বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / কালার থেরাপি
০৮/০১/২০১৬

কালার থেরাপি

- জাওয়াদ রাব্বি

প্রিয় রঙের কথা চিন্তা করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক রঙিন স্রোত। আমাদের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিত্ব ও মনের ওপর রঙের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। আকর্ষণীয় রঙের পজিটিভ প্রভাবে মন থাকে আনন্দে পরিপূর্ণ, একঘেয়ে ভাব কাটে, নিরাশা দূর হয়।

প্রতিটি রঙের রয়েছে নিজস্ব অর্থ। রং বলতে পারে আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু। কোনো বিশেষ রঙের প্রতি আকর্ষণ প্রকাশ করে ঐ মুহূর্তে আপনার ব্যক্তিজীবন, আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আপনার মানসিক অবস্থা। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা, আবেগ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, দর্শন, প্রেরণা, চ্যালেঞ্জ, দুর্বলতা, মনের তীব্র চাহিদাগুলোর প্রকাশও ঘটে এই রঙের মাধ্যমে।

পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন অবস্থা যেমন আমাদের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তেমনি আমাদের মনের উপর রঙেরও একটা প্রভাব রয়েছে। একথা বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত। বিজ্ঞান অনুযায়ী কোনো রঙের দিকে একমনে তাকিয়ে থাকলে তা আমাদের মনকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। একেক রং আমাদের মনকে একেকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন রঙ-এর রয়েছে কি ধরনের প্রভাব।

নীল

আমরা অনেকেই বলে থাকি, নীল নাকি ভালোবাসার রং। কিন্তু আপনি জানেন কি এই শান্তিময়, মৃদু রংটির মানসিক চাপ পরিচালনা করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে? নীল রং দ্রুত মাত্রার হার্ট রেট মন্থর করতে সাহায্য করে। মনকে শান্ত রাখে এবং রক্তচাপের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। নিরপেক্ষ আলোছায়ার মনোরম একটি রং হচ্ছে নীল। তাই এটি মনের উদ্বেগ কমাতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার চারপাশের পরিবেশ ও মনকে শান্ত রাখতে শোবার ঘরে আপনি নীল রঙ ব্যবহার করতে পারেন।

সবুজ

শান্তির প্রতীক আরেকটি রং হচ্ছে সবুজ। সবচেয়ে সুন্দর রংগুলোর মধ্যে সবুজ একটি। সবুজ প্রকৃতির রং, এটি আমাদের মনকে খুবই প্রভাবিত করে। আমাদের অনুভূতিগুলোকে আকৃষ্ট করে। এটি আমাদের উদ্বেগকে বিকর্ষণ করে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। তাই মনকে সজীব রাখতে দিনের কিছুটা সময় সবুজ প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার মনের প্রশান্তির পাশাপাশি চোখ প্রশান্তি পাবে। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিটের জন্য হলেও এই কাজটি করার চেষ্টা করুন।

গোলাপি

গোলাপি শান্তির রঙ। গোলাপি রং কোনো রুমে শান্তি প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন শক্তির সঞ্চার করে থাকে। সাধারণত বাচ্চা মেয়েদের রুমে এই রঙের ব্যবহার খুব বেশি চোখে পড়ে। শুধু তাদের রুমেই নয়, তাদের পোশাক-আশাক, ব্যবহার্য জিনিসপত্র সবকিছুতেই গোলাপি রঙের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। গোলাপি রঙকে অনেকেই মেয়েলি রং মনে করেন। তবে এই রংটি সবার জন্যই উপযুক্ত।

সাদা

সাদা রং হলো স্বচ্ছতা ও পবিত্রতার প্রতীক। আপনি যদি খুব চাপের মধ্যে থাকেন, তাহলে আপনার আশপাশের সাদা রংকে প্রাধান্য দিয়ে দেখুন। কিছুক্ষণ পর আর চাপ অনুভব করবেন না। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য সাদা রঙের ঘর একটি আদর্শ ঘর হতে পারে। তবে সাদা রঙের ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে একটু বেশি নজর দিতে হবে।

বেগুনি

শক্তি, শান্তি ও জ্ঞান প্রকাশ করে বেগুনি রং। এটি আপনার মাঝে অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বেগুনি রঙকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে। বেগুনি রং শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বজায় রেখে হাড়ের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া বেগুনি রং সম্পর্কে আপনাদের আরো একটি গোপন তথ্য জানিয়ে রাখি, বেগুনি রঙের আলোয় ধ্যান করতে বসলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১০গুণ বেশি সফল হবেন।

ধূসর

ধূসর রঙকে নিষ্প্রভ ও বিষণœতার রং মনে করা হলেও এ রঙে শীতল ও ঠান্ডার উপস্থিতি রয়েছে। আপনারা ধূসর রঙটি নীল বা সাদা রঙের সাথে মিশিয়ে ঘর রাঙানোর কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরের সৌন্দর্য আরো বাড়বে।

হলুদ

হলুদ রঙটি একটু চঞ্চল প্রকৃতির। হলুদ রঙের দিকে আপনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নিজেকে আরো বেশি জীবন্ত ও কর্মচঞ্চল মনে করবেন। তাই আপনি যদি সব আলস্য ঝেড়ে ফেলে কর্মব্যস্ত দিন কাটাতে চান, তাহলে কাজের জায়গার কোনো একটি স্থানে হলুদ রঙের একটি জিনিস রাখুন।