বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / চপস্টিকে খাওয়ার নিয়মকানুন
০৮/০১/২০১৬

চপস্টিকে খাওয়ার নিয়মকানুন

- ফাবিহা ফারজিন

খাওয়ার জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই সরু কাঠির মতো দেখতে দু’টি বস্তু ব্যবহার করা হয় যার নাম চপস্টিক। চপস্টিকের প্রসঙ্গ উত্তর চীনের এক উপকথায় পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, একবার খুব ক্ষুধার্ত এক লোক খেতে বসেছে। রান্নাও শেষ হয়েছে মাত্র। সবকিছু একেবারে আগুন-গরম। ওদিকে লোকটার ক্ষুধাও লেগেছে মারাত্মক। পেটে কিছু না দিলেই নয়। তখন তিনি বুদ্ধি করে দু’টি কাঠি দিয়ে কড়াই থেকে মাংসের টুকরো ধরে ফুঁ দিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দিলেন। গরমে তার হাতেরও ক্ষতি হলো না। আবার প্রাণটাও বাঁচলো। খাবার জন্য এই কাঠির ব্যবহার নাকি তারপর থেকেই শুরু হয়। আস্তে আস্তে এই কাঠি ব্যবহারের চল এশিয়ার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ৫০০ খ্রিস্টাব্দে এই কাঠি পৌঁছে যায় জাপানে।

জাপানে এই চপস্টিককে বলে ‘হাসি’। জাপানিরা ন¤্রভাবে কথা বলার জন্য বেশ কিছু শব্দের সামনে ‘ও’ শব্দ যোগ করে। যেমন ‘চা’কে বলে ‘ওচা’, তেমনি ‘হাসি’কে বলে ‘ওহাসি’। দুটো কাঠি দিয়ে সব খাবার, এমনকি নুডুলসও অবলীলায় খাওয়া যায়।

চপস্টিক খাবার প্লেট আর মুখের মাঝে খাবারের জন্য সাঁকোর মতো কাজ করে। তাই এর নাম জাপানিদের কাছে হাসি। আর চীনদেশের নাম ‘কু আই-জি’, যার অর্থ চটপটে বন্ধু। চপস্টিকের মাধ্যমে খাওয়া দ্রুত শেষ করা যায়, তাই এর এমন নাম দেয়া হয়েছে।

জাপানে এই চপস্টিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন এবং বিধি-নিষেধ আছে। যেমন: চপস্টিক দিয়ে খাবার পাশের জনকে দেয়া যাবে না। কারণ মৃতদেহের সৎকারের সময় চপস্টিক দিয়ে মৃতের অস্থিভস্ম আত্মীয়দের মাঝে দেয়া হয়।

আবার চপস্টিক কখনো ভাতের গামলায় খাড়া করে রাখা যাবে না। কারণ জাপানে পরিবারের কেউ মারা গেলে মৃতের খাবার জায়গায় একটি ভাতের গামলায় এক জোড়া চপস্টিক খাড়া করে রাখা হয়।

চীনে খাওয়ার সময় চপস্টিকেরও ভাষা তৈরি হয়। আকার ইঙ্গিতের ভাষা। যেমন কোনো দাওয়াতে হোস্ট যতক্ষণ না তার চপস্টিক ভাতের প্লেটে রাখছেন, ততক্ষণ অতিথিরা চপস্টিকে হাত দেন না। খাওয়া শেষে প্লেটের ওপর পাশাপাশি চপস্টিক শুইয়ে দিতে হয়।

চপস্টিক নিয়ে চীনে বেশ কিছু কুসংস্কারও চালু আছে। যেমন প্লেটের সঙ্গে টুংটাং শব্দ করে কেউ যদি চপস্টিক ব্যবহার করে, তবে তার উত্তরপুরুষরা গরিব হয়। ছোটবেলায় বাচ্চাদের চপস্টিকে খাওয়া শেখাবার জন্য প্লাস্টিকের চপস্টিক ব্যবহার করা হয়।

এবার জেনে নেওয়া যাক চপস্টিক ব্যবহারের নিয়মগুলো।

প্রথমে দুটো কাঠির মধ্য থেকে শুধু একটা কাঠি নিন। বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝ বরাবর আলতো করে রেখে এভাবে ধরুন। অনামিকা আর কনিষ্ঠা নিচ থেকে সাপোর্ট দেবে এবং এই অবস্থায় স্থির থাকবে। এটা নড়াচড়া করবে না।

এটুকু আয়ত্তে এসে গেলে অপর কাঠিটা নিন। তর্জনী, মধ্যমা আর বুড়ো আঙুলের মাথা ব্যবহার করে ধরুন।

এভাবে ধরা অবস্থায় কাঠির অগ্রভাগ (সরু অংশটি) উপরে নিচে ওঠানো এবং নামানোর চেষ্টা করুন। তবে হাতের কব্জি নাড়াবেন না। শুধু আঙুল তিনটা ব্যবহার করে কাজটি করুন।

এবার এই দুটো পর্যায় একত্র করে দুটো কাঠি একসাথে হাতে নিন।

নিচের কাঠিটা স্থির থাকবে। এটা নড়াচড়া করবে না। এবার তিন আঙুলে ধরা দ্বিতীয় কাঠিটা উপরে তুলুন।

এই স্টেপটাই কয়েকবার এভাবে প্র্যাকটিস করুন। চেষ্টা করবেন উপরের কাঠি দিয়ে নিচের কাঠিটা স্পর্শ করতে।

এটুকু হয়ে গেলে হাতের কাছে টেবিলের উপর হালকা কোনো কিছু (হতে পারে ছোট এক টুকরা পাউরুটি অথবা অথবা নরম ফোম) রেখে সেটা তোলার চেষ্টা করুন।