বুধবার,১৪ নভেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / ঈদ ফ্যাশনের হাওয়া
০৬/১৬/২০১৬

ঈদ ফ্যাশনের হাওয়া

- অদ্বিতী

রোজার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ঈদের প্রস্তুতি। আর ঈদের প্রস্তুতি মানেই নতুন পোশাক। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন সব ট্রেন্ড।
ঈদের সময় মূলত স্থান পায় সারা বছরের জনপ্রিয় ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলো। তাই এই বছরের ঈদ ফ্যাশনে কোন ধরনের স্টাইল প্রাধান্য পাবে ফ্যাশনমেীদের মাঝে তা ধারণা করতে ফিরে তাকাতে হবে বছরের শুরুর দিকে।

এ বছরের শুরু থেকে খানিকটা লম্বা ও ঘেরওয়ালা পোশাকের জনপ্রিয়তা বেশি। তাছাড়া পোশাকের ধরনেও এসেছে ভিন্নতা। যেমন গাউনের পাশাপাশি এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছে ঘের দেওয়া ও কুচিওয়ালা স্কার্ট। কোমরে বেল্ট আর ক্রপ টপ বা সাধারণ শার্টের সঙ্গে স্কার্ট এখন বেশ পরিচিত পোশাক।
তাছাড়া রয়েছে একটু বেশি ঘেরের পালাজ্জো। গত দু’বছরের মতো এবারও কামিজ বা টপসের সঙ্গে পালাজ্জোই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ধরনে আসছে ভিন্নতা। এবার একরঙা পালাজ্জোর বদলে স্থান করে নিতে পারে প্রিন্টেড পালাজ্জো।

তাছাড়া পালাজ্জোর প্যাটার্নেও এসেছে ভিন্নতা। যেমন এখন নিচে সমান কাটের পালাজ্জোর বদলে খানিকটা গোল বা একদিকে কোনা করা পালাজ্জো এখন বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও জনপ্রিয় চুড়িদার যা কুর্তা বা কামিজ দুইয়ের সাথেই সমান আকর্ষণীয়।

বছরের শুরু থেকেই ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে ফ্লোরাল প্রিন্ট। যেকোনো ধরনের কাপড় বা বিভিন্ন স্টাইলের পোশাক তৈরিতেই প্রাধান্য পাচ্ছে ফুলেল নকশা। ওই ধারা বজায় থাকছে ঈদ বাজারেও। বাজার ভরে আছে বিভিন্ন নকশার লতা-পাতা ও ফুলের নকশার গজ কাপড়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডেড ফ্যাশন হাউজের কালেকশনেও স্থান করে নিয়েছে ফুলেল নকশার পোশাক। বিভিন্ন ধরনের ফুলেল নকশার গজ কাপড়ের দাম পড়বে বাজার এবং ধরন ভেদে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

এছাড়াও কারচুপি ও সুতার কাজকরা গজ কাপড়ের জনপ্রিয়তাও রয়েছে অন্যবারের মতোই। দাম একটু বেশি হলেও ভিন্নধর্মী পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরনের গজ কাপড়গুলো বহুল ব্যবহৃত। কাজের পরিমাণ বুঝে দামে আসে ভিন্নতা। ৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা হতে পারে এক গজ কাপড়ের দাম।
এ বছর আবারও ফিরে এসেছে পুরাতন নকশার স্টাইলের একটি ধারা, ডলার ওয়ার্ক। অর্থাৎ আয়না বসানো নকশা। কামিজ বা কুর্তির বুকে, হাতায় বিভিন্ন আকারের আয়না বা ডলার রঙিন সুতায় বসিয়ে করা হয়েছে নকশা। তৈরি পোশাক যেমন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে তেমনি চাইলে পছন্দসই ডিজাইন দিয়ে কাস্টোমাউজ করেও সাজিয়ে নেওয়া যাচ্ছে আয়নার কাজ।

ফ্যাশনে লেগেছে ভিন্নধারা। জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পোশাকে চেইনের ব্যবহার। পোশাকের ফিটিং ঠিক রাখতে চেইনের ব্যবহার দীর্ঘদিনের হলেও এবার ডিজাইনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে চেইন। চেইন কিনতে খোঁজ নিতে পারেন লেইস, সুতা বিক্রির দোকানগুলোতে। কিনতে হবে গজ হিসেবে। ধরন ও পরিমাণ ভেদে দাম ওঠানামা করতে পারে।

যেহেতু এবারও গরমের মধ্যেই পড়ছে ঈদ তাই সুতি পোশাকের প্রতিই আগ্রহ বেশি সবার। কারণ স্টাইলের পাশাপাশি আরামের বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। এছাড়াও লিনেন, সামু সিল্ক, জর্জেট ইত্যাদি পোশাকও বেশ আরামদায়ক হতে পারে।

কাস্টমমেইড পোশাকের পাশাপাশি ঈদ বাজারে ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকের আমদানিও অন্যান্য বারের মতোই। তাছাড়া আছে ব্লক ও বাটিকের পোশাক।

ঈদকে সামনে রেখে দেশিয় ফ্যাশন ঘর ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের দোকানগুলো তাদের ঈদ আয়োজনের পশরা সাজিয়ে রয়েছে।
ঈদে বাজারে ভিড় কিছুটা বেশিই থাকে, তাই শপিংয়ে গিয়ে যথেষ্ট সাবধান থাকা উচিত।তাছাড়া যারা টেইলারের কাছে জামা বানিয়েনিতে চান তারা যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েইপোশাক বানাতে দিন। নতুবা শেষ মুহূর্তেঝামেলায় পড়তে হতে পারে।