্য খাবারের সাথে দুই টেবিল চামচ নারকেল তেল খাওয়া তাই জরুরি।

পোকামাকড়ের কামড়ে

মৌমাছি বা অন্য যেকোনো কীটপতঙ্গের কামড়ে একটু নারকেল তেলের প্রলেপ দিতে পারে আরাম। আঙুলে অল্প তেল নিয়ে কামড়ের জায়গায় সরাসরি লাগিয়ে নিন। জ্বালাপোড়া, চুলকানো, ইনফেকশন থেকে বাঁচাবে।

স্ক্রাব হিসেবে

ফেসিয়াল অথবা বডি স্ক্রাব হিসেবে নারকেল তেল খুবই উপকারী। নারকেল তেলে চিনি দিয়ে চুলায় গরম করুন। গলে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করুন।

ডায়াপার ক্রিম

নারকেল তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান। বাচ্চাদের ডায়াপার র্যাশে নারকেল তেল তাই বিশেষ উপকারী। অল্প পরিমাণে তেল র্যাশের জায়গায় ম্যাসাজ করুন। উপকার পাবেন।

লেদার পলিশ হিসেবে

পরিষ্কার, নরম কাপড় দিয়ে বাড়তি ধুলো-ময়লা মুছে নিন। এবার নারকেল তেল দিয়ে লেদার বা চামড়ার জিনিস হাল্কাভাবে বৃত্তাকারে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করুন। নতুনের মতো চকচকে হয়ে উঠবে।

ডিওডোরেন্ট হিসেবে

শরীরে দুর্গন্ধ উৎপন্নকারী ব্যাক্টেরিয়া রোধেও নারকেল তেল উপকারী। এক টেবিল-চামচ অ্যারারুট পাউডারের সঙ্গে তিন/চার টেবিল-চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন ঘরোয়া ডিওডোরেন্ট।

উকুন নির্মূলে

নারকেল তেলের গন্ধ কোনো এক বিচিত্র কারণে উকুনের পছন্দ নয়। তাই বাচ্চার মাথায় উকুনের উৎপাত দেখা দিলে একটি চিকন চিরুনি নারকেল তেলে ডুবিয়ে তা দিয়ে চুল আঁচড়ে দিন। পুরো মাথায় নারকেল তেল ভালো করে ম্যাসাজ করে ঘণ্টাদুয়েক রেখে চুল ধুয়ে নিন।

কোষ্ঠকাঠিন্যে

খালি পেটে প্রতিদিন সকালে এক টেবিল-চামচ নারকেল তেল খান; হজম প্রক্রিয়া সচল থাকবে। ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যে দুই টেবিল-চামচ করে নারকেল তেল খান। উপকার পাবেন।

আর্থ্রারাইটিসের ব্যথায়

বাত বা আর্থ্রারাইটিসে মাংসপেশি ফুলে গেলে, জয়েন্টে আড়ষ্টতা দেখা দিলে কিংবা বাতের ব্যথার উপশমে নারকেল তেল উপকারী। দিনে ১-২ বার অল্প তেল নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ব্যথা কমবে।