শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ঘামমুক্তির ঘরোয়া উপায়
০৬/০১/২০১৬

ঘামমুক্তির ঘরোয়া উপায়

- ইরা

গরমে ঘাম এড়ানো মোটেও সহজ নয়। ঘেমে যাওয়া যদিও একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত ঘাম আপনাকে ফেলতে পারে নিদারুণ অস্বস্তিতে। তাই ঘাম নিয়ন্ত্রণের কিছু ঘরোয়া উপায় জানা থাকলে যেমন ঘর্মাক্ত শরীর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব তেমনি ঘামের দুর্গন্ধের হাত হতেও মিলবে রেহাই।

নারিকেল তেল
পরিমাণমতো নারিকেল তেলের সঙ্গে ১০ গ্রাম কর্পূর মিশিয়ে নিন। গোসলের পর শরীরের যেসব অংশে ঘাম বেশি হয় সেখানে ওই কর্পূরমিশ্রিত তেল মেখে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ঘাম হওয়ার পরিমাণ কমে আসবে।

লবণ
অতিরিক্ত ঘাম রোধে লেবুর রসের সঙ্গে এক টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। ঘাম হয় যে অংশে সেখানে ওই মিশ্রণ মাখুন। নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।

টি ট্রি অয়েল
অতিরিক্ত ঘাম হয় যে অংশে সেখানে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল ছড়িয়ে দিলে তা ঘাম নিয়ন্ত্রণ করবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও টি ট্রি অয়েল উপযোগী।

আলু
পাতলা করে আলু কেটে বাহুমূল এবং শরীরের অন্যান্য যেসব অংশে ঘাম বেশি হয় সেখানে ঘষে নিন। রস শুকিয়ে গেলে তারপর পোশাক পরে নিন।

টমেটোর রস
প্রতিদিন এক গ্লাস টমেটোর রস পান করলে তা ঘামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

আঙুর
প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর আঙুর। এটি শরীরের তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। তাই প্রতিদিন আঙুর খেলে এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ঘামও কম হবে।

ভিনিগার
দুই চা-চামচ সাধারণ ভিনিগার ও এক চা-চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের মিশ্রণ প্রতিদিন তিন বার খালি পেটে খেলে ঘাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কর্নস্টার্চ এবং বেকিং সোডা
যদি বাহুমূল মাত্রাতিরিক্ত ঘামার প্রবণতা থাকে তাহলে কর্ণস্টার্চ ও বেকিং সোডা সমান পরিমাণে মিশিয়ে বাহুমূলে মাখিয়ে রাখতে পারেন। বাহুমূলে মিশ্রণটি মেখে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

ঘাম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। আর ঘাম হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই ঘাম হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তবে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও ভালো নয়, এতে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও খনিজ উপাদান এবং পানি বের হয়ে যায়।

তাই যাদের ঘাম হওয়ার প্রবণতা বেশি তাদের প্রচুর পানি পান করা উচিত। এছাড়া ঘামের সাথে বের হয়ে যাওয়া লবণ ও খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণের জন্য স্যালাইন ও গ্লুকোজ মিশানো পানি পান করা উচিত। নতুবা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

গরমের সময় দিনে অন্তত দু’বার গোসল করা উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে।

তাছাড়া ঘাম যেন শরীরে না শুকায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে, নতুবা ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
গরমে পোশাক নির্বাচনের দিকেও বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক এই মৌসুমে সব থেকে আরামদায়ক। কারণ সুতি কাপড়ে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম শুষে নিতে পারে। তাই সিনথেটিক কাপড় বাদ দিয়ে সুতি পোশাক বেছে নিতে হবে।