শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / হবু শ্বশুরবাড়ি ও প্রথম সাক্ষাৎ
০৬/০১/২০১৬

হবু শ্বশুরবাড়ি ও প্রথম সাক্ষাৎ

- ইরা

প্রেমের বিয়ে হোক বা অ্যারেঞ্জড, দু’ক্ষেত্রেই জীবনসঙ্গীর সঙ্গে পরিচয়পর্বের পর মূল কাজটি হলো হবু শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। আর এই সাক্ষাৎটি বরাবরই সেনসিটিভ একটি ব্যাপার। গুরুত্বপূর্ণও বটে। তাই নতুন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।

বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে ‘আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী’। অর্থাৎ মানুষটিকে পছন্দ হবে কিনা তার অনেকটাই নির্ভর করে প্রথম দেখা কেমন হবে তার উপর। তাই হবু স্বামী বা স্ত্রী-এর মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় অবশ্যই নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে।

নতুন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সাধারণ সাক্ষাতে যাচ্ছেন না, যাচ্ছেন তার পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হবে। সেক্ষেত্রে ছেলেদের উচিত যতটা সম্ভব ফরমাল ধাঁচের পোশাক বেছে নেওয়া। উশকোখুশকো চুলগুলোকে গুছিয়ে নিন। প্রয়োজনে শেভ করে নিতে ভুলবেন না। কারণ মেয়ের মা-বাবা কখনওই বেখায়ালি বা উড়নচন্ডি কোনো ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেবেন না। তাই নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভদ্রতা যেন প্রকাশ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও কিছুটা সংবেদনশীল। হবু বরের মা-বাবা কি ধরনের পোশাক পছন্দ করেন সে সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন, সম্ভব হলে সেভাবেই নিজেকে গুছিয়ে নিন। তবে এক্ষেত্রে নিজের বিশেষত্বও ধরে রাখতে হবে। শুধু অন্যকে খুশি করার জন্য, আপনি নিজে যা নন তা সাজবেন না।

পোশাকের দিক থেকে ফর্মাল পোশাক বেছে নিন। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়েদের কাছে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক শাড়ি। আপনি যদি শাড়িতে কমফোর্টেবল হন, তবে আর দ্বিতীয় চিন্তা না করে পছন্দের শাড়িতে নিজেকে উপস্থাপন করুন।

শুধু পোশাকের ধরন নিয়ে ভাবলেই হবে না, পোশাকের রংও মানুষের মনে ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই পোশাকের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে।

চাকরির ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত বলা হয় নীল রংয়ের পোশাক বেশি গ্রহণযোগ্য। কারণ এই রংটি আত্মবিশ্বাস, কর্মপরায়ণতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলে। পাশাপাশি সবুজ রংটিও বেশ মানানসই। এই রংটির সঙ্গে স্নিগ্ধ একটি ভাব রয়েছে।
তাছাড়া সাদা, হালকা গোলাপি ইত্যাদি হালকা ঘরানার রংগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে পোশাকের ক্ষেত্রে। সর্বোপরি নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে হবে।

প্রথম সাক্ষাতে বেশি কথা বলা উচিত হবে না। অতিরিক্ত কথা বলা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়, তার উপর বাচাল ধরনের ছেলের বউ অথবা জামাই কোনো মা-বাবারই পছন্দ হওয়ার কথা নয়। তাই কথা বলতে হবে পরিমিত মাত্রায়।

এই সবই বেশ বাধাধরা নিয়মের মধ্যে পড়ে বলা চলে। কিন্তু যত যাই হোক, যে-পরিবারের সঙ্গে জীবনের বড় একটি অংশ কাটাতে হবে, তাদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে আলাপ করা উচিত। মেকি কোনো কিছু দিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা তেমন মধুর হতে পারে না। তাই নিজের বিশেষত্বকে তুলে ধরুন তাদের সামনে। যেহেতু বয়সে বড় এবং মুরব্বি শ্রেণীয়দের সঙ্গে কথা বলবেন, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মান নিয়েই কথা বলা উচিত।

শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ চাকরির ইন্টারভিউয়ের তুলনায় কম কিছু নয়। তাই ভয় পাওয়া ও বিচলিত হয়ে পড়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এ সব কিছুর মাঝেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সবার সামনে চেষ্টা করুন নিজেকে উপস্থাপন করতে হাসি মুখে, আত্মবিশ্বাসের সাথে।