শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / বিনোদন / ছুটির দিনের ছায়াছবি
০৬/১৬/২০১৬

ছুটির দিনের ছায়াছবি

- তাজরিয়ান

ব্যস্ততার কারণে অনেক দারুণ সিনেমা আপনি হয়ত এখনও দেখে উঠতে পারেননি। ঈদের লম্বা ছুটি হলো পারফেক্ট সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছবি দেখার। তেমনই কিছু ছবির তালিকা এখানে দেয়া হল।

বলিউড
সর্বজিৎ : সর্বজিৎ পাকিস্তানের জেলে বন্দি এক ভারতীয় কৃষকের কাহিনি যে ভুলবশত বর্ডার অতিক্রম করে আটক হন এবং পাকিস্তানের পুলিশ দ্বারা ভারতীয় গুপ্তচর হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন। ভুল পরিচয় দেখিয়ে তাকে পাকিস্তানের লাহোরে বোমা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হয়।
সর্বজিৎ নামের সেই নিরপরাধ ব্যক্তিকে ২৩ বছর পাকিস্তানের অন্ধকার জেলে, নির্মমতার শিকার হয়ে অমানুষিক পরিবেশে থাকতে হয়েছিল। কারাগারে নির্যাতনে মৃত্যুর আগ অবধি তিনি সাজাভোগ করেন। ভাইকে মুক্ত করার জন্য সর্বজিৎ-এর বোন দলবীর দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানি সরকারের সাথে লড়ে যান। এই হৃদয়বিদারক কাহিনিকেই পর্দায় নিয়ে এসেছেন পরিচালক উমাঙ কুমার যেখানে সর্বজিৎ-এর ভূমিকায় অভিনয় করছেন রণদীপ হুদা এবং তার বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

ফ্যান : চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া মণীষ শর্মার পরিচালনায় এই ছবিতে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান একইসঙ্গে একজন সুপারস্টার এবং তাঁর উন্মাদ ভক্ত, এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ছবির কাহিনি এমন- সুপারস্টার আরিয়ান খান্নাকে নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আচ্ছন্ন গৌরব। আরিয়ানের প্রতি তার ভক্তি আর ভালোবাসা পাগলামিকেও ছাড়িয়ে যাওয়া। ঘটনাক্রমে মুখোমুখি হয় ভক্ত এবং তারকা। এরপর শুরু হয় ভয়াবহ দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা রূপ নেয় প্রতিহিংসা আর জিঘাংসায়। এই ছবিতে গৌরব এর ভূমিকায় শাহরুখের অভিনয় মনে রাখার মতো।

কাপুর অ্যান্ড সনস : সকুন বাত্রা পরিচালিত কাপুর অ্যান্ড সনস একটি পরিবারের গল্প যেখানে একজন দাদু তার নাতিদের বহু বছর পর ফিরে পায়। দাদুর হার্ট অ্যাটকের খবর পেয়ে বহু বছর পর নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসে দুই ভাই রাহুল আর অর্জুন। পরিবারের নানা সমস্যা, জটিলতা সমাধান করতে চাইলেও তা কিছুতেই সমাধান করতে পারে না এই দুজন। অতীতের রাগ, চাপা ক্রোধ বর্তমানে সম্পর্কগুলোকে আরো জটিল করে তুলে। ব্যতিক্রমী এই ছবিতে দাদুর ভূমিকায় রয়েছেন ঋষি কাপুর ও দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও ফাওয়াদ খান।

হলিউড
ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান- ডন অফ জাস্টিস : সারাবিশ্বে সুপার হিরো অ্যাকশন ছবির নাম শুনলে চোখে ভাসে মার্ভেল আর ডিসি কমিকসের জনপ্রিয় সিরিজগুলো। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যান সে তালিকায় সর্বাগ্রে। ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই বছর মার্চে মুক্তি পেল ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অফ জাস্টিস। দুই সুপারহিরোকে একই সিনেমায় নিয়ে আসার কঠিন কাজটি করেছেন নির্মাতা জ্যাক স্নাইডার। ২০১৩ সালে তারই নির্মিত ‘ম্যান অফ স্টিল’ সিনেমার সিকুয়াল হিসেবেই এসেছে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অফ জাস্টিস’। শুধু সুপারম্যান আর ব্যাটম্যানই নয়, সিনেমায় আরো আছে ওয়ান্ডার উইম্যান, আকুয়াম্যান, লেক্স লুথার, ডুমসডের মতো জনপ্রিয় কমিক চরিত্ররা।

‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা : সিভিল ওয়ার’
‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা : সিভিল ওয়ার’ ২০১৬ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি। এই সিনেমায় দুটি দলে ভাগ হয়ে একে অপরের সঙ্গে লড়বেন মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরোরা। গল্পটি শুরু হয় যেখান থেকে সেখানে দেখানো হয় যে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ার সময় অ্যাভেন্জারদের কারণে বেশ কিছু জায়গা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ঘটনাচক্রে নিরীহ মানুষ ও প্রাণ হারিয়েছে যার কারণে অ্যাভেন্জাররা এখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট নামক নতুন এক আইন পাস করে যাতে অ্যাভেন্জাররা অনেকাংশেই তাদের স্বাধীনতা হারায় এই কারণেই মূলত আইরন ম্যান আর ক্যাপ্টেন আমেরিকার মাঝে পার্থক্য দেখা যায়।

অ্যাভেঞ্জার্স ভেঙে আয়রন ম্যানের নেতৃত্বে নতুন একটি দল গড়ে উঠেছে। আর রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট না মানায় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায় ক্যাপ্টেন আমেরিকা, তার সঙ্গে থাকে উইন্টার সোলজার, ফ্যালকন, অ্যান্ট-ম্যান এবং হকআই।

বাচ্চাদের জন্য ছবি
দা জাঙ্গল বুক : ‘জঙ্গলে ভোর হলো এক নতুন প্রভাত এল, খুশিতে ভরে গেল চারিদিক’ সুরটি কানে এলেই হয়ত ছোটবেলায় দৌড়ে চলে যেতেন টিভি সেটের সামনে। নব্বইয়ের দশকের সেই প্রিয় মোগলিকে আবারো পর্দায় হাজির করেছেন জন ফ্যাভেরু। ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার দ্য জঙ্গল বুক সিনেমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া মানবশিশু মোগলি যে পরবর্তীতে হিংস্র পশু-পাখিদের মাঝেই বড় হয় এবং বাঘ শের খানের দ্বন্দ্ব। ডি

এখানে মোগলির ভূমিকায় অভিনয় করেছে নিল সাথী আর এনিমেটেড পশুপ্রাণীদের কণ্ঠ দিয়েছে বাঘা বাঘা সব অভিনেতা। যেমন- বিল মুরে, বেন কিংস্লি, স্কারলেট জোহানসন প্রমুখ।

জূটপিয়া : জূটপিয়া একটি আদর্শ শহর যেখানে সবচেয়ে বড় হাতি থেকে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম প্রাণী সুখে শান্তিতে বসবাস করে। জুডি হপস এই শহরের প্রথম খরগোশ পুলিশ অফিসার। কিন্তু এত ছোট প্রাণী হবার কারণে কেউ তাকে সিরিয়াসলি নেয় না। এর মধ্যে জূটপিয়াতে আকস্মিক কিছু প্রাণী গায়েব হতে থাকে। এই প্রাণীদের গায়েব হবার রহস্যোদ্ঘাটনের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে জুডি ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই রহস্যোদ্ঘাটনের জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয় একটি অতি চালাক শিয়ালের যে জুডির কাজকে আরো কঠিন করে তুলে।