বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / বিবিধ / ঈদ উৎসব দেশে দেশে
০৬/১৬/২০১৬

ঈদ উৎসব দেশে দেশে

- নাসিফ রাফসান

একমাস যাবৎ সিয়াম সাধনার পর সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মানুসারীরা উদযাপন করবে তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ঈদের দিনটি ধর্মীয় ও জাতীয় সংস্কৃতির মিশেলে উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়। বিশ্বের বেশ কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশে ঈদ উদ্যাপনের চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে লেখার পরবর্তী অংশ।

তুরস্ক
ইউরোপের মুসলিমঅধ্যুষিত দেশ তুরস্কে ঈদ-উল-ফিতরকে বলা হয় ‘সেকার বাইরাম’ যা বাংলা করলে দাঁড়ায় চিনি উৎসব। এই দিনটিকে সামনে রেখে তুর্কি নারীরা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, পুডিং, কেক ও বাকালাভা নামের প্যাস্ট্রি প্রস্তুত করে। ঐতিহ্যগতভাবে এই দিনটিতে ইস্তাম্বুল শহরের ‘বুমস্ক’সহ অন্যান্য মসজিদে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের দিন বিশেষ কায়দায় বয়স্কদের শ্রদ্ধা জানানো তুরস্কের বহু পুরনো একটি প্রথা। এদিনে তুর্কিরা প্রবীণ ব্যক্তির ডান হাতে চুমু খায় এবং সেই হাতটি তাঁর কপালে ছুঁইয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দিনটি উদ্যাপনের জন্য দেশজুড়ে কনসার্ট, নাটক এবং কিছু কিছু স্থানে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

মিশর
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে পার্ক, সিনেমা, থিয়েটার কিংবা সমুদ্রতটে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন অধিকাংশ মিশরীয়। এছাড়া এই দিনটিতে মিশরের বিখ্যাত অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘শারম আল শেখ’-এ উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। ঈদের দিনটিতে মিশরে বিশেষ খাবারের আইটেমে চিনি ও বাদামের ব্যবহার বেশি লক্ষ করা যায়। ঈদের বিশেষ খাবার হিসেবে মিশরে ‘কাহক’ নামের একধরনের বিশেষ কুকি বা পিঠা বেশ জনপ্রিয়। সেই দশম শতাব্দীতে মিশর রাজপ্রাসাদ থেকে আবির্ভাব হয়েছে এই বিশেষ পিঠার, যার ভেতর খেজুরভর্তা, বাদাম বা টার্কিশ ডিলাইটের পুর দেয়া হয়। এমনই আরেকটি মিষ্টিজাতীয় পদের নাম ‘কাতায়েফ’ যা সমগ্র মিশরজুড়ে জনপ্রিয়।

ইরান
অন্যান্য দেশের তুলনায় শিয়াঅধ্যুষিত ইরানে অনেকটা নীরবেই ঈদ উদযাপন করা হয়। ইরানে ঈদের দিন দান করাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এই দিনে প্রায় প্রতিটি মুসলিম পরিবার গরিবদের মধ্যে খাবার ও গরু বা ভেড়ার মাংস বিলিয়ে থাকে। এ ধরনের দানের প্রথা ঈদুল আজহায় বেশি প্রচলিত হলেও ইরানিরা ঈদ-উল-ফিতরেও গরিবদের মধ্যে মাংস বিতরণ করে।

ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ-উল-ফিতরকে ‘লেবারান’ বলা হয়। রমজান মাসের শেষ দিনে সন্ধ্যা হতে না হতেই ঢোল বাজানো, নাচ, গান, নামাজ আর বয়ানের ভেতর দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উৎসব শুরু হয়ে যায়। এই দিনে নারকেল পাতার ভেতর ভাঁপে দেয়া চালের গুঁড়ার পিঠা ‘কেতুপাত’ বানানো হয় যা দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ঈদের দিনে বিগত বছরের
কৃতকর্মের জন্য আত্মীয় বা বন্ধুর কাছে ক্ষমা চাওয়াটা ইন্দোনেশিয়ার ঈদ উদ্যাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অনেক সময় এই ক্ষমার আবেদনসহ ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ানোর পালা শেষ হতে কয়েকদিন লেগে যায়।

কাতার
কাতারে তোপধ্বনি দেয়ার মাধ্যমে ঈদ-উল-ফিতরের আগের সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখার সংবাদ ঘোষণা করা হয়। এই দিনে কাতারের নারীরা নতুন জুতো আর প্রায়শই সোনালি বা রুপালি সুতোয় নকশা করা কাফতান পরে থাকেন। ঈদের দিন প্রথম সকালে বুলালিত (সেদ্ধ ডিমে ঢাকা মিষ্টি নুডলস), মিষ্টি রুটি এবং অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে বিশেষ নাশতা তৈরি করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে আগত মেহমানদের দারুচিনি দেয়া কফি, গোলাপজলের সুবাসযুক্ত চা, বাকলাভা, ফল আর অন্যান্য মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারে ভাত ও ভেড়ার মাংসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। এই দিনে রাজধানী দোহায় বিভিন্ন স্থানে তলোয়ার যুদ্ধ ও ঢোল বাজানোর মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।