বুধবার,২১ নভেম্বর ২০১৮
হোম / খাবার-দাবার / দেশে দেশে উৎসবের মিষ্টি
০৭/০১/২০১৬

দেশে দেশে উৎসবের মিষ্টি

- নাসিফ রাফসান

অঞ্চল বা দেশভেদে ঈদ উদযাপন রীতি একেক দেশে একেক রকম হলেও এই দিনগুলোতে বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক স্থানেই মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। বিশ্বের নানা প্রান্তে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন এবং এ জাতীয় লোভনীয় খাবারের বর্ণনা থাকছে লেখার পরবর্তী অংশে।

তুরস্ক
তুরস্কজুড়ে বিশেষ করে হাতায় অঞ্চল এবং অ্যান্টালিয়া শহরে বেশ জনপ্রিয় খাবারের নাম ‘কুনাফে’। মূলত পেস্ট্রিজাতীয় এই খাবারটি প্রস্তুত করতে হাতায় চিজ নামক বিশেষ উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যা তুরস্কের মোজ্জারেলা নামে পরিচিত। প্রস্তুতের পর গরম গরম কুনাফে আইসক্রিম অথবা জমাট বাঁধা ক্রিমের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। তুরস্কের আরো একটি বিখ্যাত মিষ্টান্নের নাম ‘শেহকেরপাহরে’। শব্দটি বাংলায় অনুবাদ করে দাঁড়ায় “মিষ্টির টুকরো”। সেমোলিনা, ময়দা এবং চিনিগুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই খাবার লেবুর রসে চুবিয়ে পরিবেশন করা হয়। এমনই আরেকটি জনপ্রিয় তুর্কি মিষ্টান্ন ‘গুলাচ’। কাগজের মতো পাতলা লেয়ারসমৃদ্ধ এই দুধজাতীয় খাবারটিতে গোলাপজলের ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। দুধের পাশাপাশি বাদামের ব্যবহার খাবারটির স্বাদ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

ইরান
ঈদের দিনে ইরানের প্রায় প্রত্যেক ঘরে মিষ্টি ও দুধ প্রস্তুত করা হয়। তবে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে। ইরানের উত্তরাংশে ‘নান বেরেনজি’ নামক পার্সিয়ান ডিশটি ব্যাপক জনপ্রিয়। চাল থেকে প্রস্তুতকৃত বিশেষ ময়দা দিয়ে বানানো এই খাবারে গোলাপজল ও এলাচ ব্যবহার করা হয়। ইরানের পশ্চিমাংশে ‘নান-ই-নখদচি’ নামের ডিশ বেশ প্রচলিত। এটি মূলত ছোলা, এলাচ এবং পেস্তাবাদাম দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের বিস্কুট। ইরানের বিখ্যাত আরেকটি মিষ্টিজাতীয় খাবার হলো- ‘বাকলাভা’। ফিলো ডো, মাখন এবং চিনি দিয়ে বানানোর পর এর উপর মিষ্টি সিরাপ ঢালা হয়। জনশ্রুতি আছে আসিরিয়ান সম্প্রদায় হতে এই বিশেষ মিষ্টির উৎপত্তি ঘটেছে, যা পরবর্তীতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ওমান
অন্যান্য দেশের মতো ওমানেও ঈদের দিন মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি বানানো হয়ে থাকে। সমগ্র ওমান এবং পার্সিয়ান গালফের দেশগুলোতে ‘লুকেমিয়াত’ নামের পদটি বহুলপ্রচলিত। এই ডিশটি প্রস্তুত করতে ময়দা, জাফরান ও এলাচ ব্যবহার করা হয়। এর উপর মধু কিংবা চিনার সিরা ঢেলে ডিশটি পরিবেশন করা হয়। মিশর, লেবানন, সিরিয়া এবং জর্ডানে এই ডিশটি ভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়, যা ‘লুকমাত আল কাধি’ নামে পরিচিত।

সৌদি আরব
সৌদি আরবে বেশ জনপ্রিয় একটি খাবারের নাম ‘উমআলি’। খাবারের এ ধরনের নামের পেছনে বিশেষ কাহিনি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ওম আলি ছিলেন মিশরের শাসক ইজ এল-দিন আইবেকের স্ত্রী। তার মৃত্যুর পর ওম আলি আইবেকের দ্বিতীয় স্ত্রী শাগারেত এল ডোরকে হত্যা করেন এবং তা উদযাপনের জন্য রাজ্যের সকল রাঁধুনিদের বিশেষ মিষ্টান্ন তৈরি করার নির্দেশ দেন। সবশেষে দুধ ও মধু দিয়ে তৈরি এক ধরনের পেস্ট্রি সেরা রেসিপির মর্যাদা লাভ করে। রেসিপিটির নাম ওম আলির নামে রাখা হয় এবং সমগ্র মিশরজুড়ে প্রজাদেরর মাঝে তা একটি করে স্বর্ণমুদ্রার সঙ্গে বিতরণ করা হয়। বর্তমানে এই ডিশ প্রস্তুতের সময় অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে কনডেন্সড মিল্ক ও বাদাম যোগ করা হয় এবং প্রায়ই ভ্যানিলা আইসক্রিমের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

বাংলাদেশ
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঈদের সময়টায় মিষ্টিজাতীয় খাবারের ঢল নামে। এদেশে বানানো বিভিন্ন মিষ্টান্নের মধ্যে মিষ্টি দই, সেমাই এবং পায়েস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বেশ সুস্বাদু মিষ্টি দইয়ে এলাচ ব্যবহার করে পদটিতে সুগন্ধময় ও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। সেমাইয়ের মধ্যে দুধ সেমাই এবং জর্দা সেমাই ঈদের দিন প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে নাস্তার টেবিলের শোভাবর্ধন করে। এছাড়া এই সময়টায় বানানো ক্ষীর, পনির কিংবা পায়েস দেখলে জিভে জল আসতে বাধ্য।

দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামের খাবার প্রস্তুত করা হলেও এর অধিকাংশকেই মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের কাতারে ফেলা যায়। তাই আসছে ঈদে লোভনীয় সব মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকুন।