বুধবার,২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / মেহেদি রঙে রাঙানো ঈদ
০৬/১৬/২০১৬

মেহেদি রঙে রাঙানো ঈদ

- ফাবিহা ফারজিন

আমাদের কালচারে মেহেদি কত প্রয়োজনীয়, তা বোঝা যায় ঈদ আর বিয়ের মৌসুমে। আর মেহেদির রং কতটা গাঢ় হলো তা নিয়েও আছে নানা নিয়মকানুন, টিপস। একটা সময় ছিল যখন সবাই গাছ থেকে মেহেদি পাতা সংগ্রহ করে পাটায় বেটে হাতে পছন্দমতো নকশা করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন আর কষ্ট করে মেহেদি পাতা সংগ্রহও করতে হয় না কিংবা পাটায়ও বাটতে হয় না। ঘরের পাশের দোকানেই পাওয়া যায় টিউব মেহেদি এবং নানারকম নকশার বই। এখন বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি পাওয়া যায় যার রং ৫ মিনিটেই অনেক গাঢ় হয়ে যায়। কিন্তু এসব মেহেদিতে থাকে নানারকম কেমিকেল যা আপনার হাতের চামড়া করে দেয় খসখসে এবং আঙুলেও ঝিমঝিম করতে থাকে। তাছাড়া এগুলোর রং যত তাড়াতাড়ি হয় ঠিক তত তাড়াতাড়িই চলে যায়। তাই মেহেদি কিনবেন বুঝেসুঝে, বাজার যাচাই করে।

ঈদের আগে বাজার ঘুরে সবচেয়ে ভালো মেহেদিটা কেনা তো হলো। কিন্তু তার রং গাঢ় হবে তো? এখানে দেয়া হলো তার কিছু টিপস।
চেষ্টা করুন ন্যাচারাল মেহেদি ব্যবহার করতে।

কালো মেহেদি ত্বকের জন্য ভালো নয়, তাই এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
মেহেদির টিউব কেনার সময় সেটার মেয়াদ দেখে কিনুন। পুরনো হলে রং একদম ভালো হবে না।
মেহেদি কোনো ফ্রিজে রেখে দিলে হাতে দেয়ার আগে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। তারপর হাতে লাগান।
হাতের আর পায়ের যে অংশে মেহেদি দেবেন তা ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। সাবান দিয়ে না ধুলে রং বসে না।
মেহেদি দেবার ঠিক আগে আগে ওয়াক্সিং, ম্যানিকিওর, পেডিকিওর করাবেন না। দেখা গেছে, এসবের ঠিক পর পর মেহেদি দিলে রংটা পানশে বাদামি হয়ে যায়।

মেহেদির মধ্যে কচি পেয়ারা পাতা, লেবুর রস, চা ইত্যাদি ব্যবহার করলে রং অনেক গাঢ় হয়। কারণ এগুলো মেহেদির কালারিং প্রপার্টি একটিভেট করে। নিজে বানালে একটু করে মিশিয়ে নিতে পারেন। আর্টিস্টকেও বলতে পারেন যেন এগুলো ব্যবহার করে।
মেহেদি লাগানোর পর যখন মেহেদি একটু একটু করে শুকাতে শুরু করবে তখন একটি পাত্রে সামান্য লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে তুলার বলের সাহায্যে রসটা হাতে লাগান। আলতো করে শুকিয়ে যাওয়া মেহেদির একটু উপর থেকে তুলার বল চিপে ফোঁটা ফোঁটা করে লেবু আর চিনির মিশ্রণটি পুরো হাতে লাগাবেন।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২/৩ ঘণ্টা আগে লাগান, এবং সারা রাত হাতে মেহেদি রেখে দিন। মেহেদি শুকিয়ে গেলেও হাত ধুবেন না। আপনা আপনি কিছু পড়ে যাবে আর বাকিগুলো হাতে রেখেই ঘুমাতে পারেন অথবা হাত ঘষে মেহেদি ফেলে দিতে পারেন। অন্তত ৮ ঘণ্টা পানি থেকে হাত দূরে রাখুন। যত দেরিতে পানি লাগাবেন হাতের রং ততবেশি গাঢ় হবে।

রঙ গাঢ় করার আরেকটি উপায় হলো চুলার কাছে দাঁড়িয়ে মেহেদি শুকানো অথবা হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে মেহেদি শুকানো। শুকিয়ে গেলে মেহেদি ফেলে দিবেন না। লেবু আর চিনির মিশ্রণ দিয়ে যতক্ষণ পারেন রাখবেন।

পুরো হাতে চিকন করে ডিজাইন না করে কিছু কিছু ডিজাইন ভরাট করে দেয়া উচিত। তাহলে মেহেদির রংটা বেশ ফুটে উঠবে।
মেহেদি একটু শুকিয়ে আসা শুরু করলে জিরা ভেজানো পানিও দিতে পারেন। এতেও রং গাঢ় হবে।

ব্যথা কমানোর বিভিন্ন মলম দিলেও বলা হয় যে মেহেদির রং গাঢ় হয়। ধারণা করা হয় যে ব্যথা কমানোর মলম ত্বকের নিচে তাপ তৈরির মাধ্যমে মেহেদির রং গাঢ় করে তোলে।

চুলার উপর একটি শুকনো তাওয়ায় কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিন। মেহেদি তোলার পর দুই হাত গরম তাওয়া থেকে একটু দূরে রেখে হালকা ভাপ লাগান। এতে রং গাঢ় হবে।

মেহেদি পাতা সরাসরি বেটে হাতে দিলে অনেকের হাতে কমলা রং হয়ে থাকে। সেই রং গাঢ় করার জন্য নিচের যে কোনো একটি উপায় অনুসরণ করতে পারেন :
মেহেদিপাতা বাটার আগে মেহেদি পাতাগুলো সারা রাত গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
* চাপাতা জ্বাল দিয়ে সেটার মধ্যে সারা রাত মেহেদিপাতা বা মেহেদিগুঁড়া রেখে দিন। পরের দিন বেটে হাতে লাগালে গাঢ় রং হবে।
* এক চা চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে নিন মেহেদিগুঁড়ার সাথে। এতেও মেহেদির রং গাঢ় হবে।