বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / বিনোদন / ঈদের সিনেবাজার : শাকিব-জাজের রাজত্ব
০৬/১৬/২০১৬

ঈদের সিনেবাজার : শাকিব-জাজের রাজত্ব

- নাবীল অনুসূর্য

বাংলাদেশের সিনেমার বাজারের সবচেয়ে রমরমা চলে ঈদের বাজারে। ঈদের সিনেমাগুলোর মধ্যে হল দখল থেকে শুরু করে দর্শকের হৃদয় দখল পর্যন্ত চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সব মিলিয়ে দুই ঈদে, বিশেষ করে রোজার ঈদকে ঘিরে সিনেমাপাড়া একটু বেশিই সরগরম হয়ে ওঠে। অবশ্য অনেক বছর থেকেই নায়কদের এই লড়াইয়ে এক রকম একক আধিপত্য দেখিয়ে আসছেন শাকিব খান। তার বিপরীতে লড়াই অনেকেই করলেও, কেউই নিয়মিত হতে পারছেন না। আর প্রযোজনার লড়াইয়েও বেশ কয়েক বছর ধরেই এগিয়ে থাকছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

এই ঈদে বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সম্ভবত মুক্তি পেতে যাচ্ছে মাত্র তিনটি-জাকির হোসেন সীমান্ত ও জয়দেব মুখার্জীর যৌথ-পরিচালনায় শাকিব-শ্রাবন্তীর ‘শিকারী’, শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত শাকিব-তিশার ‘মেন্টাল’ আর বাবা যাদব ও সীমান্তের যৌথ-পরিচালনায় জিৎ-ফারিয়ার ‘বাদশা’। এছাড়াও ঈদে মুক্তির আশা বা আশ্বাস আছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় শাকিব-অপুর ‘সম্রাট’ এবং হিমেল আশরাফের পরিচালনায় বাপ্পি-আঁচলের ‘সুলতানাবিবিয়ানা’-র।

তার মানে এবারের ঈদে বাংলাদেশের কোনো হেভিওয়েট পরিচালকেরই ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। নেই সাম্প্রতিক সাফল্যে আলোচিত তরুণ নির্মাতাদের কারো ছবি।

ঈদের তিনটি সিনেমার দুটিই যৌথ-প্রযোজনার সিনেমা। সে দুটিই আবার জাজ মাল্টিমিডিয়া-এসকে মুভিজের যৌথ প্রয়াসের ফসল। মানে তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ঈদের বাজার একচেটিয়াভাবে সত্যিই দখলে রাখতে যাচ্ছে জাজ। অন্য সিনেমাটি (‘মেন্টাল’) প্রযোজনা করছে দি বাংলা এক্সপ্রেস ফিল্মস, পরিবেশনায় দি অভি কথাচিত্র। মূলত জাজের দুই হেভিওয়েট বিগ-বাজেট সিনেমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতেই অন্য প্রযোজকরা ঈদের গরম বাজারের প্রলোভন এড়িয়ে গেছেন।

এই তিনটি সিনেমার দুটিরই নায়ক শাকিব খান। অন্যটির নায়ক টালিগঞ্জের জিৎ। মানে, বাজারে দেশি নায়ক থাকছেন একজনই। থাকছেন না আরিফিন শুভ বা অন্য কেউ। নায়কদের লড়াই তাই পরিণত হতে যাচ্ছে শাকিব বনাম জিৎ, বা ঢালিউড বনাম টালিগঞ্জের লড়াইয়ে। ভারতীয় সিনেমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রথম সারিতে থাকলেও, যৌথ-প্রযোজনার ব্যাপারে প্রথম থেকেই আগ্রহী ছিলেন শাকিব। ‘শিকারী’-ই হতে যাচ্ছে নায়ক শাকিবের যৌথ-প্রযোজনার প্রথম সিনেমা। অন্যদিকে জিৎ-এরও প্রথম যৌথ-প্রযোজনার সিনেমা ‘বাদশা’। জিৎ-এর বাংলাদেশ-অভিষেকও ঘটবে এই সিনেমা দিয়েই। অবশ্য শাকিবের কোলকাতা-অভিষেক ঘটবে আরও মাসখানেক পরে। ‘বাদশা’ কোলকাতারও ঈদের ছবি হলেও, শাকিবের ‘শিকারী’ কোলকাতায় মুক্তি পাবে ১৫ আগস্ট, ভারতের স্বাধীনতা দিবসে। তখন শাকিবকে লড়তে হবে দেবের সাথে (‘লাভ এক্সপ্রেস’)।

‘সম্রাট’ মুক্তি না পেলে, এবারের ঈদে থাকছেন না ঢালিউডের প্রতিষ্ঠিত কোনো নায়িকাই। কোলকাতার শ্রাবন্তীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশের তিশা ও নুসরাত ফারিয়া। অবশ্য প্রতিভায়-প্রতিষ্ঠায় তিশা নিতান্ত কম নন। তবে তার এই প্রতিষ্ঠা মূলত ছোট পর্দাতেই। ইতিমধ্যে অনেকগুলো সিনেমাতে অভিনয় করলেও, মাস কয়েক আগে মুক্তি পাওয়া ‘অস্তিত্ব’ দিয়েই তার মূলধারায় পথচলার শুরু বলা যেতে পারে। অন্যদিকে নুসরাত ফারিয়া তার অভিনীত বাংলা সিনেমাগুলো দিয়ে যতটা না আলোচনায় এসেছেন, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন বলিউডের একটা সিনেমায় অভিনয়ের খবর বা গুজবের মধ্য দিয়ে। বিপরীতে কোলকাতার শ্রাবন্তী বেশ প্রতিষ্ঠিত। তাছাড়া তিশা-শ্রাবন্তী দুজনেই শাকিবের বিপরীতে থাকায়, অন্তত তাদের লড়াইটা জমে ওঠারই কথা।

সব মিলিয়ে ঈদের বাজারে কেবল সিনেমার সংখ্যাই কমছে না, কমে যাচ্ছে ঈদের সিনেমাগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে বাজারও যেমন জমে না, মনও ভরে না। বিশেষ করে দেশের এক শাকিব খান ছাড়া আর কোনো নিয়মিত তারকার ছবি না থাকাতে নিশ্চিতভাবেই ঈদের সিনে বাজার রং হারাতে যাচ্ছে। শাকিব-ভক্তদের জন্য ব্যাপারটা সোনায় সোহাগা হতে পারে, অন্যদের ভক্তদের পাশাপাশি সিনেমাপাড়ার জন্য তো বটেই, আমাদের দেশের সিনেমার জন্যও এটা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়।