বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / সন্তানের মাঝে মৌলবাদের লক্ষণ? সাবধান!
০৮/০১/২০১৬

সন্তানের মাঝে মৌলবাদের লক্ষণ? সাবধান!

- শাহরিয়ার মাহি

আইএস, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ- সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বশান্তির পথে বিশাল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শব্দগুলো। ধর্মের অপব্যাখ্যা কিংবা কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রাণোচ্ছল তরুণদের দিয়ে করানো হচ্ছে একের পর এক ভয়াবহ সব অপরাধ। এ অবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। সন্তান সন্ত্রাস-মৌলবাদের মতো মরণ খেলায় মেতে উঠেছে কিনা, তা সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ ও নির্দেশনা থাকছে লেখার পরবর্তী অংশে।

সাম্প্রদায়িকতার শৃংখল ও আপনার সন্তান

প্রতিটি ধর্মই শান্তির কথা বলে। সন্তান ধর্মভীরু হলে অভিভাবকের তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু সেই সন্তান যখন কোনো বিশেষ মহলের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যাখ্যায় উৎসাহিত হয়ে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়, তখন তা পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য বিরাট সমস্যা ও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক এমনটিই ঘটেছে সম্প্রতি গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায়।

সাম্প্রদায়িকতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়ে আপনার সন্তান অন্য ধর্ম কিংবা কখনো কখনো স্বধর্মের মানুষের উপর নির্মম আচরণ করতে পারে। তবে সন্তান আসলে মৌলবাদের দিকে ঝুঁকছে কিনা, তা বোঝার জন্য নিম্নোক্ত মৌলবাদী লক্ষণগুলো সন্তানের আচরণে লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিনা তা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখতে পারেন।

সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া

মৌলবাদী গোষ্ঠীর হর্তাকর্তারা যখন কোনো তরুণকে টার্গেট করে, তখন তার প্রথম ধাপ হয় সেই তরুণকে পরিবার-বন্ধুবান্ধব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। সাম্প্রতিক সময়েঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতেও দেখা গিয়েছে জঙ্গি আক্রমণ চালানোর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এসব তরুণ নিখোঁজ ছিল এবং পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না।তাই আপনার সন্তান পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের কতটুকু সময় দিচ্ছে বা সবার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিনা, তা সবসময় লক্ষ্য রাখুন।

আচরণে পরিবর্তন

সন্তান স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, খেলাধুলা-আড্ডা, শখের কাজকিংবা অন্যান্য প্রাত্যহিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে কোনো বিশেষ কাজে সময় দিচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন। অথবা হুট করে অপরিচিত কোনো দলের সঙ্গে মিশছে কিনা, তাও যাচাই করে দেখুন।

মৌলবাদী চিন্তাভাবনার প্রকাশ

আপনার সন্তান অন্য জাত বা ধর্মের মানুষদের প্রতি অসম্মানজনক অথবা অসহিষ্ণু আচরণ প্রকাশ করছে কিনা, খেয়াল করুন। এছাড়া হঠাৎ করে ধর্মের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কিংবা তার মধ্যে বিশেষ কোনো উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ গড়ে উঠছে কিনা, তা যাচাই করে দেখুন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট কার্যক্রম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্তানের মতামত, তার পড়ার বই কিংবা ইন্টারনেটে ঠিক কোন ধরনের ওয়েবসাইটে তার আনাগোনা বেশি, তা ভালোমতো খতিয়ে দেখা উচিত।

সন্তান কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে কিনা, তা জানার জন্য ইন্টারনেটে তার গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখা বেশ কাজে আসবে।
করণীয়

সন্তান মৌলবাদী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার চেয়ে জন্মের পর থেকে তাকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিজ দেশ-সংস্কৃতি সম্পর্কে তাকে শৈশব থেকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে, যেন শুরু থেকেই সে নিজ দেশ ও সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করতে ও ভালোবাসতে শেখে।

সন্তান যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, জন্মের পর থেকে তাকে মানবধর্মে দীক্ষা দেয়াটাও জরুরি। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’-এই আপ্তবাক্য তার অন্তরাত্মায় যথার্থভাবে প্রবেশ করানো হলে সে কখনোই অন্য কোনো মানুষ বা প্রাণীর উপর বর্বর আচরণ করবে না।
এর পাশাপাশি ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে তাকে আগে থেকেই সচেতন করে দিতে হবে, যেন ভালো-মন্দের ভেদাভেদ সে ছোটবেলা থেকে নিজে নিজেই করতে পারে।

একজন ব্যক্তি যে ধর্মেরই অনুসারী হোন না কেন, তা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা নিতান্তই অধর্মের পরিচায়ক। তাই সন্তানকে সঠিক নৈতিক শিক্ষা দিন এবং তার আচরণ-কর্মকা- ও গতিবিধির উপর নজর রাখুন, যেন আর কখনও এ দেশের মাটিতে আরেকটি ‘গুলশান ট্র্যাজেডির’ পুনরাবৃত্তি না হয়।